শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১
#নাম- মাতৃভাষা ও বিতর্ক। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
# নাম- সুদেষ্ণা ।✍ - শুভব্রত ভট্টাচার্য।
বিষয় : *বিতর্ক সভা* ( মাতৃভাষা বাংলা বললে যদি রাগ হয়,হোক না মাতৃভাষা ইংরেজি) *©*শর্মিষ্ঠা ভট্ট*
বিষয় : *বিতর্ক সভা*
( মাতৃভাষা বাংলা বললে যদি রাগ হয়,হোক না মাতৃভাষা ইংরেজি)
*©*শর্মিষ্ঠা ভট্ট*
মনে রাখতে হবে শিশুর সর্বোপরি বিকাশ ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সব চেয়ে বেশি। সেই মুকুলিত অবস্থায় মাতৃভাষার সাথে যদি দ্বিতীয় ভাষাকে চালু করে দেওয়া যায়। এবং তার রেশ রেখে প্রাথমিকেও ইংরেজি চালু থাকে তাহলে প্যারালাল দুই ভাষা নিতে কখনও শিশুর অসুবিধা হয় না (অভিজ্ঞতা থেকে) ।
এখন প্রশ্ন বাঙলায় পড়াই কি যুক্তিযুক্ত? পশ্চিমবঙ্গই আমাদের দেশ নয়। এই কথাটি শিশু বা শিক্ষার্থীদের নয়, অভিভাবক ও শিক্ষানীতির সাথে জড়িত সকল মানুষের জানা ও বোঝা জরুরী। শিক্ষাব্যবস্থা কন্ট্রোলারদের এটি মনে রাখতে হবে রাজ্য নয়, দেশের উপযোগী করতে হবে ভবিষ্যৎ নাগরিকদের। ভারতীয় বিভিন্নতা ও কলোনীয়াল সংস্কৃতি অভ্যাস বশত ইংরেজি পুরো ভারতের এক কমন ভাষা। তাছাড়া বিজ্ঞানে এখনও অনেক শব্দ ইংরেজি অভিমুখীতা বহন করে। উচ্চশিক্ষার সহজ পথ ধাপে ধাপে দ্বিতীয় ভাষাকে আগে থেকেই গ্ৰহণ করে রাখলে প্রতিযোগীতামূলক বিত্ত ও শিক্ষাবর্ষের লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকতে হবে না। বিশ্বায়নের যুগে কুঠরিতে বসে নিজ ভাষার তারিফের মুগ্ধতা নিয়ে বসে থাকলে কুয়োর ব্যাঙ হয়ে থাকতেই হবে। তাই বাইরের দুনিয়ার বিকশিত হতে এই দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষা চালিয়ে যেতে হবে। এত গেল বাঙলার আপামর বাঙলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের কথা। হয়ত এটা রাজনৈতিক সিংহাসন বুঝে নিয়েছে, শিক্ষা কম জোর জনগণেরা হিসেব চাইতে আসবে না।
অন্যদিকে একটা ক্লাসিফিকেশন। একটা ইংরেজি মিডিয়ামের অর্থনৈতিক রাজনীতির বিশাল বাজার। দুনিয়া দেশ সব দিকে ভাষাগত উপযুক্ত একটা গষ্ঠি তৈরী হয়েছে। হয়ত সুদূর ভবিষ্যতে একটা নতুন ক্লাস তৈরী হচ্ছে। এখানে কত চেষ্টা চরিত্র করে বাচ্চাদের ঢোকানো হচ্ছে। কারণ অভিভাবক জেনে গেছে মাতৃভাষা নামক আঁচলটি ধরে এই বিশাল কর্মজীবনের বৈতরণী পার হতে পারা যাবে না। ভার্সাটাইল যুগে যা একান্ত দরকার। ঠিক পথ নিয়েছে অভিভাবক, ক্ষমতা যাদের আছে।
"তাই ইংরেজি মাতৃভাষা " এই খোঁচা হয়ত যারা দেন, তাদের ঘরের ছেলে মেয়েরাই ইংরেজি মিডিয়ামের। কারন বাস্তব একদিকে। সত্য মেনে নেওয়া আধুনিক ও উন্নয়নের পথে চলা। মা দিয়ে কি কেবল সমাজ চলে? মাসি পিসি কাকি কত "মা"ই তো জীবনের রসায়নে প্রান আনে। স্বাদ আনে পথ চলার। মা না হোক ইংরেজি অবশ্যই মাসি হবার যোগ্য। কারন মনে রাখতে হবে আমাদের দেশের ভাষার ভিন্নতা। আর কথা বলা যোগাযোগের মাধ্যমে একক হলে। মানসিক বিকাশ ও ঐক্য সম্ভব।
অনেক বড়ো হয়ে গেলো। বিষয়টি এমন রসালো। আলোচনার আবেদন রাখে। ধন্যবাদ দাদারা সুন্দর বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারলাম 🙏
শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১
তৃষ্ণা (কলমে শুভ্রজিৎ চক্রবর্তী)
সৌরেন নিজের লাম্বর্গিনি তে বসে ড্রাইভারকে অফিসের উদ্যেশ্যে গাড়ি চালাতে বললো। লেটেস্ট মডেলের আইফোন থেকে নিজের এইচ আর ম্যানেজারকে ফোন করলো। নতুন দশ জন আই আই টি পাস আউট এবং পি এইচ ডি হোল্ডার কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কে নিযুক্ত করতে হবে। ও এখন ভারতের সর্ববৃহৎ ঠাণ্ডা পানীয় "তৃষ্ণা" র মালিক। ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি গিয়ে দাঁড়ালো একটা ট্রাফিক সিগনালে। মুম্বাই শহরের গরমে, একটা ৮-৯ বছরের বাচ্চা ছেলে ৫ টাকার ঠাণ্ডা জলের প্যাকেট বিক্রি করছে। সৌরেনের নজর সেদিকে যেতেই ওর চোখের সামনে ভেসে উঠলো ওর বাল্যকাল। আজ ও হাজার মাইল অতিক্রম করে পেছনে ফেলে চলে এসেছে সেই দিনগুলো। কিন্তু সেদিনকার সেই প্রথম পদক্ষেপ ওর মনে আজও তাজা হয়ে আছে।
অনেকদিন ধরে বাবা অসুস্থ থাকায় কাজে বেরোতে পারেননি। সদ্য জন্মানো ছোটো বোনকে নিয়ে অসুস্থ দুর্বল মাও বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছেন না। ঘরে খাবারের কোনো জোগাড় ছিলো না। সেদিন সৌরেন ফেলেছিলো ওর প্রথম পদক্ষেপ, হাজার মাইল অতিক্রম করার উদ্যেশ্যে।
চায়ের দোকান থেকে ঠাণ্ডা জলের বোতল কিনে বাস স্টপে দাড়ানো বাসে বসে থাকা যাত্রীদের কাছে বিক্রি করার উদ্যেশ্যে।
সেই শুরু, সেখান থেকে আস্তে আস্তে নিজের তৈরি লেবু জল, আম পোড়া সরবত, আমের রস। এভাবে চলতে চলতে অনেক মাইল এগিয়ে বতোলিকৃত নিজের ঠাণ্ডা পানীয় বাজারে আনলো। নাম রাখলো তৃষ্ণা। আজ ও নিজের কোম্পানিতে পি এইচ ডি হোল্ডার নিযুক্ত করতে চলেছে।
রাস্তার সেই ছেলেটাকে দেখছে আর মনে করছে ওর নিজের সেই ছোটো প্রথম পদক্ষেপ, হাজার মাইল অতিক্রম করার উদ্যেশ্যে।
ধন্যবাদ, সবাই ভালো থাকবেন।
©All rights are reserved for Subhrajit Chakravorty
পালঙ্ক (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
নতুন ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাটটা সাজাতে অভয় ঠিক করেছে অ্যান্টিক আসবাবপত্রের ব্যবহার করবে বলে । প্ল্যানমতো ও কলকাতার বিভিন্ন অকশান হাউজগুলোর সাথে যোগাযোগ করে, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে পেয়ে গেল একটা দুর্দান্ত মেহগনি কাঠের বিশালাকায় অ্যান্টিক পালঙ্ক । পালঙ্কটা ঠিক অভয়ের মনের মতো । বিশাল ষোলো বাই ষোলো বেডরুমের ঠিক মধ্যিখানে পালঙ্কটা রেখেছে ও । ঘরটায় ও একটা সেগুন কাঠের আয়নাবসানো আলমারী ও একটা হরিণের সিংয়ের ওপরে শালকাঠের তৈরী বেডসাইড টেবিল দিয়ে সাজিয়েছে মনের মতো করে ।
অভয়ের কুড়ি বছরের বিবাহিত জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অভাব ছিলনা । স্ত্রী শ্রীপর্ণা আর ষোলো বছরের পুত্র প্রয়াগকে নিয়ে দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল বেশ । কঠোর পরিশ্রমে ধীরে ধীরে হাতে কিছু টাকা জমিয়ে, ভাড়া বাড়ি ছেড়ে এই নতুন ফ্ল্যাট কিনে, শহরের উপকণ্ঠে বেশ মনোরম নিরিবিলি জায়গায় একটা ঝাঁ চকচকে কমপ্লেক্সের মধ্যে ওরা শিফ্ট করে আসে ।
প্রথম প্রথম দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল বেশ । গোল বাঁধলো অ্যান্টিক আসবাবে ঘর সাজানোর পর থেকে । সেদিন রাতে অভয়, শ্রীপর্ণা আর প্রয়াগ পালঙ্কে শুয়ে গভীর ঘুমে অচেতন । প্রয়াগ মা আর বাবার মধ্যিখানে শুয়েছে । ঘড়িতে তখন ঠিক রাত দুটো বেজে ঊনিশ মিনিট । ছটফট করে প্রয়াগের ঘুম ভেঙে গেল । যেন ওর মুখের ওপর কিছু একটা ভারী জিনিস চেপে বসেছে । দরদর করে ঘামছে ও । বিছানায় উঠে বসলো বুকে হাত চেপে ধরে । জল খেতে হবে একটু, বাথরুম যেতে হবে । বাবাকে ডিঙিয়ে ও নামলো নীচে । বেডসাইড টেবিল থেকে নিজের জলের বোতলটা তুলে মুখ লাগিয়ে ঢকঢক করে খেলো কিছুটা জল । তারপরে বোতলটা নামিয়ে রেখে পেছন ঘুরতেই ওর চোখ পড়ল সামনে রাখা সেগুন কাঠের আলমারীর আয়নাটার ওপরে । ও দেখলো ওর বাবা আর মায়ের মাঝে বসে আছে একটা ওরই বয়সী ছেলে । চোখটা একবার রগড়ে নিলো ও । হয়তো ভুল দেখছে সেই ভেবে । না, চোখের ভুল নয়, ছেলেটা তো এখনো বসে আছে ওর বাবা আর মায়ের মাঝে । এবারে ছেলেটা ওর দিকে চোখ তুলে তাকালো । ছেলেটার চোখে মণি নেই । কালো গর্ত হয়ে আছে সেই জায়গায় । দাঁত বের করে ওর দিকে চেয়ে হাসছে ছেলেটা । প্রয়াগ ভয়ে চিৎকার করে উঠলো প্রাণপণে ।
চিৎকারে ওর মা-বাবার ঘুম ভেঙে দেখে প্রয়াগ অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে মাটিতে । মাঝরাতে শোরগোল পড়ে গেল । সিকিউরিটির কাছে ফোন করে সেই কমপ্লেক্সের এক ডাক্তারের সন্ধান পেলো অভয় । ডাক্তারকে ফোন করতে উনি এসে প্রয়াগকে ভালো করে চেক করে বললেন, "মনে হয় মাঝরাতে কোনো কিছুতে ভয় পেয়েছে । হার্টরেট খুব ফাস্ট চলছে ।"
সামান্য প্রাথমিক চিকিৎসার পরে প্রয়াগ চোখ মেলে তাকালো । ডাক্তারের নির্দেশমতো ওকে কেউ তখন কিছু জিজ্ঞাসা করলো না । ডাক্তার ওকে হালকা ডোজের ঘুমের ওষুধ দিয়ে চলে গেলেন ।
পরেরদিন অনেক বেলা করে ঘুম ভাঙল প্রয়াগের । খুব দুর্বল লাগছে । মাথাটা ভার হয়ে আছে আর ঘাড়ের দিকে প্রচন্ড চাপ ধরে আছে ওর । শরীরটা খুব ভার লাগছে । উঠে বাথরুম গিয়ে চোখে মুখে জল দিয়ে ফ্রেশ হলো ও । ওর বাবা ততক্ষণে অফিস চলে গেছে । ঘরে ওর মা আর ও । ছেলে ঘুম থেকে উঠেছে দেখে ওর মা এসে জিজ্ঞাসা করলেন, "কাল মাঝরাতে অমন চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেছিলিস কেন রে বাবু? কি হয়েছিল?"
প্রয়াগ অনেক চেষ্টা করেও কিছুতেই মনে করতে পারছেনা যে কাল রাতে কি হয়েছিল! শুধু নিজের তারস্বরে চিৎকারটাই ওর কানে ভাসছে ।
মনে করতে পারছেনা দেখে ওর মা খানিক নিশ্চিন্ত হলেন । কি না কি ব্যাপারে ভয় পেয়েছিল, ওসব মনে না পড়াই ভালো । ছেলেকে ব্রেকফাস্টে টোস্ট, অমলেট আর একগ্লাস দুধ দিয়ে রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন শ্রীপর্ণা ।
প্রয়াগের কিচ্ছু খেতে ভালো লাগছে না । শরীরটা এত ভারী কেন লাগছে! ঘাড়ে মাথায় এতো চাপ কেন ধরছে! ওহঃ, অসহ্য যন্ত্রণা । খাবার ফেলে রেখে ও উঠে আবার গিয়ে শুয়ে পড়লো পালঙ্কে । এই জায়গাতেই যেন পরম শান্তি । কি আরাম! আরামে আবার দুচোখ বুজে এলো প্রয়াগের ।
ছেলে ব্রেকফাস্ট করেনি । অনেক ডেকে ডেকে লাঞ্চের জন্যেও উঠলো না । সন্ধ্যেবেলা ঘুম থেকে একবার উঠে মা বলে ডাকলো । শ্রীপর্ণা ছেলের মাথার কাছেই বসেছিল । ততক্ষণে অভয়ও বাড়ি এসে গেছে । বড় ডাক্তারকে কল করা হয়েছে প্রয়াগকে দেখানোর জন্য । ডাক্তার এসে অনেক রকমের পরীক্ষা দিয়ে, ওষুধ আর ভিটামিন লিখে দিয়ে চলে গেলেন ।
সেদিন মাঝরাত । ঘড়িতে ঠিক দুটো বেজে ঊনিশ মিনিট । বাথরুম যাবার জন্য অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে গেল প্রয়াগের । ঘুম থেকে উঠে প্রয়াগ যেন আর দাঁড়াতেই পারছে না । কাঁধে, ঘাড়ে, মাথায় অসহ্য চাপধরা যন্ত্রণা ওর । কোনোমতে শরীরটা টেনে টেনে নিয়ে গেল বাথরুমে । প্রস্রাবের পরে মুখে জল দেবার জন্য বেসিনের সামনে দাঁড়ালো ও । বেসিনের সামনে লাগানো বড় আয়না । তাতে নিজেকে দেখে ভয়ে আত্মা যেন শুকিয়ে এলো ওর । ওর দুটো কাঁধের থেকে ঝুলে আছে সাদা শুকনো দুটো পা । আর ওর মাথার পেছন থেকে উঁকি দিচ্ছে সেই চোখবিহীন ছেলেটার মুখ, যাকে দেখে প্রয়াগ ভয় পেয়েছিল গত রাতে । বিশ্রীভাবে ওর কাঁধের ওপর দিয়ে ওর ঘাড়ে চেপে আছে সেই ছেলে । হাসছে দাঁত বের করে ওর দিকে তাকিয়ে । একেই দুর্বল শরীর, তার ওপরে আয়নায় এই দৃশ্য দেখে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে আবার জ্ঞান হারালো প্রয়াগ ।
হুড়মুড় শব্দে ঘুম ভেঙে অভয় আর শ্রীপর্ণা দেখে ছেলে পাশে নেই । তাড়াতাড়ি বাথরুমের সামনে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিতে দিতেও খুলছেনা প্রয়াগ । সিকিউরিটি ডেকে দরজা ভেঙে বের করা হল ওর অচৈতন্য দেহটা । অ্যামবুলেন্সে করে সেই রাতেই হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হল ওকে । হসপিটালে সেই রাতেই এমার্জেন্সিতে সমস্ত ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষার পরেও ডাক্তার বুঝে উঠতে পারলোনা কেন এমন হচ্ছে ওর । সব রিপোর্টই নর্মাল ।
শ্রীপর্ণার মনে সন্দেহ দেখা দিলো । ও অভয়কে বললো, সবই তো ঠিক চলছিল । যেদিন থেকে পুরোনো জিনিসে ঘর সাজালে সেদিন থেকেই ছেলের এমন হলো । কার না কার চোখের জলের জিনিস হয়তো । হয়তো কত বিপদে পড়ে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে । তুমি খোঁজ নিয়ে দেখো কোথা থেকে এই জিনিসগুলো এসেছে ।
যদিও অভয় এসব কুসংস্কারে বিশ্বাস করেনা, তবুও সন্তানের ব্যাপারে পৃথিবীর সব বাবা-মা'ই দুর্বল । অভয় ঠিক করলো আজকেই খোঁজ লাগাবে আসবাবপত্রগুলোর সোর্স কি!
অনেক ফোন করে করে, অনেক চেষ্টা চরিত্রের পরে যে ভয়ানক সত্যের সন্ধান পেলো অভয়, তাতে ওর অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো । ও জানতে পারলো, যে পালঙ্কটা ও কিনেছে, সেটা বহু বছর পুরোনো এক জমিদার রায়বাহাদুর অমরীন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সম্পত্তি । তাঁর মৃত্যুর পরে, সম্পত্তির লোভে তাঁর উত্তরাধিকারী একমাত্র পুত্র জগদীন্দ্রনাথকে হত্যা করে জমিদারের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী, অর্থাৎ, ছেলেটির সৎ মা । মাঝরাতে, বাড়ির চাকরের সাহায্যে ওই পালঙ্কের ওপরে ঘুমন্ত ষোলো বছরের জগদীন্দ্রনাথকে মুখের ওপর বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় । অনেক ধস্তাধস্তির পরে, নিরীহ ছেলেটার যখন প্রাণবায়ু বেরিয়ে যায়, ঘড়িতে ঠিক তখন রাত দুটো বেজে ঊনিশ মিনিট ।
সমস্ত কিছু জানতে পেরে অভয় আর শ্রীপর্ণা বুঝতে পারলো যে, খুন হবার পরে ওই পালঙ্কের মধ্যেই রয়ে গেছে সেই ছেলের অতৃপ্ত আত্মা । সেই আত্মার মুক্তিই একমাত্র পথ প্রয়াগকে সুস্থ করে তোলার ।
কালবিলম্ব না করে অভয় সেই রাতেই ট্রেনে করে চলে গেল গয়ায় পিণ্ডদানের উদ্দেশ্যে । একবার প্রেতশিলায় পিণ্ডদানের পরে আত্মার মুক্তিলাভ অবশ্যম্ভাবী । ভোররাতে পূজারী ব্রাহ্মণকে সাথে নিয়ে প্রেতশিলায় পিণ্ডদানের সময় অভয় যেন টের পেলো কোনো দুটো অস্থির হাত এসে ওর হাত থেকে পিন্ড ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেল । অভয় বুঝতে পারলো যে জগদীন্দ্রনাথের আত্মার এখন মুক্তিলাভ ঘটলো । নিরীহ ছেলেটির দুঃখে চোখ জলে ভিজে এল আরেক পিতার ।
আশ্চর্যজনকভাবে ঠিক তার পরেই সুস্থ হয়ে চোখ মেলে তাকালো প্রয়াগ । কাঁধে, ঘাড়ে আর কোনো চাপ নেই । অভয় গয়া থেকে ফিরে ছেলেকে সুস্থ দেখে আনন্দে আত্মহারা । পরেরদিন সকালেই প্রয়াগকে হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করে দিলো ডাক্তার ।
পালঙ্কটা থেকে চিরকালের জন্য বিদায় নিয়েছে বিদেহী আত্মা । অভয়ের ফ্ল্যাটে সেটা এখনো শোভা বাড়ায় ওদের বিশাল বেডরুমের ঠিক মধ্যিখানে ।
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
হাজার মাইল যাত্রা শুর হয় একটি মাত্র পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে। ( কলমে--- পারমিতা মন্ডল।)
#নাম- পথের সাধক। ✍ - শুভব্রত ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১
একটা সিদ্ধান্ত (চন্দনা লাহা নাগ)
*একটা সিদ্ধান্ত*:
অনিমেষ জীবনে বহু বছর অবিবাহিত থাকার পর আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব দের হাজার কথায় এবার বিয়েটা করেই ফেলল। বিশেষ করে শেষ বয়সের বিধবা মায়ের কথা রাখার জন্য। নিজে দেখতে একজন সুপুরুষ হওয়া সত্ত্বেও জীবনে একটাই ভয় ছিল নিজের পায়ে ঠিকঠাক মতো দাঁড়াতে পারেনি তাই সংসার কে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা বোধহয় তার নেই। সামান্য একটা পানের দোকান থেকে যা ইনকাম হয় তাতে কোন মেয়েকে সচ্ছল রাখা বোধহয় তার পক্ষে সম্ভব নয়। এরকম হাজার ভাবনার ভিড় তাকে গ্রাস করে বসতো । তাই বলে কি মানুষ সংসার পাতে না? হাজার দরিদ্রতার মধ্যেও তো মানুষ সুখ খুঁজে বেড়ায়। তবে ওর দোষ কোথায় সংসার বাঁধতে? আর ও যা ইনকাম করে মোটামুটিভাবে একটা সংসার চলে যেতেই পারে। মেঘে মেঘে বেলা বেশ ভালই ঘনিয়ে এসেছিল অর্থাৎ দেখতে দেখতে অনিমেষের বয়স প্রায় 38 বছরে যখন ঠেকেছে তখন এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়। অনিমেষের বয়স অত খানি হলেও চেহারার জন্য বয়স বোঝা দায়। মেয়েটিও অবশ্য জানতে পেরেছিল বিয়ের পর যে তাদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান প্রায় কুড়ি বছর। স্ত্রীর ওই কম বয়সী মনের আবেগ গুলোকে ভালোলাগাকে আর শখ পূরণ করতে গিয়ে অনিমেশ আজ সর্বস্বান্ত হতে বসেছে। মাঝে মাঝে স্ত্রীর দামি গয়নাদামি দামি আসবাব পত্রের অভাব মেটাতে না পেরে নিজে এক প্রকার হীনমন্যতায় ভোগে। এরইমধ্যে দুইটি সন্তান ও জন্মগ্রহণ করেছে। তাদের ওষুধপাতি চিকিৎসা, পড়াশুনো, ভালো মন্দ খাওয়ানো, শ্বশুরবাড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে চলা এই সবকিছু করতে করতে অনিমেষ যেন আজ ক্লান্ত। এই নিয়ে ঘরের মধ্যে নিত্য অশান্তি আজ তাকে পেয়ে বসেছে। তাই কারনে অকারনে দাম্পত্য টা যেন একেবারে বিষময় হয়ে উঠছে। ওদিকে স্ত্রীরও
যেন কেমন আনরোমান্টিক মনে হয় তার স্বামীকে। মনে হয় এটা যেন তার জীবনের একটা ভুল সিদ্ধান্ত। স্ত্রী দাম্পত্য সম্পর্কে সুখি নয় বলে নিজেকে অনেক বেশি সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছে। নিজেকে একপ্রকার সহজলভ্য পণ্য মনে করেছে।উঠতি বয়সে কত ছেলেদের কাছ থেকে লাইক কমেন্ট এ আজ তার জীবন যেন এক রঙ্গিন মোড়কে মোড়া। এরই মধ্যে কয়েকজন হোয়াটসঅ্যাপে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সংসার তার কাছে বিতৃষ্ণা। অনিমেষের মায়ের দীর্ঘদিনের চিকিৎসার ঔষধ জোগাড় করতে করতে আজ সে দিশেহারা।
অনিমেষের মনে হল একমাত্র নেশায় তাকে পারে সব দুঃখ থেকে মুক্তি দিতে যা কিনা তার কখনো ভাবনার মধ্যেই ছিল না। তাই একটু একটু করতে করতে আজ সে প্রায় মাতালের পর্যায়। ফেসবুকে সেও অনেকটা সময় কাটায়। বিষাদ ময় জীবনের যত উক্তি ফুটিয়ে তুলে ফেসবুকে রঙিন পাতাগুলোতে। এমন এই উক্তির মোহে পড়ে আসক্ত হয় তনুশ্রী নামের এক বিবাহিত নারী। তনুশ্রী ও যেন নিজের না পাওয়া জিনিসগুলো অনিমেষের লেখার মধ্যে খুঁজে পায়। তাই প্রতিটা পোস্ট লাইক কমেন্ট থেকে কখনো বিরত হয়না। এভাবে কখন যে সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে গেল অনিমেষ তা সে নিজেও বুঝতে পারেনি। অথচ এই অনিমেষকে ই যৌবন বয়সে যখন কোন মেয়ে কাছে পেতে চাই তো তখন নিজেকে গুটিয়ে নিত।
অনিমেষএর মা নিজেকে আজ যেন কিছুতেই ক্ষমা করতে পারছেন না। কেবলই মনে হচ্ছে খোকার জীবনে ওই একটা সিদ্ধান্ত যদি আমি নিতে বাধ্য না করতাম তাহলে বোধহয় এমনটা হতো না। আমার ওই জীবনের একটা সিদ্ধান্ত ই যে আজ তাকে হাজার মাইল পথ হাঁটতে শিখিয়ে দেবে তা আমি বুঝতে পারিনি। মানুষের জীবনের এই হাজার পথ চলার মধ্যে সুখ-দুঃখ সবকিছুই মিলেমিশে থাকে তবুও জীবনের একটা অন্য মানে খোঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু আমার অনিমেষ যে একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন আমি কি করি? হে ঈশ্বর আমি তো এমনটা চাইনি। আমি কেন পৃথিবীর কোন মায়েই তো এমনটা চায় না। তুমি আমার অনিমেষের চলার পথ মসৃণ করে দাও আবার সবকিছু ঠিকঠাক করে দাও প্রভু। মা হয়ে ছেলের সংসার এই ভাবে ভেসে যেতে যে দেখতে পারিনা বড় কষ্ট হয়।
বাক্য আলোচনা।। (বাস্তব ঘটনা অনুধাবনের পরেই আমাদের শারীরিক কিছু পরিবর্তন হয়। তাই আমাদের *ব্যক্তিগত অনুভব*) ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
বাক্য আলোচনা।।
(বাস্তব ঘটনা অনুধাবনের পরেই আমাদের শারীরিক কিছু পরিবর্তন হয়।
তাই আমাদের *ব্যক্তিগত অনুভব*)
©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
রমলাদিকে জামাইবাবু তুলোয় মুড়ে রাখতেন। আমরা বলতাম। রমলাদি ব্যাঙ্ক কি জানে না। কার্ড আছে, কয়েকটি নম্বর মুখস্থ করিয়ে দিয়েছে, শপিং করে। সিনেমা মল যায়। তাও জামাইবাবু ছাড়া খুব একটা নয়। কিন্তু রমলাদি মডেল হাঁদাভোঁদা নন। আমাদের যত জ্ঞান তার কাছে থেকে নেওয়া। মস্ত মলা তিনি। জগৎকে চিনেছে ছায়ায় বসে। ছেলেরা বড়ো হয়ে বিদেশে। কম বয়সে বিয়ে সহজে সব নিপটে গেছে। এখন ঝাড়া হাত পা কেবল পার্টি থ্রো করেন আর ডাকাডাকি করেন। আমোদ উল্লাসে কাটে দিন। আমরা বলি রমলাদি ছেলেরা এমন কিছু বড়ো নয়। সবে পড়ছে। একটু বুঝে চলো। মুখ গোমড়া করে বলবে কেন রে বেশ তো আছি।
দুনিয়া কি অনুভূতি হল সেদিন, যেদিন হঠাৎ নোটিশ না দিয়ে জামাইবাবু চলে গেলেন। এত বড়ো সম্পত্তির কোথায় কি কিছু জানে না রমলাদি। ছেলেরাও নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। এক তো ছাতা উড়ে যাবার খালিপন, অন্যদিকে আর্থিক চিন্তা। রমলা ছয় মাসে যেন বেশ কিছু বুড়ি হয়ে গেল। অনেক বেশি প্রিজার্ভ। মানুষের সাথে মেপে মেলামেশা লিখে গেছেন ব্যক্তিগত অনুভব থেকে। সহজ বিশ্বাসের পথে একটা ছোট চেক পোস্ট বসিয়েছেন। ছেলেদের বিষয়ে সতর্ক ও অনেক কড়া।
প্রথম মাস চুপ হয়ে গিয়েছিল কমলাদি । কারো সাথে কথা বললেই হাউমাউ করে কাঁদত। এমন করে তো চলে না! রাত রাত জেগে অনুভব করেছেন। দায়িত্ব দিয়ে গেছেন জামাইবাবু। তাঁর কাজগুলো যে শেষ করতে হবে। খাতাপত্র বাড়ীতে এনে দেখতে শুরু করলেন পাশে চেনা চেটার এ্যাকাউন্টারকে বসিয়ে। বিশাল অর্থনৈতিক ঘাবলা । ডুবে যেত আর কয়েক ধাপ পরে। মহিলা পার্টির মুখ্য ভূমিকায় থাকত যে মহিলা, তার স্বামী এই ঘাবলাবাজির কারন। রমলাদি ছয় মাস পরে বাইরে বের হলেন। আমরা দেখলাম ব্যক্তিগত অনুভব তাকে শক্তপোক্ত সাহসী করে তুলেছে। সাথে নিয়ে গেছে লাতুপুতু চেহারা বোকা মিষ্টি হাসিটা।
🙏💐
# নাম- বাস্তব ও আবেগ। ✍ - মৌসুমী চন্দ্র।
# নাম- জীবন যেরকম। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
সংস্কার ও কুসংস্কার। (কলমে -- পারমিতা মন্ডল।)
সংস্কার কুসংস্কার ।
কলমে--- পারমিতা মন্ডল।
1) বিজ্ঞানের শিক্ষিকা দেবারতি দি বাড়ি থেকে অনেক দূরে একটি স্কুলে চাকরি করেন। আজ স্কুলে পরীক্ষা শুরু হবে। ওনাকে তাড়াতাড়ি যেতেই হবে। তাই নাকে মুখে দুটো গুঁজে দৌড় লাগালেন। ট্রেনটা ধরতেই হবে। কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে একি বিপদ ? সামনে এসে বসলো এক শালিক । এক শালিক দেখলে যে যাত্রা ভালো না । বিজ্ঞানের শিক্ষিকা যিনি সব সময় ছেলে মেয়েদের খেশান কুসংস্কার কি, কিভাবে মানুষের জন্ম হয় শুক্রানু- ডিম্বানুর মিশ্রণে, কিভাবে সূর্য ওঠে ও অস্ত যায় ।এই সব কিছুর পিছনে বিজ্ঞান আছে। । আজ তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে দুই শালিক খুঁজে চলছেন। এখন তিনি কোথায় পান আর এক শালিক ? এদিকে ট্রেনটা যে ছেড়ে গেল । না হয় একটা কলা গাছ পেলেও হতো। কলা গাছকে নমস্কার করলে দোষ কেটে যায়। উনি এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে কলাগাছ খুঁজে চলেছেন দুই হাতে তাবিজ-কবজ ও নীলা-চুনী পরিহিত বিজ্ঞানের দিদিমনি। এদিকে ট্রেনটা ছেড়ে গেল।
2) ওদিকে রায়বাবু একটি ব্যবস্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজে আজ সিংগাপুর যাবেন। দশটার সময় ফ্লাইট। ঠিক সময় মতো বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন । কিন্তু বিপদ হলো রাস্তায় এসে। হঠাৎ করে গাড়িতে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়লো ড্রাইভার। সামনে দিয়ে একটি কালো বিড়াল রাস্তা পার হয়ে গেল। শুভকাজে যাচ্ছিলেন, বাঁধা পড়লো। আর তো গাড়ি সামনে এগোনো যাবে না। দাঁড়াতে হবে কিছুক্ষন। কালো বিড়াল যে অশুভ। ওদিকে ফ্লাইট তো ছেড়ে যাবে। তিনি এখন কি করেন ?
3) ট্রেনের মধ্যে দুই মহিলার মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়েছে। একটু কান পেতে শুনি একজন আর একজনকে বলছে---- "সকাল বেলাতেই তুই আমাকে এক চোখ দেখালি কেন ,? জানিস আজ আমার দিনটা কতটা খারাপ যাবে ? তুই এটা ইচ্ছা করে করেছিস। এখনি দু'চোখ দেখা।" ওদিকে সে যতোই দু'চোখ দেখায় ওর কিছুতেই মন ওঠে না। আজ কোন না কোন বিপদ হবেই। সকাল সকাল এক চোখ দেখেছে।
4) অণুপমার খুব শিক্ষিত পরিবারে বিয়ে হয়েছে। শাশুড়িও কলেজে পড়ায়। সেখানে ও কিছু করেনা বলে মন খারাপ লাগে মাঝে মাঝে। তার এই শিক্ষিত শাশুড়িমা সেদিন গর্ভবতী নিরুপমাকে বললেন --" একটু পরে গ্রহণ লাগবে । তুমি কিন্তু বাইরে বেরিও না। আর এই সময় জানো তো কোন কিছু কাটতে নেই । তাহলে সন্তানেরও কোন না কোন অঙ্গে কাটা বা খুদ বেরোয়। কিছু খেতেও নেই ,যতোক্ষণ গ্রহণ চলবে তুমি কিন্তু না খেয়ে থাকবে। জলও খাবে না । অবাক হয়ে সেদিন শাশুড়িমার কথা শুনেছিল নিরুপমা। যে নিজেকে কম শিক্ষিত বলে মনে মনে আপরাধী ভাবতো।
5)অনেক বয়স হয়ে গেছে। মেয়েটার বিয়ে হচ্ছে না। তাই বাবা মা দুজনে মিলে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন জোতিষীর কাছে। তিনি বহুমূল্য ব্যয় করে আনেক গুলো পাথর ধারন করতে বললেন। এবং বেশ কিছু তাবিজ কবজ ও দিলেন। সাথে দিলেন বিভিন্ন রকমের কৃচ্ছসাধন। কিন্তু মেয়েটা উচ্চ শিক্ষিত হতে চেয়েছিল। আরো পড়াশোনা করতে চেয়েছিল ।বাবা মা পড়ানোর পিছনে টাকা খরচের বদলে" পাথর "কিনতে সেই টাকা খরচ করলেন। আর মেয়ের সুপাত্রের আশায় সুখনিদ্রায় মগ্ন হয়ে রইলেন ।
আমরা এখনো অনেকেই এরকম কুসংস্কারকে মেনে চলি। যতোই লেখা পড়া শিখিনা কেন ?। একটু ভেবে দেখি না এগুলোর পিছনে সত্যিই কোন কারণ বা যুক্তি আছে কিনা ? নাকি সংস্কার বলে বংশ পরম্পরায় মেনে চলি। একটি শালিক বা কালো বিড়াল আমার যাত্রা পথে কিভাবে অমঙ্গল ঘটাতে পারে ? গ্রহণ কেন হয় তা আমরা সবাই জানি। তাই কোন কিছু কাটার সাথে গ্রহণের কোন সম্পর্ক নেই। আর আমার মনে হয়না জোতিষী কারো ভাগ্য ফেরাতে পারে।
(নিজস্ব মত। আমার মতের সাথে সবার নাও মিলতে পারে। কেউ আঘাত পেলে আমি দুঃখিত।🙏🙏🙏,)
All rights are reserve by paramita mandal.
অভিযোজন ও অভিব্যক্তি(কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
এই বাক্যটির বহুমুখী আলোচনা করা সম্ভব। যেমন- বিজ্ঞানভিত্তিক, দার্শনিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক। আমি এই বাক্যটির বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
বাক্যটি থেকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যে অর্থ দাঁড়ায় তাকে বলা হয় অভিযোজন বা Adaptation এবং এই অভিযোজনের হাত ধরেই অতি ধীরে আসে অভিব্যক্তি বা Evolution.
অভিযোজন:- পারিপার্শ্বিক পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে বা পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার নামই অভিযোজন। অভিযোজনের ফলে জীবের গঠনগত, কার্যগত ও আচরণগত পরিবর্তন দেখা যায়। পরিবেশের সাথে মানিয়ে না চলতে পারলে সেই জীব অবলুপ্ত হয়ে যেতে পারে কালের নিয়মে। পরিবেশ ও প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে বংশানুক্রমিকভাবে অতি ধীরগতিতে জীবদেহে যে পরিবর্তনগুলো(জেনেটিক মিউটেশন) আসে তাকেই অভিব্যক্তি বলা হয়। কয়েকটা উদাহরণ দিয়ে বলি:-
●আমরা অর্থাৎ আধুনিক মানুষ আগে কাঁচা মাংস খেতো, সেই কাঁচা মাংস পরিপাকের জন্য আমাদের বৃহদান্ত্রে "সিকাম" নামক অংশ ছিল, যা কালের নিয়মে আজ লুপ্তপ্রায় অঙ্গ "এপেন্ডিক্স" হিসেবে রয়ে গেছে। কিন্তু, গিনিপিগ নামক প্রাণী যার সাথে মানুষের অন্তর্গঠনের প্রচুর মিল পাওয়া যায়, তাদের শরীরে এখনো সিকাম রয়ে গেছে, কেননা তারা কাঁচা মাংস খায়। আমরা নিজেদেরকে অভিযোজিত ও বিবর্তিত করেছি তাই সিকাম আজ মানবদেহে এপেন্ডিক্স।
●হাইরাকোথেরিয়াম অর্থাৎ ইওসিন যুগের ঘোড়ার থেকে কালের নিয়মে ইকুয়াস বা নব্য যুগের ঘোড়া অতি ধীরগতির বিবর্তিত হয়েছে। প্রাচীন ঘোড়া উচ্চতা ও শারীরিক দিক দিয়ে অনেক দুর্বল ছিল। তাই সহজেই তারা খাদকের হাতে মারা পড়তো অথবা খাদ্য গ্রহণের জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রমের দরকার তা করতে পারতো না। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে আসে বিবর্তন। উচ্চতা বেড়ে যায় ও দৈহিক আকার-ক্ষমতা বেড়ে যায়। তাই আড়াই ফুটের হাইরাকোথেরিয়াম আজ প্রায় দুই মিটারের ইকুয়াস।
●জিরাফের ছোট গলা থেকে লম্বা গলার উদ্ভব হয়েছে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যগ্রহণের প্রয়োজনে।
●জলে সাঁতার কাটার সুবিধার্থে হাঁসের পায়ের আঙুলগুলো চামড়া দিয়ে জোড়া(লিপ্তপদ)।
●মরুভূমিতে যেহেতু জলের খুব অভাব, তাই বাষ্পমোচন আটকাতে ক্যাকটাসের পাতাগুলো কাঁটায় পরিণত হয়েছে।
●খেচর বা যারা আকাশে উড়তে পারে, তাদের সামনের পা ডানায় পরিণত হয়েছে।তাদের শরীরের ভেতরে বায়ুথলি থেকে ও হাড়গুলো ফাঁপা হয়।
এরকম কত হাজার হাজার উদাহরণ আছে যা আমাদের শারীরিক পরিবর্তন ঘটায়। পারিপার্শ্বিক অবস্থা অনুভব ও অবলোকন করে আমরা নিজেদেরকে সেই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের রক্ষা করে চলেছি।
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
# নাম- লোকশিক্ষা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
লোকশিক্ষা (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
লোকশিক্ষা: জনসাধারণের শিক্ষা বা mass education হল একটি দেশের জনশিক্ষা বা লোকশিক্ষার জন্য সেই দেশের মানুষকে দেশ ও দশের মঙ্গলের চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার শিক্ষা দেওয়া।
বঙ্কিমচন্দ্রের মতে লোকশিক্ষার অন্যতম উপায় হল '
কথকতা'।
সত্যিই একজন আদর্শ কথক তার জ্ঞান-বাচ্য-বাক্য-ভঙ্গিমা-ভক্তির মাধ্যমে যে আদর্শ লোকশিক্ষা দিতে পারেন, তা আর অন্য কিছুতে মেলে না। একজন ভালো বক্তা তার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে কর্ণ হতে মর্মে প্রবিষ্ট হতে পারে। সেই সুশিক্ষার আলোকে দূরীভূত হয় অজ্ঞানের অন্ধকার। উদাহরণ:- শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। পুঁথিগত বিদ্যার বাইরেও যে মানুষকে শিক্ষিত করা যায় তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি। তাঁর প্রতিটি কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝলে অবাক হয়ে যেতে হয়। যেমন- "টাকা মাটি, মাটি টাকা"- এই বাক্যটি যে যেমনভাবে নেবেন তাতেই তাঁর জ্ঞানলাভ হবে। এই বাক্যের মানে কারোর কাছে টাকা মাটির ন্যায়। অতি সস্তা। যেন কোনো মূল্যই নেই টাকার। আবার অনেকের কাছে এর মানে, মাটিতেই টাকা, সে তুমি ভূমি কর্ষণ করো বা জমি কিনে রাখো।
আরেকটি বাক্য:- "পাঁকে থাকো পাঁকাল মাছ হয়ে"- এর অর্থ যত খারাপ কদর্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা হোক না কেন, তোমার নৈতিক চরিত্রে যেন দাগ না লাগে।
আরেকটি বাক্য যেটা আমার মতে রামকৃষ্ণদেবের শ্রেষ্ঠ বাক্য:- "যত মত, তত পথ"- এর মানে কোনো কিছুর শেষে পৌঁছতে হলে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ বেছে নেয় ভিন্ন ভিন্ন পথ। কেউ চালাকির দ্বারা, কেউ সাধনার দ্বারা, কেউবা অসৎ উপায়ে আবার কেউ কঠোর পরিশ্রমে। গন্তব্যস্থল একটাই। যেমন- কোনো একটা পরীক্ষায় ভালো ফলের আশায় কেউ কঠোর পরিশ্রম করে আবার কেউ ভালো নম্বর পেতে অসৎ পথে হাঁটে। শেষে হয়তো দুজনেই একই নম্বর পায়। কিন্তু, যেপথ সত্য ও সৎ, তাতে চলার আনন্দই আলাদা। যত মত, তত পথ।
লোকশিক্ষা দেবার মত শিক্ষকের আজকালকার দুনিয়ায় বড় অভাব। অডিও-ভিজুয়াল লেকচারে বিভিন্ন ধর্মগুরুর(সৎ বা অসৎ) সৎসঙ্গ অনুষ্ঠান দেখে কতটা লোকশিক্ষা অর্জন করা যায় আমার জানা নেই।
তবে আধুনিককালে মিডিয়া, অডিও ভিজুয়াল বই, রেডিও, টিভি, মোবাইল ও ইন্টারনেটের কল্যানে আমাদের অজান্তেই দেশের অনেক শিশু বা কিশোর(মুষ্টিমেয়) সুশিক্ষার পথে যেতে সক্ষম হয় উঠছে। আশা করা যায় আগামীতেও আসবে সোনার দিন।
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
বিষয় : ফ্যাশন। লেখায় : ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
বিষয় : ফ্যাশন।
লেখায় : ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
ঠাকুর বাড়ী, মানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ীর ফ্যাশন এখন বাঙলার স্টাইল। কেমন সেটা? আমাদের বাঙালী সমাজে আটপৌরে শাড়ী পরার রেয়াজ ছিল। অন্তর বাস ছাড়াই। বড়ো জোর বক্ষবন্ধনী বা চোলী ছিল। ঠাকুর বাড়ীর মহিলা প্রথম ব্লাউজ নিয়ে আসে। তার আগে পেটিকোট বা সেমিজের ব্যাবহার তারা করতো। সেমিজ ব্লাউজ ও সায়ার মিলনে তৈরী। বলতে গেলে বাবু সমাজের সব থেকে উৎকৃষ্ট ফসল নতুন ফ্যাশানে মেতে ওঠা বাঙালী সমাজ। তখন ব্রাম্ভ সমাজের মেয়েরা যেহেতু স্বাধীন চেতা ছিলেন, তার ফলে পরিধানের মধ্যে নতুনত্ব ও আধুনিকতা নিয়ে এসেছিল বলতে গেলে তাই বাঙালী সমাজের স্টাইল হয়ে গেছে। তখনকার মহিলা দের পামসু আজও সমান জনপ্রিয়। এবার সেই সময়ের ফ্যাশনের দিশা দেখানো এক মহিলার নাম বলি, বাঙলার ফ্যাশন জগতে আজও তার অবদান অনস্বীকার্য।
রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরের মেজ বৌঠান ও সত্যেন্দ্রনাথের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী প্রথম আমাদের এখানে শুরু করেন 'বম্বে স্টাইল'-এ শাড়ি পরা। স্বামীর সঙ্গে অনেকটা সময় তিনি বম্বেতে (বর্তমানে মুম্বই) কাটিয়েছিলেন। সেখানকার শাড়ি পরার স্টাইল এবং গুজরাটি,পার্সি মহিলাদের শাড়ি পরার ধরনে তিনি আকৃষ্ট হন। কুচি দিয়ে পরা শাড়ি এবং বাঁদিকে আঁচল তিনিই প্রথম ঠাকুর বাড়িতে আমদানি করেন। এই স্টাইল খুব তাড়াতাড়ি ঠাকুর বাড়ির মহিলা সহ শিক্ষিত, উন্নত, রুচিশীল ব্রাহ্মসমাজের মহিলাদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পাশাপাশি সাধারণ বাঙালি সমাজের মধ্যেও এই ভাবে শাড়ি পরার প্রচলন শুরু হয়। এবং আজও সেই স্টাইলই ‘ফ্যাশন ইন’। অন্য কোনও শাড়ি পরার ধরন আজও টেক্কা দিতে পারেনি রবীন্দ্রনাথের মেজ বৌঠানকে।
এমন ভাবে বললে টোপরের বাঙালী স্টাইল। যা গোটা দুনিয়ার কাছে বিশেষ মাত্রা পায়, সেই স্টাইল ,মানে তখনকার হাল পরিধান শিল্প কে পথ দেখিয়ে ছিলেন ভগবান শিব। যোগী শিব বিয়ে করতে যাবেন। কিন্তু ভারতীয় নিয়ম অনুযায়ী শিরস্ত্রাণ চাই। তিনি রেশমি কাপড়ের পাগড়ীর বদলে হল্কা কাঠের মাথার ঢাকা পরতে চাইলেন। বিশ্বকর্মার মাথায় হাত। লোহা লক্করের কাজ করে, এই হল্কা কাজ কেমন করে হবে। অগত্যা মালাকর নামে এক ব্যক্তি জলজ হালকা শর জাতীয় গাছের মধ্যের নরম অংশ দিয়ে গড়ে দিলেন মুকুটের মতো হাল্কা শিরস্ত্রাণ। ওদিকে পার্বতী ও সাদা কিছু পবিত্র মুকুট পরতে চাইলেন। শুরু হল নতুন স্টাইল টোপর আর মুকুট। ভারতের বিভিন্ন যায়গায় বিবাহের সময় এমন কিউ মাথা ঢাকা ব্যবহার হয় সংস্কৃতি হিসেবে। ঠিক তেমনি বাঙলায় ও। কিন্তু কেউ ভাবে না এটি শিব পার্বতী র স্টাইলের ফলে সৃষ্ট একটা চলমান পোশাকের ধারা।
এমনভাবে জীবনের স্টাইল কোন বিশেষ মুহুর্তে বিশেষ রূপ নেয়। বহুচর্চিত হতে হতে তাই সংস্কৃতি বা স্টাইল অফ ইন্ডিয়া / বেঙ্গল হয়ে যায়।
শুধু পোশাক নয় নানা বিষয়ে নতুনভাবে কিছু ট্রেন্ড আসে। যেমন এই মুহূর্তে ফ্যাশন বাঙালী সমাজে ঝোলা ব্যাগ কোলাপুরি চপ্পল হাতে সিগারেটের বদলে স্যাক ব্যাগ স্পোর্টস শু । হাতে.... না থাক ওটা নাই বা বললাম। তবে আগের নেশার ফ্যাশন ও এখান পাল্টে ছে । আসলে জীবন বিবর্তন মেনে এসেছে ফ্যাশন । তাই. .হেতা হুয়া নদী মে হাত ধোলো । (বয়া জলে হাত ধুয়ে নেওয়া) ধন্যবাদ🙏💕
ফ্যাশন (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
আক্ষরিক অর্থে ফ্যাশনের বাংলা হল হালফিলের রীতি- রেওয়াজ, প্রচলিত ধারা, আদবকায়দা, সাজপোশাকীয় কেতা ইত্যাদি। ফ্যাশন যেমন প্রয়োজন তেমনই অতিরিক্ত ফ্যাশনের কারণে অনেক প্রাণ হারিয়ে যায় অন্ধকার পথের বাঁকে।
************************
অভিষেক ফার্স্ট ইয়ার কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্টুডেন্ট। প্রচুর টাকা খরচ করে ম্যানেজমেন্ট কোটায় ভর্তি হয়েছে কলকাতার টপ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। ধনী বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ার দরুণ প্রাচুর্যের মধ্যে মানুষ। কেতার লালিত্য ঝরে পড়ছে অভিষেকের শরীরে, ওর ব্যবহৃত প্রতিটি জিনিসে। ওকে দেখে ক্লাসের অনেক ছেলেই ঈর্ষান্বিত। অনেকেই ওর সাথে বন্ধুত্ব করে ওর মতো হতে চায়।
মেধার ভিত্তিতে চান্স পাওয়া অনীক অভিষেককে একটুও পছন্দ করেনা। ছেলেমেয়েরা ওকে নিয়ে অকারণ হ্যাংলামি করলে অনীকের গা জ্বলে। এভাবেই কেটে যায় দিনগুলো।
অনীকের পছন্দ সায়নীকে। কি অপূর্ব রূপ মেয়েটার। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে সায়নীর মুখটা ভেসে ওঠে অনীকের সাদা খাতার পাতায়। কিন্তু, ও যে অভিষেকের থেকে চোখ ঘোরাতেই নারাজ। অনীকের দিকে ও তো একটিবারের জন্যও ফিরে তাকায় না। অভিষেকে নিমজ্জিত হয়ে আছে। অনীক ঠিক করলো সাহস করে ওকে নিজের মনের কথাটা বলবে। টিফিন ব্রেকে সায়নী যখন ক্যান্টিনের দিকে যাচ্ছে, অনীক ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। সায়নী অবাক হয়ে বললো, "কি ব্যাপার? কিছু বলবি?"
অনীক: রাখ ঢাক করে কথা আমার আসেনা, তাই সরাসরি বলছি শোন, আমি তোকে পছন্দ করি, ভালোবেসে ফেলেছি তোকে।
সায়নী: হোয়াট! হ্যাভ ইউ গন ক্রেজি? নিজের দিকে একবার আয়নায় দেখ। তেলতেলে চুল, ঝোলা ব্যাগ, না আছে গ্ল্যামার, না আছে ফ্যাশনের সেন্স। তুই আর আমি! জাস্ট গো টু হেল, আদারওয়াইজ তোর নামে কমপ্লেন করবো প্রিন্সিপালের কাছে।
কথাগুলো বলে গটগট করে চলে গেল সায়নী।
অনীকের সোজা মনে গিয়ে ধাক্কা মারলো ওর কথাগুলো। সত্যিই তো, বাকি ছেলেদের তুলনায় কি বেমানান ও এই কলেজে, কি বিশ্রী ড্রেসিং সেন্স ওর, ফ্যাশনের বিন্দুবিসর্গ ওর জানা নেই। এই নিয়ে কোনো মেয়ে দেখবে ওর দিকে ফিরে! পড়াশুনো জলাঞ্জলি দিয়ে শুরু হল অনীকের কেতচর্চা।
জিম, ডায়েট থেকে শুরু করে চুলের তেল বদলে এলো হেয়ার জেল, ফর্মাল প্যান্টের জায়গা নিলো হাল ফ্যাশনের কার্গো, জিন্স। ফর্মাল শার্টের জায়গায় গায়ে উঠলো স্কিন ফিট টি-শার্ট, ট্রান্সপারেন্ট পার্টিওয়্যার শার্ট।
ছাপোষা বাবা-মায়ের পক্ষে নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা। নিত্যদিন শুরু হল অশান্তি। শেষে অনীকের বাবা সাফ জানিয়ে দিলেন যে, পড়াশুনোর খরচ চালিয়ে তার ওপরে এসব এক্সট্রা খরচ করা ওনার পক্ষে অসম্ভব। রেগে উঠলো অনীক। সমাজের চোখে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য চাই টাকা। অনেক টাকা।
একদিন বিকেলে হতাশ হয়ে বসে আছে কলেজের পাশের ফাঁকা মাঠটায়। একটা বেশ হ্যান্ডসাম চেহারার ছেলে ওর পাশে এসে বসলো, "কি ব্রাদার, আপসেট মনে হচ্ছে।"
অনীক: তোমাকে ঠিক চিনলাম না ভাই!
ছেলেটা: কি প্রবলেম তোমার! গার্লফ্রেন্ড ছেড়ে গেছে নাকি বাড়িতে অশান্তি! নাকি অন্য কিছু!
অনীক চাইছিল কারোর সাথে নিজের মনের ভাবগুলো শেয়ার করতে। অনেকসময় আমরা চেনা মানুষের থেকে অচেনা মানুষের কাছে মন খুলে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ছেলেটা জিজ্ঞাসা করাতে অনীক সমস্ত কথা ওকে খুলে বললো।
সব শুনে ছেলেটা বললো, "বেসিকালি টাকার প্রবলেম তাইতো! ডোন্ট ওয়ারি। আমাকে যদি বিশ্বাস করতে পারো তবে, আমার সাথে চলো একটা জায়গায়। টাকার প্রবলেম আর থাকবে না।"
অনীকের তখন খড়কুটো আঁকড়ে ধরার অবস্থা। ছেলেটা ওকে নিয়ে গেল একটা বার কাম হোটেলে। সেখানে ওর চেনা একজন মহিলার সাথে ফিসফিস করে কিছু বললো। মধ্যবয়স্ক সেই মহিলা আপাদমস্তক দেখলো অনীকের দিকে। তারপরে "ডান" বলে চলে গেল।
ছেলেটা: একটা পার্সোনাল কোয়েশ্চেন করছি, তুমি কখনো কারোর সাথে দৈহিকভাবে মিলিত হয়েছ?
অনীক: না, কোনোদিন না।
ছেলেটা: আজকে হবে প্রথমবার, আর মজার কথা হল তার জন্য পাবে নগদ পাঁচ হাজার টাকা। শুধু আজকেই নয়, যতবার কাজ করবে, ততবার পাবে। এটাকে নিজের পার্ট টাইম প্রফেশনে হিসেবে বেছে নাও। জীবনে টাকার অভাবে ভুগতে হবে না।
অনীক চমকে উঠল। কাজটা করতে ওর মন ওকে সায় না দিলেও টাকার অঙ্কটা শুনে কচি বয়সে লোভে পড়ে গেল ও।
অর্থের লোভের কাছে পরাজয় স্বীকার করলো মেধাবী অনীক। নিজেকে বিলিয়ে দিতে রইলো দিনের পর দিন এক বিছানা থেকে আরেক বিছানায়। গ্ল্যামার, ফিজিক, লুক সব পারফেক্ট এখন অনীকের। শুধু পারফেক্ট রইলনা যা ছিল ওর অমূল্য সম্পদ, ওর চরিত্র।
কত তারা হারিয়ে যায় কৃত্রিম রোশনাইয়ের মাঝে,
কত কলি ঝরে যায় বিলাসিতার সাজে,
কত তারা নিভে যায় অত্যাকর্ষণ তরে,
ফ্যাশনের দুনিয়ায় সকল নক্ষত্রই ঝরে পড়ে।
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
ফোনে আড়িপাতা (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
#নাম- অপেক্ষা। ✍ - চন্দনা লাহা নাগ।
সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১
মায়ের শোভা (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
যেথা বাউলের একতারাটা
তোলে মেঠো সুর,
সবুজে সবুজে ভরা মাঠ,
চোখ যায় যতদূর ।
যেথা রাঙা মাটির পথের পরে,
আনন্দবারিধারা ঝরে,
মনকেমনের মিষ্টি হাওয়ায়,
করুণ সুরের ছন্দ জাগায় ।
যেথা বর্ষণের মাতাল হাওয়ায়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণ,
সিক্ত মাটির পথে পথে,
ভরায় মন প্রাণ ।
যেথা শস্য শ্যামলা ধরণী,
আকাশ নির্মল,
যেথা শাখে শাখে মিষ্টি সুরে,
ডাকে পাখির দল ।
গ্রামবাংলার ছায়াভরা,
শান্ত নদীর কুল,
গাছে গাছে দোলে সেথা,
হরেক রকম ফুল ।
যেথা সতেজ, সজীব, লাবণ্যময়,
প্রকৃতির রূপের ছটা,
কাটাতে চাই আমিও সেথা,
নির্মল দিন কটা ।
Copyright © All Rights Reserved
Piyali Chakravorty
# নাম- পঞ্চসতী। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১
সেই মেয়েটা (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
স্কুল ছুটির ঘন্টা পড়তেই ভয়ে কুঁকড়ে যায় স্কুলের বেশ কিছু মেয়ে। স্যার যে ওদেরকে খুব বেশী ভালোবাসে, এত ভালোবাসা সহ্য করতে পারেনা ওরা। এক্সট্রা ক্লাসের নাম করে স্কুলে আটকে রেখে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে এমন ভালোবাসার জন্য বেশ কিছু মেয়েকে বেছে নিয়েছে অঙ্কের কড়া টিচার। কেউ সোমবার, কেউ মঙ্গল, কেউবা বুধ...
যেদিন স্কুলে ক্লাস এইটে এডমিশন নিলো আর্য্যা, ওর টলটলে মুখটা সেদিন স্যার লক্ষ্য করতেই ওনার ভালোবাসার একজন বেড়ে গেল গুনতিতে। আর্য্যাকে যেদিন প্রথম এক্সট্রা ক্লাস দেওয়া হয়, ও প্রথমে আন্দাজ করতে পারেনি। কিন্তু, বাথরুম যেতে বলাতেই বুদ্ধিদীপ্ত আর্য্যার মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। ও নিজেকে প্রস্তুত করে রাখে।
বাথরুমে অশ্লীলতা শুরু হতেই ও আঙুলের ফাঁকে রাখা পেন্সিল শার্প করার জন্য কেনা নতুন ব্লেডটা নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে চালিয়ে দেয় বিকৃতকামী স্যারের উত্থিত পুরুষাঙ্গ লক্ষ্য করে। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে শুয়ে পড়ে স্যার। বাথরুমের সাদা টাইলস ভেসে যায় রক্তে। মরার আগে মানুষরূপী দানবের কানে বাজে আর্য্যার বলা শেষ কথাগুলো, "কৈ মাছের জান মেয়েদের, তাদের ফেল করার ভয় দেখিয়ে, বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের সাথে পাশবিক অত্যাচার করলেও তারা মুখ বন্ধ রাখে। কিন্তু, তোর জান যে কৈ মাছটার মধ্যে ছিল, সেটা আমি কেটে দিলাম। আমার নাম আর্য্যা। মা দূর্গার নামে নামকরণ আমার তোদের মতো অসুর নিধনের জন্যই।
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
পৌরাণিক পঞ্চকন্যা. ✍🏽সৌগত মুখোপাধ্যায়
*পৌরাণিক পঞ্চকন্যা*
*✍🏽সৌগত মুখোপাধ্যায়*
পৌরাণিক পঞ্চ কন্যা বলতে *অহল্যা* *তারা* *সীতা*
*মন্দদোরি* এবং *দ্রৌপদী* র উল্লেখ পাওয়া যায়।এদের কে সতী বলা হয়।এই সতী প্রশ্নে আমার কিনচিৎ আপত্তি আছে।এদের মধ্যে সবাই সতী নয়।
আলোচনার শুরুতে দেখা নেওয়া যাক এরা কারা।
*অহল্যা* ব্রম্ভা দ্বারা সৃষ্টি অপ্সরা গৌতম মুনির স্ত্রী যিনি ইন্দ্র দ্বারা ধর্ষিত এবং শাপগ্রস্থ পরবর্তী সময় রামের দ্বারা শাপ মুক্তি।কিন্তু এখানেও উল্লেখ ইন্দ্র দ্বারা উনি ধর্ষিতা নয়।বয়জেস্ট স্বামী গৌতম মুনির স্ত্রী ইন্দ্রর ছল চিনতে পারলেও সহবাসে লিপ্ত হন। এখানে সতী শব্দ কি ভাবে প্রযোজ্য?
*তারা* বালির স্ত্রী এবং একাধারে কূটনীতিক ,বালীর মৃত্যুর পর রাজ্যের সব ভার নিজের হস্তগত করতে বিবাহিত সুগ্রীব কে বিবাহ করতে দুবার ভাবেন নি।এনাকেও সতীর আখ্যা দেওয়া হয়।
*কুন্তী* মহাভারতের এক বহু চর্চিত চরিত্র।বোধকরি ইতিহাসের প্রথম কুমারী মা এবং সন্তান অস্বীকারের প্রথম নিদর্শন।সূর্যের ঔরসে গর্ভবতী হন পরবর্তী তে পাণ্ডু কে বিয়ে পঞ্চ পুত্রের জন্ম দেন।ইনিও সতীর তালিকায় ,কারণ উহ্য।
*দ্রৌপদী* এনার সম্মন্ধে বিশেষ। কিছু বলার নেই সবাই জানেন,পঞ্চ স্বামী গ্রহণের পরেও অর্জুন ছাড়া কর্ণের প্রতি দুর্বল ছিলেন ।ইনিও সতী র তালিকায়।
এরা ছাড়া যে দুজন পরে আছেন *সীতা* এবং *মন্দদোরী* এই দুজনের প্রথম জন জনক রাজার কন্যা এবং দ্বিতীয় জন ময় দানবের কন্যা।এনার মহীয়সী নারী,এনার শুধুমাত্র সংস্কৃতি নয় সমস্ত বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।এনার কোনোদিন বহুগামী হননি।এনার সৎ পরামর্শ সততার পথে চলার প্ররোচনা দিয়েছেন।সীতা হরনের কালে রাবনের অন্যায়ের প্রতিবাদ যদি কেউ একজন করে থাকেন তবে তিনি
মন্দাদোরী,এতো স্বত্বেও সতীর সংজ্ঞা তিনিও শেষ অব্দী পালন করতে পারেন নি।যুদ্ধ উত্তোর পর্বে ইনি ও বিভীষণের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হন।পরে রইলেন সীতা সত্যিই যদি সতী হিসাবে দেখা যায় তাহলে *সীতা* হচ্ছেন মাত্র একটি কন্যা যিনি ত্যাগের প্রতীক ,নারী ধর্মের প্রতীক আদর্শ সতী।
🙏🙏🙏🙏🙏
কপিরাইট রিজার্ভ @সৌগত@মুখোপাধ্যায়#২০২১
পৌরাণিক পঞ্চকন্যা(কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
"অহল্যা দ্রৌপদী কুন্তী তারা মন্দোদরী তথা।
পঞ্চকন্যা স্মরে নিত্যং মহাপাতক নাশনম্।।"
অর্থ :- অহল্যা, দ্রৌপদী, কুন্তী, তারা ও মন্দোদরী পঞ্চকন্যাকে বা পঞ্চসতীকে দিনান্তে একটিবারের জন্য স্মরণ করলে কৃত মহাপাপগুলোর মোচন হয়।
রামায়ণ মহাকাব্য থেকে গৃহীত পঞ্চকন্যার মধ্যে তিনজন হলেন অহল্যা, তারা ও মন্দোদরী । ও মহাভারত থেকে দুজন হলেন দ্রৌপদী ও কুন্তী ।
অহল্যা🙏
আহিল্যা নামে পরিচিতা মহর্ষি গৌতমের ভার্যা, অসামান্য সুন্দরী সতীশ্রেষ্ঠা দেবী তিনি । তাঁর রূপের মোহে আবিষ্ট হয়ে ছলপূর্বক গৌতম মুনির অনুপস্থিতিতে, তাঁর ছদ্মবেশ ধারণ করে, তাঁকে ভোগ করেন স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র । পাপ করেন ইন্দ্র, কিন্তু শাস্তিস্বরূপ ইন্দ্রের সাথে সাথে দেবী অহল্যাকেও মহর্ষি গৌতমের কোপে পড়তে হয় যে, কেন তিনি তাঁর স্বামীর হুবহুকে চিনতে পারেননি । ঋষি গৌতমের অভিশাপে দেবী অহল্যা প্রস্তরীভূত হন । ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের চরণের ছোঁয়ায় তাঁর শাপমুক্তি ঘটে । তিনি পঞ্চকন্যার অন্যতম সতী নারী । চরণে জানাই শতকোটি প্রণাম । অহল্যা কেন স্বামীকে চিনতে না পেরে স্বামীর রূপধারী ব্যক্তির সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছিলেন তা অনেকের মনে ওনার প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি করতে পারে । সেক্ষেত্রে একই ভুল ঋষি গৌতমও করলেন । তিনিও তাঁর স্ত্রীর মন বুঝলেন না, বুঝলেন না যে তাঁর স্ত্রী শুধুমাত্র তাঁকেই মন-মন্দিরের দেবতা মেনে আসছেন । অন্য কোনো পুরুষের সাথে তো তিনি লিপ্ত হননি । তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় নিজের ছলকারীকে চিনতে পারা যদি দোষের হয় তবে, ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে স্ত্রীর ভালোবাসার প্রতি সন্দেহ করাও দোষের ।
তারা🙏
কিষ্কিন্ধ্যাধিপতী বানররাজ বালীর সহধর্মিনী এবং বানরবৈদ্য সুষেণের কন্যা ছিলেন তারা । দৈত্যের সাথে যুদ্ধে বালীকে মৃত ভ্রমে ভাই সুগ্রীব রাজা হন এবং তারাকে দখল করেন।কিন্তু, বালী ফিরে আসেন ও তারাকে নিজের অধিকারভুক্ত করেন পুনর্বার । সুগ্রীব পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচান। সুগ্রীবের ওপরে বালী বিশ্বাসঘাতক তকমা লাগিয়ে দেন । কিন্তু, তারা ছিলেন বুদ্ধিসম্পন্না, নির্ভীক এবং স্বামী বালীর একনিষ্ঠ ভক্ত । যিনি দুই ভাইয়ের যুদ্ধের মাঝে পড়েও তাঁর স্বামী বালির প্রতি ভালোবাসা ছিল অটুট । কত মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে জীবদ্দশায় । তবুও তিনি ছিলেন অবিচল । প্রণাম জানাই দেবী তারার শ্রীচরণে ।
মন্দোদরী🙏
লঙ্কার রাক্ষসরাজ রাবণের রাণী ও অসুরাজের মায়াসুর ও অপ্সরা হেমার কন্যা তিনি ছিলেন মন্দোদরী। মহাকাব্য রামায়ণে তিনি পরমা সুন্দরী, ধার্মিক ও ভগবভক্তরূপে বর্ণিত । স্বামী রাবণের শত পাপ থাকা সত্ত্বেও মন্দোদরী রাবণকে ভালোবাসতেন এবং ধর্মের পথ অনুসরণে সর্বদা পরামর্শ দিতেন। স্বামীর প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও আনুগত্যবোধ রামায়ণে বর্ণিত । রাবণের মৃত্যুর পর, রামের উপদেশানুসারে রাবণের ভ্রাতা বিভীষণ মন্দোদরীকে বিবাহ করতে বাধ্য হন । রাবণ ছিলেন মাতৃতন্ত্রের প্রতিনিধি ছিলেন। তাই তার মৃত্যুর পর শাসনক্ষমতা পাওয়ার জন্য বিভীষণ রাজরাণীকেই বিবাহ করতে বাধ্য হন। মন্দোদরী ও বিভীষণের বিবাহ "রাজনৈতিক কূটবুদ্ধিপ্রসূত"। এই বিবাহ কোনোভাবেই "পারস্পরিক দৈহিক আকর্ষণে"র ভিত্তিতে হয়নি। রাক্ষসকন্যা এবং রাক্ষসরাজ রাবণের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও দেবী মন্দোদরী সর্বদা ধর্মের পথে চলেছেন । স্বামীকেই একমাত্র পুরুষ হিসেবে ভালোবেসেছেন আজীবন । ওনার চরণে শতকোটি প্রণাম জানাই ।
কুন্তী🙏
রাজা শূরসেনের কন্যা, হস্তিনাপুরের রাজা পাণ্ডুর রাণী ও তিন জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব অর্থাৎ, যুধিষ্ঠির, ভীম ও অর্জুনের জননী ছিলেন কুন্তী । যেহেতু পাণ্ডু অভিশপ্ত ছিলেন যে, "স্ত্রী-সঙ্গমে মৃত্যু অনিবার্য" । বংশকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ঋষি দুর্বাশার থেকে প্রাপ্ত মন্ত্রবলে তিনি তিন পাণ্ডবের জন্ম দেন । যুবতী বয়সে রাজা পাণ্ডুর অক্ষমতা সত্ত্বেও তিনি সর্বদা পান্ডুকেই ভালোবেসেছেন । অন্য কারোর প্রতি কোনোদিন আকৃষ্ট হননি । এমনকি যুবতী বয়সে বৈধব্যলাভ করা সত্ত্বেও কারোর সাথে পুনর্বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি । শতকষ্ট সয়েও তিনি শেষপর্যন্ত পাণ্ডুর স্ত্রীর মর্যাদা মাথায় নিয়ে স্বার্গলাভ করেছেন । অনেকে বলবেন, কর্ণকে পৃথিবীতে আনা কর্ণের প্রতি অবিচার হয়েছে । কিন্তু, ভুল তো মানুষ মাত্রই হয় । সেটা ছিল তাঁর কিশোরী বয়সের একটা ভুল । এরকারণে এঁর সতীত্ব কোনো অংশে ক্ষুণ্ণ হয়নি । শতকোটি প্রণাম জানাই তাঁর শ্রীচরণে ।
দ্রৌপদী🙏
ইনি পঞ্চকন্যার দ্বিতীয়, পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের কন্যা, অসামান্য সুন্দরী । পাঞ্চালরাজ দ্রুপদ চেয়েছিলেন দ্রৌপদীর সাথে অর্জুনের বিবাহ দিতে । সেই কারণে তিনি দ্রৌপদীর স্বয়ম্বরসভার আয়োজন করেছিলেন । মহাবীর কর্ণ অগ্রাধিকার পেয়েছিলেন সেই মাছের চোখ বিদ্ধ করার । তিনি ধনুক ওঠাবার সাথে সাথে দ্রৌপদী প্রতিবাদ করেন যে তিনি সুতপুত্রকে বিবাহ করতে নারাজ । সেই স্বয়ম্বরসভায় মাছের চোখকে লক্ষ্য করে তীর ছুঁড়ে অর্জুন দ্রৌপদীকে বিবাহের অধিকার লাভ করেন । আমরা জানি, পঞ্চপাণ্ডবের মাতৃআদেশ পালনে কোনোদিন অন্যথায় হয়নি । মাতা কুন্তী যখন কর্মব্যস্ত ছিলেন, অর্জুন এসে কুন্তীকে বলেন, "দেখো মা, আমি কি নিয়ে এসেছি ।" কুন্তী সেদিকে না দেখেই নির্দেশ দেন, "যা এনেছ, পাঁচ ভাই মিলে ভাগ করে নাও ।" এভাবেই মাতৃ আদেশের বলি হতে হল দ্রৌপদীকে । তিনি ভালোবেসেছিলেন শুধুমাত্র অর্জুনকে । ওনার চরণে জানাই শতকোটি প্রণাম ।
ছবি : গুগুল
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...
-
ঘোষ বুড়ী ©সুদেষ্ণা দত্ত গ্রামের নাম সুন্দরগ্রাম--বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষা সুজলা,সুফলা,শান্তির নীড় ঘেরা এক গ্রাম।গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি...
-
আমার অকাজের লিস্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়। তালিকা...
-
অণু গল্প ----সাথী হারা। কলমে-- পারমিতা মন্ডল। দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়...












