শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১

শব্দ আলোচনা : *দুর্নীতি* লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট। *আজ হুল দিবস*

 শব্দ আলোচনা : *দুর্নীতি*

লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট। 



*আজ হুল দিবস*

কি এই হুল দিবস?সাঁওতাল বিদ্রোহ বা সান্তাল হুল এর সূচনা হয় ১৮৫৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও বিহারের ভাগলপুর জেলায়। ইংরেজ আমলে স্থানীয় জমিদার, মহাজন ও ইংরেজ কর্মচারীদের অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়ে সাঁওতালরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।এটি ছিল তাদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র গণসংগ্রাম। তাদের এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় সিধু, কানু, চাঁদ,ভৈরব প্রমুখ। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশের প্রবর্তিত চিরস্থায়ি বন্দোবস্তের ফলে তাদের উপর অত্যাচার বেড়ে গিয়েছিল। তাই সিপাহী বিদ্রোহের আগে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা সোচ্চার হয়েছিল। 

প্রতিবছর ৩০শে জুন পালিত হয় হুল দিবস বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস । ইতিহাসটা প্রায় ১৫০ বছর পুরনো । ১৮৬৫ সালে সিধু-কানুর নেতৃত্বে হয় আদিবাসীদের বিদ্রোহ । এটিই ইংরেজদের দেশথেকে বহিষ্কার করার প্রথম সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন । কানুকে ফাঁসি দেওয়া হয় আর সিধুকে গুলি করে মেরে ফেলে ইংরেজ সিপাহিরা । তাদেরই স্মরনে প্রতিবছর পালিত হয় হুল দিবস ।


সরকারি উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক ব্যাথার দিনটি এতদিন উৎসব হিসেবে পালিত হয়েছে। ভুলিয়ে দেবার চেষ্টা হয়েছে ভারতের মাটিতে ১ম মিছিল। প্রথম সাধারনের লড়াই। উৎসবের নেশা চোখে ধুলো ছড়িয়ে এই সব মানুষের জমির অধিকার এখনও স্থায়ী হয়নি। এখনও নারী কিংবা তাদের স্থাবর সম্পত্তি ভোগ করে তথাকথিত রাজনৈতিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মৃত্যু অসাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট এখনও তাদের নিত্য সঙ্গী। দুর্নীতি বাসা বেঁধে বেঁধে এত ময়লা পড়েছে যে। স্বাধীনতা র জন্য বিদেশী দের বিরুদ্ধে র লড়াইকে এখনও লড়তে হচ্ছে দেশীয় মানুষের বিপক্ষে। যে মাওবাদী ওদের জঙ্গলের নামে স্বপ্ন দেখিয়ে ছিল, তাঁরাই ফেক উৎসব করিয়ে কুমিরাশ্রু দেখায়। দুর্নীতি আরও নীবিড় দারিদ্র্য ও শ্রেনী বিন্যাস এঁকে দিচ্ছে , মূলজনগষ্ঠী থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে, কারন কিছু সুবিধা ভোগী মানুষ। অলচিকির স্বীকৃতি নিয়েও জমির লড়াই চলছে, হয়ত চলবে। সরকারি পদে বসে জনকল্যাণের নামে এই সব প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুবিধা র দুর্নীতির অসৎ চক্র রমরমা চলছে। 🙏

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...