"বল দাও মোরে বল দাও, প্রাণে দাও মোর শকতি"
যাহা অবিনশ্বর, তাহারই কর্তা স্বয়ং সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। 🙏🙏 আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই কিছু সৃষ্টি করার। তাইতো প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা শক্তির আরাধনা করি, নিষ্ঠার দ্বারা তাকে আহরণ করি, আর প্রচেষ্টার সাহায্যে এই সামর্থ্যকে ধরে রাখতে চাই।
আজকের আলোচনায় শক্তির নিত্যতা সূত্রকে একটি বিশেষ মাত্রায় ব্যাখ্যা করতে হবে। শক্তির প্রকারভেদের মধ্যে প্রধান দুটি ভাগ হলো শারীরিক ও মানসিক।
শরীরের জোর আনার জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে আর স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই সফল হওয়া সম্ভব। কিন্তু মনের প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করাই বড্ড কঠিন কাজ। চিন্তা এমনই একটি সুদূরপ্রসারী ক্ষমতা যার ব্যাপ্তি অসীম এবং অতল।
চিন্তার বিভিন্ন দিক রয়েছে, ১) মনন, ২)ধ্যান, ৩) স্মরণ, ৪) কল্পনা, ৫)উদ্বেগ, ৬)ভয় বা আশঙ্কা। এই প্রত্যেকটি রকম আমাদের প্রভাবিত করে একথা ঠিক, কিন্তু কোনোটির সুফল রয়েছে, আবার কোনোটির আধিক্যে আমাদের সর্বাঙ্গীণ ক্ষতি হয়ে যায়। সুতরাং, ভালো বা ধনাত্মক চিন্তা অর্থাৎ, মনন, ধ্যান, স্মরণ, সুপরিকল্পনা আমাদের মনের জোর সংক্রান্ত সব গুণাবলীকে রক্ষা করে এবং আমাদের সমৃদ্ধি ঘটায়। অর্থাৎ এই সুচিন্তার নিত্যতা সূত্র মেনে যে রুপান্তর ঘটে তা হলো আত্মপ্রত্যয়, যা আমাদের জীবন প্রেম, শান্তি, সুস্থতা, ইত্যাদির দ্বারা আলোকিত করে। চারদিকের ভালো, মন্দ সব পরিস্থিতির সাথেই সুষ্টুভাবে মোকাবিলা করার ইচ্ছা জন্মায়।
বিপরীতে, ভয়, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, হিংসা, হীনমন্যতা -এইসব ঋণাত্মক চিন্তাভাবনা থেকে তৈরী হয় আত্মগ্লানি, যা আমাদের চলার পথকে ক্রমশ সংকীর্ণ করে দেয়, এভাবে চলতে থাকলে একসময় আমরা লক্ষ্যে পৌঁছানোর আর কোনো ঠিকানার হদিস পাইনা।
পরিশেষে এটাই সারকথা যে, জীবন যেহেতু একটাই, সেহেতু আমাদের সকল সম্বলকে যতটা সম্ভব সদব্যবহার করতে হবে, অপচয় হলে এই স্বল্প সময়ে তাকে পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। তাই চিন্তাশক্তির মতো ঐশ্বরিক ক্ষমতাকে যেন কোনো লৌকিক প্রতিকূলতাতেই হার মানতে না হয়।
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মধুমন্তী দাশগুপ্ত।
খুব ভাল লাগল। অসাধারণ!👍👍❤❤⚘⚘⚘
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর 👌👌
উত্তরমুছুন