রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১

#বিষয়:ইহলোকের বন্ধন না কাটালে পরোলোকের সুখ লাভ হয়না। #কলমে:সৌগত মুখোপাধ্যায়

 #বিষয়:ইহলোকের বন্ধন না কাটালে পরোলোকের সুখ লাভ হয়না।

#কলমে:সৌগত মুখোপাধ্যায়






মানতে পারলাম না,কারণ পরোলোক বলে কিছু হয়না,যা হয় সেটা ইহলোক বাস্তব।
কার বাঁধন ত্যাগের কথা বলা হচ্ছে সেই লোকের যে আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে আমায় ভালোবেসেছে আমায় বড়ো করেছে।যে আমাকে পরোলোক নামক এক কল্পলোকের স্বপ্ন দেখিয়েছে।ঈশ্বর বলে যিনি সর্বশক্তিমান তিনি চেয়েছেন তার প্রীয় সৃষ্টি পৃথিবী সম সুখে পরিপূর্ণ হোক যা তার স্বার্গলোকে আছে,তাই তার নিজস্ব প্রতিনিধি মানুষকে পাঠিয়েছিলেন তার সাধ পরিপূর্ণ করতে।মানুষ জ্ঞান লাভ করলো প্রয়োজনের থেকে বেশী বিদ্বান হয়ে উঠলো।নিজেকে নিজের স্রষ্টা সর্বজ্ঞানী করে তুললো।চলার পথে আছার খেতে লাগলো,তার পর হতাশ হয়ে"ওই পারে সর্ব সুখ" এই ভেবে স্বপ্ন দেখতে লাগলো পরলৌকিক সুখের।কোন সুখ পরলোকে আছে যা ইহলোকে নেই,কেউ আছেন আমায় বলে দেবেন।বলার আগে মনে রাখবেন যেটা পাওয়ার জন্য পড়লোকের দিকে তাকিয়ে বসে আছেন সেটা ইহলোকে এতবছর কাটিয়ে কতটুকু নিজে পালন করার চেষ্টা করেছেন।আমি জানি উত্তর আমাদের কারোর কাছে নেই,তাই একটা অজুহাত আমরা সম্বল করে জীবনের পথে চলি ,ইচ্ছা থাকলেও উপায় ছিলো না,পরিস্থিতি অনুকূল ছিলো না।সবার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করি আপনাকে কে বলেছে আপনার ওই কল্প পরলোকে সব আপনার অনুকূলে থাকবে।এটার উত্তর আপনার কাছে জানা নেই তাই একটাই আপনার এইমুহূর্তে করণীয় আমার মুখ বন্ধ করার জন্য যত রকম আক্রমন আমাকে করার সেটা করার,তাতেও যদি আমি চুপ না করে আপনাকে সত্য দেখিয়ে আপনার ইগোয় আঘাত করতে যাই আমার লেখনী ডিলিট করে দেওয়া।এ ছাড়া আর কিছু আপনাদের করার নেই কারণ এই করেই মানুষ ইহলোকের সুখ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেছে এখন ফাঁকা ঝুলি নিয়ে পরোলোকের সুখ পাওয়ার কথা চিন্তা করে মনকে স্বান্তনা দিচ্ছে।

   ইহলোকের কোন বাঁধন ছেড়ার কথা আপনি ভাবছেন!সেই মা যে আপনাকে দশ মাস যন্ত্রনা সহ্য করে জন্ম দিয়েছিল তার মায়ার বাঁধন আপনি ছাড়বেন কি করে,সে যে আপনাকে মানুষ করতে গিয়ে নিজের সব সখ সাধ বিসর্জন দিয়েছিল,তার কাছে ইহলোকের আপনার মুখের হাঁসি পরিলোকের সুখের থেকে বেশি ছিলো।পারবেন ওই আপনার বাবার সেই পরিশ্রমের হিসাব চোকাতে যা দিয়ে আপনি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আজ পরোলোকের সুখ খুঁজতে চলেছেন,সেই লোকটা তো সেদিন পারেনি ইহলোকের কষ্ট ছেড়ে আপনাকে ছেড়ে পরোলোকের সুখের দিকে তাকিয়ে সময় কাটাতে।কোন বন্ধন ছেড়ে যাবার কথা বলছেন আপনার ভাই ,বোন,স্ত্রী ,পুত্র ,কন্যা যাঁরা দিনে রাতে আপনার সহচার্যে আনন্দে দিন কাটায়, তাঁদের মায়া ভালোবাসা ত্যাগের কথা বলছেন!আরে মশাই আপনি নিজে কতটুকু ইহলোকের সুখ আনন্দ খুঁজে দেখেছেন?কখনো দেখেছেন শিউলী ফুল ফোটার মহূর্ত, সূর্য ওঠা সকালে ঘাসের উপর প্রজাপতি উড়ে চলা,গঙ্গাফড়িং তিড়িং বিড়িং,শিশির পড়া পাহাড়ের ঘেমো গা,বর্ষার জলে দুকূল ভরা মরা নদীর উল্লাস,হরিণ মায়ের আদর করে তার শাবককে দুধ খাওয়ানো, রাতের আকাশে কালপুরুষের চারপাশে তারা খসা আলোর মালা।কখনো দেখেছেন মাঝ রাতে আপনার ঘুমন্ত পাড়ায় হেঁটে চলা পথ কুকুরের অতন্দ্র পাহারা দেওয়া।কিছুই দেখেননি দশটা পাঁচটার চাকরি দু বেলার রান্না খাওয়া,এর বর খারাপ এর বউ পালালো,ওর মেয়ে অসবর্ন বিয়ে,ওর ছেলে মানুষ হলো না।আর কিছু না পেলে তাস পাশা মোবাইল এইতো ইহলোকের কাছে আমরা সুখ বলে চিনি।নিজের নিজের শুধু নিজের,সব ভালো আমার সব খারাপ অন্যের এই তো আমাদের ইহলোকের বন্ধন।

   এসব ভুলে একদিন নিজেকে অন্যের জন্য খরচ করে দেখুন,দেখবেন আপনার স্বপ্নের পরলৌকিক সুখের রাজত্বে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন,তখন দেখবেন এই বন্ধন এতটাই অটুট আপনি আপনার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন,ভগবান আমায় আর একটা মানুষ জন্ম ধার দেবেন,কিছুইতো দেখা হলো না এই একটা ছোট্ট জীবনে।

  🙏🙏🙏🙏🙏🙏

কপিরাইট রিজার্ভ @সৌগত@মুখোপাধ্যায়#২০২১

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...