বাক্য আলোচনা-বাসর।
#বিষয় - *বাস্তব ঘটনা অনুধাবনের পরেই আমাদের শারীরিক কিছু পরিবর্তন হয়। তাই আমাদের ব্যক্তিগত অনুভব।*
# নাম- *জীবন যেরকম।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
জীবন প্রকৃতির দান। প্রকৃতিই জীবনকে করে গতিশীল,প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রত্যেকেই অধীন। আর প্রকৃতির সঙ্গে অস্তিত্বের জন্য লড়াই( struggle for existence)। এই লড়াইটাই অহরহ জন্ম দেয় বাস্তবতা।
বাস্তবতার জন্ম হয় বস্তুপ্রকৃতি থেকে। আর হৃদয়ে যখন সে প্রতিবিম্বিত হয়,তখন হৃদয়ে একপ্রকার প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। তারই নাম প্রকাশ। প্রকাশ ব্যতীত জীবন হয় না। প্রকাশ জীবনকে দেয় গতিশীলতা,হৃদয়ে প্রকাশ হল একপ্রকার গতিশীল অবস্থা। এই প্রকাশ মনের অধীন। মন যেভাবে গ্রহণ করবে সেভাবেই মন প্রকাশের ক্ষমতা ধারণ করবে।
এই মন শরীরের গঠনের উপর নির্ভর করে। শরীরে বিভিন্ন হরমোনাল গ্রন্থি আছে। তারাই প্রকাশের দুটি ধারা জন্ম দেয় - একটি বাস্তব ও অপরটি আবেগ।
আবেগ ছাড়া জীবন হয়না বলেই আবেগের কিছু ক্ষতিকর দিক আছে,কিছু উপকারী দিক আছে। এজন্য আমরা বলি জীবন মানেই ঠিক ও ভুলের অঙ্গ। জীবন মাত্রেরই ভুল থাকে। জীবন মানেই ঠিক থাকবে। এই ভুল ও ঠিকের ব্যালান্সই হল জীবনের অস্তিত্বের মূল। ভুল মরণকাঠি। ঠিক জিয়নকাঠি। যাকে বলে জীববিজ্ঞানের ভাষায় অভিযোজন।
জীবন প্রকৃতিজাত বলেই জীবনকে অভিযোজন করতে হয় ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে বস্তুর। বস্তু থেকে ভাবের আমদানিকে বলে বাস্তব। তা থেকেই বাস্তব ঘটনার জন্ম হয়। যেমন বাস্তব নিয়ম পথে নামলে বামদিক দিয়ে যেতে হয়। গাড়ি ঘোড়ার যাতায়াতের মধ্যে নিশ্চয় ব্যক্তি চলবে না। ট্রেনে,প্লেনে,জাহাজে ওঠা নামার একটা সিস্টেমটাই বাস্তব,কেননা তখন ব্যক্তি বস্তুর অধীন। বিন্দুমাত্র নিয়ম ভঙ্গ হলেই মৃত্যু নিশ্চিত। সমুদ্রের ঢেউ ধরার মধ্যে আনন্দ আবেগ থেকে জন্ম নেয়,কিন্তু আবেগের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে মৃত্যু আসে,তাই বস্তুর কাছে নিজের নিয়ম মেনে চলাটাই বাস্তব। এতো গেল বস্তুর সঙ্গে ব্যক্তির আবেগ ও বাস্তবের সম্পর্ক। সুখ, আনন্দ আবেগ থেকে উপলব্ধি,আর ব্যক্তির পরাজয় থেকে মৃত্যু বাস্তবের অনুভূতি। এবার আসি ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির আবেগ ও বাস্তবের সম্পর্কের কথায়।
আবেগ ছাড়া পারিবারিক বন্ধন হয় না,মানুষের তথা দেশের সেবা হয় না। ভালবাসা,দান,দয়া,সংযম,নির্ভিকতা,মুক্ত জীবনের উল্লাস ছাড়া জীবনের উপভোগ্য হয় না। আর এর মধ্যে জীবনের চরম সত্যগুলি জীবনের অস্তিত্বকে চরম মূল্যবান করে,আবেগের থেকেও বড় তখন বাস্তব। লোভ মানুষকে আবেগতাড়িত করে ক্ষতি করে বেশি,বাস্তবে শিক্ষা হয় তত। যেমন সারদা ও রোজভ্যালিতে টাকা জমালে কম সময়ে দ্বিগুণ ফিরে আসবে। এই লোভে পা দেওয়ার পর,নির্দিষ্ট সময়ে ডবল ফেরত হবে কি, যে টাকাটা জমিয়েছিল,সেটাই ফেরত এলো না,তারপর উপলব্ধিটা কেমন হয়। সকল কার্যই ফল দেয়। আর এই ফল হল সাফল্য হলে ভাল ফল ও ব্যর্থ হলে মন্দ ফলের উপলব্ধির হয়।
জীবন মানেই যেকোনো কর্ম। কর্ম মানেই ফল। ফল মানেই ভাল ও মন্দের উপলব্ধি।
ক্ষমতা লোভ,আইনের শাসন,শাসনের আইন, পরিশ্রমের ফল,স্বার্থপরতা, অ্যাথেলেটিক্সে কম্পিটিশন করে সোনার পদক গলায় ঝুললে অনুভূতি সঙ্গে সঙ্গে আসবে। লড়াইটা বাস্তব, তার ফলটা আবেগ দিয়ে উপভোগ। পরীক্ষার হলটা বাস্তব,ফলটা আবেগ দিয়ে উপভোগ্য। প্রত্যেক ক্রিয়ারই বিপরীত প্রতিক্রিয়া,আপেক্ষিকতাবাদ,বস্তুমূলক বাস্তবতা ও জীবনের সঙ্গে জীবনের যোগ যেখানে যত বাস্তবতা তত শিক্ষা হচ্ছে তার ফল। আর ফলভোগটা ব্যক্তিবিশেষের কাছে আবেগের উপভোগ্য। আবেগ ছাড়া উপভোগ্য হয় না। শুধু বাস্তব, শুধুই আবেগ জীবনকে পূর্ণতা দেয় না। তবে এটা সত্য বাস্তব কখনো ঠকায় না। আবেগ ছাড়া চলার উপায় নেই,সে আবার ক্ষেত্রবিশেষে ভয়ঙ্কর ক্ষতির কারণ হয়। বাস্তবের সঙ্গে আবেগের ব্যালান্সই জীবনকে খুব মূল্যবান করে।
******
সমৃদ্ধ হলাম।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর
উত্তরমুছুনবাঃ খুব সুন্দর
উত্তরমুছুনভীষণ ভালো লাগলো..👌💐
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর।
উত্তরমুছুনখুব ভাল লাগল।
উত্তরমুছুন