বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

অভিযোজন ও অভিব্যক্তি(কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)



এই বাক্যটির বহুমুখী আলোচনা করা সম্ভব। যেমন- বিজ্ঞানভিত্তিক, দার্শনিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক। আমি এই বাক্যটির বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।


বাক্যটি থেকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যে অর্থ দাঁড়ায় তাকে বলা হয় অভিযোজন বা Adaptation এবং এই অভিযোজনের হাত ধরেই অতি ধীরে আসে অভিব্যক্তি বা Evolution. 


অভিযোজন:- পারিপার্শ্বিক পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে বা পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার নামই অভিযোজন। অভিযোজনের ফলে জীবের গঠনগত, কার্যগত ও আচরণগত পরিবর্তন দেখা যায়। পরিবেশের সাথে মানিয়ে না চলতে পারলে সেই জীব অবলুপ্ত হয়ে যেতে পারে কালের নিয়মে। পরিবেশ ও প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে বংশানুক্রমিকভাবে অতি ধীরগতিতে জীবদেহে যে পরিবর্তনগুলো(জেনেটিক মিউটেশন) আসে তাকেই অভিব্যক্তি বলা হয়। কয়েকটা উদাহরণ দিয়ে বলি:-


●আমরা অর্থাৎ আধুনিক মানুষ আগে কাঁচা মাংস খেতো, সেই কাঁচা মাংস পরিপাকের জন্য আমাদের বৃহদান্ত্রে "সিকাম" নামক অংশ ছিল, যা কালের নিয়মে আজ লুপ্তপ্রায় অঙ্গ "এপেন্ডিক্স" হিসেবে রয়ে গেছে। কিন্তু, গিনিপিগ নামক প্রাণী যার সাথে মানুষের অন্তর্গঠনের প্রচুর মিল পাওয়া যায়, তাদের শরীরে এখনো সিকাম রয়ে গেছে, কেননা তারা কাঁচা মাংস খায়। আমরা নিজেদেরকে অভিযোজিত ও বিবর্তিত করেছি তাই সিকাম আজ মানবদেহে এপেন্ডিক্স।


●হাইরাকোথেরিয়াম অর্থাৎ ইওসিন যুগের ঘোড়ার থেকে কালের নিয়মে ইকুয়াস বা নব্য যুগের ঘোড়া অতি ধীরগতির বিবর্তিত হয়েছে। প্রাচীন ঘোড়া উচ্চতা ও শারীরিক দিক দিয়ে অনেক দুর্বল ছিল। তাই সহজেই তারা খাদকের হাতে মারা পড়তো অথবা খাদ্য গ্রহণের জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রমের দরকার তা করতে পারতো না। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে আসে বিবর্তন। উচ্চতা বেড়ে যায় ও দৈহিক আকার-ক্ষমতা বেড়ে যায়। তাই আড়াই ফুটের হাইরাকোথেরিয়াম আজ প্রায় দুই মিটারের ইকুয়াস।


●জিরাফের ছোট গলা থেকে লম্বা গলার উদ্ভব হয়েছে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যগ্রহণের প্রয়োজনে।


●জলে সাঁতার কাটার সুবিধার্থে হাঁসের পায়ের আঙুলগুলো চামড়া দিয়ে জোড়া(লিপ্তপদ)।


●মরুভূমিতে যেহেতু জলের খুব অভাব, তাই বাষ্পমোচন আটকাতে ক্যাকটাসের পাতাগুলো কাঁটায় পরিণত হয়েছে।


●খেচর বা যারা আকাশে উড়তে পারে, তাদের সামনের পা ডানায় পরিণত হয়েছে।তাদের শরীরের ভেতরে বায়ুথলি থেকে ও হাড়গুলো ফাঁপা হয়। 


এরকম কত হাজার হাজার উদাহরণ আছে যা আমাদের শারীরিক পরিবর্তন ঘটায়। পারিপার্শ্বিক অবস্থা অনুভব ও অবলোকন করে আমরা নিজেদেরকে সেই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের রক্ষা করে চলেছি।

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

৩টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...