বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

লোকশিক্ষা (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)

লোকশিক্ষা: জনসাধারণের শিক্ষা বা mass education হল একটি দেশের জনশিক্ষা বা লোকশিক্ষার জন্য সেই দেশের মানুষকে দেশ ও দশের মঙ্গলের চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার শিক্ষা দেওয়া। 


বঙ্কিমচন্দ্রের মতে লোকশিক্ষার অন্যতম উপায় হল '


কথকতা'। 


সত্যিই একজন আদর্শ কথক তার জ্ঞান-বাচ্য-বাক্য-ভঙ্গিমা-ভক্তির মাধ্যমে যে আদর্শ লোকশিক্ষা দিতে পারেন, তা আর অন্য কিছুতে মেলে না। একজন ভালো বক্তা তার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে কর্ণ হতে মর্মে প্রবিষ্ট হতে পারে। সেই সুশিক্ষার আলোকে দূরীভূত হয় অজ্ঞানের অন্ধকার।  উদাহরণ:- শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। পুঁথিগত বিদ্যার বাইরেও যে মানুষকে শিক্ষিত করা যায় তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি। তাঁর প্রতিটি কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝলে অবাক হয়ে যেতে হয়। যেমন- "টাকা মাটি, মাটি টাকা"- এই বাক্যটি যে যেমনভাবে নেবেন তাতেই তাঁর জ্ঞানলাভ হবে। এই বাক্যের মানে কারোর কাছে টাকা মাটির ন্যায়। অতি সস্তা। যেন কোনো মূল্যই নেই টাকার। আবার অনেকের কাছে এর মানে, মাটিতেই টাকা, সে তুমি ভূমি কর্ষণ করো বা জমি কিনে রাখো। 


আরেকটি বাক্য:- "পাঁকে থাকো পাঁকাল মাছ হয়ে"- এর অর্থ যত খারাপ কদর্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা হোক না কেন, তোমার নৈতিক চরিত্রে যেন দাগ না লাগে।


আরেকটি বাক্য যেটা আমার মতে রামকৃষ্ণদেবের শ্রেষ্ঠ বাক্য:- "যত মত, তত পথ"- এর মানে কোনো কিছুর শেষে পৌঁছতে হলে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ বেছে নেয় ভিন্ন ভিন্ন পথ। কেউ চালাকির দ্বারা, কেউ সাধনার দ্বারা, কেউবা অসৎ উপায়ে আবার কেউ কঠোর পরিশ্রমে। গন্তব্যস্থল একটাই। যেমন- কোনো একটা পরীক্ষায় ভালো ফলের আশায় কেউ কঠোর পরিশ্রম করে আবার কেউ ভালো নম্বর পেতে অসৎ পথে হাঁটে। শেষে হয়তো দুজনেই একই নম্বর পায়। কিন্তু, যেপথ সত্য ও সৎ, তাতে চলার আনন্দই আলাদা। যত মত, তত পথ। 


লোকশিক্ষা দেবার মত শিক্ষকের আজকালকার দুনিয়ায় বড় অভাব। অডিও-ভিজুয়াল লেকচারে বিভিন্ন ধর্মগুরুর(সৎ বা অসৎ) সৎসঙ্গ অনুষ্ঠান দেখে কতটা লোকশিক্ষা অর্জন করা যায় আমার জানা নেই। 


তবে আধুনিককালে মিডিয়া, অডিও ভিজুয়াল বই, রেডিও, টিভি, মোবাইল ও ইন্টারনেটের কল্যানে আমাদের অজান্তেই দেশের অনেক শিশু বা কিশোর(মুষ্টিমেয়) সুশিক্ষার পথে যেতে সক্ষম হয় উঠছে। আশা করা যায় আগামীতেও আসবে সোনার দিন।

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...