বিদেশী ব্যাংকের ঝাঁ চকচকে বিশাল লবিতে বসে আছে তুয়া। অপেক্ষা করছে ওর স্বামী, সুমিতের জন্য। নতুন একটা স্কিম খোলার জন্য এখানে আসা। সুমিতের মুখে শুনেছে বটে, খুব বেশি না হলেও লাভবান স্কিম! ঠকার সম্ভাবনা নেই। এরিমধ্যে এক কাপ কফি খাওয়া হয়ে গেছে। সুমিতের দেখা নেই। অস্থির হয়ে ফোন করতেই ওপ্রান্ত থেকে লাইন কেটে দিলো। একটু পরেই পিং শব্দে সুমিতের মেসেজ ঢুকলো,"ব্যাটারীর চার্জ শেষের দিকে। কাছাকাছিই আছি। ধৈর্য ধরো"!
বললেই কি ধৈর্য রাখা যায়?! বাবাইয়ের স্কুল ছুটি হতেও আর বেশী দেরি নেই। টাইম মতো পৌঁছাতে না পারলে, ছেলের মন খারাপ হয়। একবার দিদিকে বলে দেখবে নাকি?? বাড়ির কাছেই তো স্কুল। বাড়ি ফেরার সময় না হয় তুলে নেবে বাবাই কে। সাথে সাথেই দিদিকে ফোন লাগায় তুয়া। কথা বলতে বলতেই চোখে পড়ে, সামান্য দূরের কাউন্টারের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক সৌম্য দর্শন, সুদর্শন যুবকের দিকে! একটু ঝুঁকে এক বিদেশী ভদ্রলোকের সাথে কথা বলছে। কথা শেষ করে, মোবাইল টা হাতে নিয়ে এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে তুয়া। আদি,, আদিত্য না?! রিম লেস চশমার আড়ালে ঢাকা পড়েছে সেই কবেকার দেখা উজ্জ্বল চৌকো চোখ! চোখের নিচে কালিও কি পড়লো একটু?!
একই কলোনীর, একই বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বেড়ে ওঠা দুজনের! এক সাথে, একই স্কুলে ভর্তি। একসাথে টিফিন ভাগ করে খাওয়া থেকে শুরু করে কলোনীর মাঠে সাইকেল চালানো শেখা, শীতের ভোরে শিউলি ফুল কুড়োনো কিংবা বড়ো পুকুরের বুকে রাজহংসীর মতো সাঁতার কাটার সঙ্গী ছিলো আদি! এক মুহুর্তের জন্যও তুয়া ওর পিছু ছাড়ত না। অনেক সময় আদি ওকে ক্ষেপাত এই বলে যে, "আচ্ছা, তুই কি ছেলে বল?? যে সবসময় আঠার মতো পিছনে লেগে থাকিস! আমি ফুটবল, ডাংগুলি, কাবাডি বা ক্রিকেট, যেটায় খেলতে যাই না কেনো, তোকেও দলে নিতে হয়! কেন রে?? তোর কি মেয়ে বন্ধু নেই?!" মাঝে মাঝেই আদি তুয়াকে ফেলে চলে যেতো খেলতে। তুয়াকে তো আর বলতে পারতো না যে, ওর বন্ধুরা আড়ালে ওকে কতোটা ক্ষেপায়, তুয়ার নাম বলে?! সেবার ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপে, প্রতিপক্ষের একজন, তুয়ার ছেলেদের সাথে একই দলে খেলা নিয়ে বাজে মন্তব্য করায়, আদি মারপিট করে কি রক্তারক্তি কাণ্ড বাঁধিয়ে ছিলো! আচ্ছা, ঘুষির আঘাতে ভ্রুর উপরে যে চোট পেয়েছিল, সেই ক্ষতের দাগ কি এখনো আছে আদির?! তুয়া যেন গভীর দৃষ্টিতে খুঁজে সেই কাঁটা দাগ!!
অফিসে কর্মরত অবস্থায় আদির বাবার হঠাৎ হার্ট এটাকে মৃত্যুর ঘটনা, ওদের পুরো পরিবারকে যেনো এলোমেলো করে দেয়। কয়েকমাস পরেই আদিরা কলোনী ছেড়ে চলে যায় গ্রামের বাড়িতে। যাওয়ার আগে আদি কথা দিয়েছিল তুয়াকে যে, বাড়ি পৌঁছেই সে ঠিকানা সহ চিঠি দেবে! যদিও সেই চিঠি কখনো তুয়ার ঠিকানায় এসে পৌঁছায়নি! আদি ছিলো ওর বেস্ট ফ্রেন্ড ফরএভার! পরবর্তীকালে, তুয়ার জীবনে অনেকের সাথেই বন্ধুত্ব হয়েছে, কিন্তু আদির মতো 'মন ছুঁয়ে' বন্ধু বলতে কাউকেই পায়নি তুয়া। ওর জীবনে বন্ধুত্বের জায়গায়, আদির শুন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়।
ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে তুয়া কাউন্টারের দিকে এগুতে থাকে। এতো বছর ধরে যে প্রশ্নটা বুকের ভেতরে সযত্নে পুষে রেখেছিল, তার উত্তর আজ জানাতেই হবে ওকে! জানতে হবে, তুয়াকে নিয়ে আদির মনের ভাবনার কথা! জানাতে হবে, একটা চিঠির অপেক্ষাই কতো রাত সে বিনিদ্র কাটিয়েছে! কত বিরক্ত সে করেছে ডাকপিওন কাকা কে! আজ সব প্রশ্নের উত্তর চাই ই তুয়ার। আদির কাছে এও জানতে চাইবে, "দুজনের মাঝে শুধুই বন্ধুত্ব ছিলো?? আজ সবকিছুর উত্তর পেতে হবে তুয়াকে! ভাবতে ভাবতে সে কাউন্টারের কাছাকাছি যেতেই পেছন থেকে সুমিতের ডাক ভেসে আসে। আর তুয়া... নোম্যান্সল্যান্ড এ দাঁড়িয়ে, স্থানুর মতো চেয়ে থাকে ওর ফেলে অতীত আর বর্তমান কে!!
||সমাপ্ত||
Copyright©️ All rights reserved for Pallabi Barua

দারুন দারুন👌👌👌😊😊😊😊
উত্তরমুছুনঅপূর্ব
উত্তরমুছুনখুব ভাল লাগলো পড়ে 👌👌👌
উত্তরমুছুনদারুন। ভালো💝
উত্তরমুছুনভীষণ ভালো লাগল
উত্তরমুছুন💐💝
উত্তরমুছুনদারুণ! দারুণ!অসাধারণ!👌👌👍👍💯💯💯💅💅💅💅
উত্তরমুছুনঅসাধারণ 🙏
উত্তরমুছুনদারুণ ।💐💐
উত্তরমুছুন