শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

# বিষয় - আধ্যাত্মিক পর্ব-১৪ মৃদুল কুমার দাস।

# নাম  - 'যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি'
                 (আধ্যাত্মিক)
                   পর্ব- ১৪

  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 
হ্যালিফ্যাক্সে 'ক্রশলি হিথ' আবাসিক স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা কলিনজ তাঁর ঈশ্বরকে জানার জন্য ভাব বিনিময়ের প্রধান আশ্রয়। এখন মার্গারেট অনেক সমঝদার। কলিনজও সোহাগ দিয়ে মার্গারেটের ভেতরপানে তাকাতেন। কলিনজ এতো আন্তরিক হয়ে পড়াতেন, প্রতিনিয়ত ঈশ্বর সম্পর্কে প্রশ্নের পর প্রশ্নের শেষ হতো না। ঈশ্বর সম্পর্কে জিজ্ঞাসার আকন্ঠ্য তৃষ্ণা যেন তাঁকে স্থির থাকতে দিত না। ইত্যবসরে স্কুলের শেষ পরীক্ষা আসন্ন। ১৮৮৪ সাল। পরীক্ষায় সসম্মানে পাশও করলেন। স্কুলের বাঁধাধরা গন্ডি কেটে নিজেকে উন্মুক্ত আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়ার মনে মনে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, কিন্তু মিস কলিনজের সঙ্গে ফেলে আসা দিনগুলোর জন্য মন কেমন করতো -- কি একটা বেদনা মার্গারেটকে ঘিরে ধরতো! সময়ে ভোলার ব্যপারও যে ছিলনা। তিনি যদি ভুলে যেতেন তাহলে খ্রীষ্টান ধর্মের গভীরে যাওয়া আর হয়ে উঠতো না। খ্রিষ্টান ধর্মের সঙ্গে পৃথিবীর অন্যসব ধর্মের তুলনা করার জায়গা গড়ে উঠতে লাগলো। সবচেয়ে তাজ্জব ব্যাপার বৌদ্ধধর্মকে তাঁর খুব ভালো লাগতো। বুদ্ধ সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন। যা খ্রীষ্টধর্ম দিতে পারতো না, বৌদ্ধধর্মের মধ্যে অনেক মিমাংসা পেতেন। কিন্তু মনে অনেক মিমাংসা যে বাকি!
  পাহাড় প্রমাণ সংশয়ের  মধ্যে তিনি আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দিকে গেলেন না। আর্থিক অবস্থাও খুব ভালো নয়। মায়ের পাশে সাহায্যের হাত বাড়াতে ছাত্রী থাকাকালীন মনে মনে একপ্রকার সিদ্ধান্তই নিয়ে রেখেছিলেন শিক্ষিকা পেশার পথেই হাঁটবেন, কেননা তাঁকে যে মিস কলিনজের সার্থক উত্তরসুরী হতেই হবে। কলিনজকে শ্রদ্ধা জানানোর তাই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। শিক্ষিকা হিসেবে তাঁকে যে কলিনজের আদর্শ বয়ে নিয়ে চলতেই হবে,এ যে কর্তব্যের বড় বালাই।
  'চার্জ নিউজ' পত্রিকা দপ্তরে একগোছা দরখাস্ত পাঠিয়েই,পছন্দের স্কুলে যাওয়ার জন্য ব্যাগ অ্যান্ড বেগেজ নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন,ভাব এমনি স্কুল কর্তৃপক্ষ যে তাঁকেই পছন্দ করবেন সে ব্যপারে গভীর আত্মবিশ্বাস কাজ করেছিল।
চিরকাঠের আখরোট-রঙা বাক্সে ভরলেন রোজকার পরার মতো উঁচু কলারওলা পোশাক, মিহি সুতোর বুটি তোলা ঘণ কুচি দেওয়া কালো সার্জ,দামি স্কচ, সিল্কের জামা,তাতে লতানো কলার,আর ফোলা হাতায় লেসের ঝালর।
    ১৮৮৪ সালের তখন গ্রীষ্মকাল। ডাক পেলেন ইংল্যান্ডে পাহাড় আর হ্রদের মনোরম পরিবেশে কেসউইকের এক নামজাদা প্রাইভেট স্কুলে গভর্নরস হিসেবে যোগ দিতে। শিক্ষিকা হিসেবে তাঁর কর্ম জীবন কোন খাতে বইতে লাগলো আসবো পরের পর্ব নিয়ে....
             (চলবে)
   @কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।


৫টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...