# নাম- 'যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি'
( আধ্যাত্মিক)
পর্ব- ১১
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
মার্গারেট এলিজাবেথের প্রবল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের টানে মেরি পিতা হ্যামিল্টনের ঘোর আপত্তি সত্ত্বেও পালিয়ে এসে রিচমন্ডের সঙ্গে ঘর বাঁধলেন।
রিচমন্ড উত্তর আয়ারল্যান্ডের টাইরনে ডাংগানন নামে এক আধা শহরে ব্যবসা করছেন। মেরি ও রিচমন্ডের দাম্পত্য জীবন বেশ কাটছিল। সাথে সাথে দুজনের দুই দেশপ্রেমিক (জন নোবেল ও হ্যামিল্টন) পিতার অবদানের কথা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। তাই নিশ্চিন্ত গেরস্থালির ঘেরাটোপ ছিঁড়ে দু'জনের বেরিয়ে পড়তে খুব ইচ্ছে করে।
সন্তান সম্ভবা মেরি। আসছে প্রথম সন্তান। মনে আনন্দের বন্যা। কিন্তু সন্তান ঘিরে খুব টানাপোড়েন, কন্যা না পুত্র। প্রসব যন্ত্রনায় মেরির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। শরীরের অসহ্য যন্ত্রণা। যন্ত্রনায় নীল হতে হতে মেরি অস্ফুটে, কোনো অলৌকিক শক্তি যেন মেরিকে দিয়ে বলিয়ে নিল,যেই সন্তান হোক যেন সুস্থতা নিয়ে জন্মায়, আর তাকে তোমায় নিবেদন করব। ধর্মপ্রাণ পরিবারের থেকে এই সংস্কার স্বাভাবিক ছিল। সুস্থতা নিয়ে জন্মাল কন্যা সন্তান। পূর্ব পরিকল্পিত ভাবেই নাম মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল দেওয়া হলো। সংক্ষেপে মার্গট নামে ইউরোপ মানল।
কিন্তু ভগিনী নিবেদিতা নামকরণ করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।
প্রসব যন্ত্রণার সময় মাতা মেরি সন্তানকে ঈশ্বরে নিবেদনের এই ঘটনা স্বামীজী জেনেছিলেন শিষ্যা সম্পর্কে। সেই মুহূর্তকে চিরন্তন মূর্তি দিতেই দূরদ্রষ্টা স্বামী বিবেকানন্দ তাই নিবেদিতা নামকরণ করেছিলেন।
সেই সাথে ভগিনী কেন? এরও ব্যাখ্যা এইভাবে হতে পারে চিকাগোতে স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতায় সমবেত শ্রোতৃমন্ডলীকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে আমেরিকানদের ভগিনী ও ভ্রাতা বলে যে সম্বোধন করে বক্তৃতা শুরু করেছিলেন,গোটা সভাকক্ষে প্রবল করতালি আর করতালিতে সমুদ্রের ঢেউকেও হার মানিয়ে ছিল, সেই নারী জাতির প্রতি সম্মান জানাতে ও পাশ্চাত্যের কাছে বার্তা দিতে স্বামীজীর এই ভগিনী যোগ যেন নিবেদিতা নামের যুৎসই অলংকার হয়ে গেল। মানাল কেমন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কিন্তু ভগিনীর বদলে লোকমাতা যাঁরা দিলেন সংস্কারে কেমন যেন খটকা লাগে। যাঁরা বললেন তাঁরা আবার যে সে নন। তাও স্বীকৃতি পেল। সাপেক্ষে প্রমাণ হিসেবে এই পোড়া দেশ ভারতবর্ষের জন্য তাঁর ত্যাগ তিতিক্ষার ইতিহাসকে সামনে এনেছেন। কিন্তু স্বামীজীর দেওয়া নাম সত্যিই অতি মধুর। যেন সংস্কারে বৈদিক মন্ত্রের মত লাগে ভগিনী নিবেদিতা।
যা বলছিলাম এই নিবেদিতা মেরির ঈশ্বরের কাছে নিবেদন মুখে নয়, নিবেদিতা কাজে কিভাবে করেছিলেন, সুদূর ইউরোপীয় জীবনযাপনে তাঁর কিভাবে প্রস্তুতি চলছিল, স্বামীজী অদূর ভবিষ্যতে ভারতের জন্য কিভাবে নিবেদিত প্রাণ হবেন মার্গারেট, ভারতবর্ষের নারী জাগরণের জন্য তাঁর মত একজন সিংহিনির কতখানি প্রয়োজন, তারই রূপকার ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। এই ঈশ্বরে নিবেদনের প্রস্তুতি জন্মভূমি ইউরোপে বসে কেমন করে হচ্ছিল আসব পরের পর্বে।
নাম কেন নিবেদিতা হলো তা তো জানা গেল। স্বামীজীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে মার্গারেটের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে তো হবেই। তাই ফিরে দেখি এই বিদুষিনীর জীবনের আদি পর্ব কি বলে!
(চলব)
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
দারুণ চলছে🙏👌🏻
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। ❤❤
মুছুনদারুন হচ্ছে
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। ❤❤
মুছুনঅপূর্ব 👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। ❤❤
মুছুনঅপূর্ব লাগছে 🙏🙏
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। ❤❤
উত্তরমুছুনখুব ভাল লাগল।
উত্তরমুছুন