# নাম- 'যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি'
(আধ্যাত্মিক)
পর্ব - ১০
✍ -
মৃদুল কুমার দাস।১৮৯৩ বিশ্বজয় করলেন স্বামী বিবেকানন্দ। এই ১৮৯৩ এ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে তিনটি মাইলফলক রচিত হলো -
ধর্মীয় দিক দিয়ে স্বামীজীর বিশ্বজয়। এই বছরই শ্রীঅরবিন্দের ভারতে পদার্পণ,আর দক্ষিণ আফ্রিকায় গাঁধীজীর পদার্পণ- ভারতবর্ষ আফ্রিকাকে মোহনদাস দেবে,আর আফ্রিকা ভারতকে এক মহাত্মা ফেরত দেবে।
স্বামী বিবেকানন্দের ১৮৯৩ এর ১১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে শুরু হয়ে গেল নতুন অধ্যায়। পাশ্চাত্য একেবারে এই গেরুয়া বসনধারী সন্ন্যাসিতে মন্ত্র-মুগ্ধ।
পাশ্চাত্য থেকে স্বামীজী পেয়ে গেলেন ভারতের জন্য এক সিংহিনী নারীকে। এদেশে নিয়ে এলেন মার্গারেট নোবেলকে। দীক্ষা দিয়ে নতুন নাম দিলেন ভগিনী নিবেদিতা।
ঐ যে চিকাগোর ধর্ম সম্মেলনে প্রথম সম্বোধন 'ভগিনী' ... ব্যাস সেটাই হল মার্গারেটের এদেশের জন্য পরিচয়-উপাধি। কে এই ভগিনী নিবেদিতা। আসুন ভগিনী নিবেদিতার সঙ্গে পরিচয় হই।
উত্তর আয়ারল্যান্ড। ডানগ্যানন নামে একটি ছোট্ট শহর। ১৮৬৭,২৮-অক্টোবর, পিতা ধর্মযাজক রিচমন্ড স্যামুয়েল নোবেল,মাতা ইসাবেল মেরীর কোল জুড়ে যে কচি দুধের শিশু কন্যা মার্গারেট নোবেলের জন্ম হয়েছিল কেবল ভারতবর্ষের জন্য,তা সেদিন কেউ কি জানতে পেরেছিল!
তাহলে শুরু করা যাক বেশ কিছুটা পেছন থেকে।
শুরু হোক লিভারপুলের কথা দিয়ে। লিভারপুলের অষ্টাদশী কন্যা মার্গারেট এলিজাবেথ ১৮২৮-এ এলেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের রষ্ট্রেভর-এ এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে। এখানে এসেই প্রেমে পড়লেন চল্লিশ বছর বয়সের জন নোবেলের সাথে। এই নোবেল তখন উত্তর আয়ারল্যান্ডের মুক্তি সংগ্রামের জনপ্রিয় নেতা। কর্মসূত্রে আবার ওয়েসলিয়ান চার্চের ধর্মযাজক। বছর তিন অন্তর অন্তর তিনি নানা জায়গায় বদলি হন। সেই কারণে দেশের বিশাল সংখ্যক মানুষের সঙ্গে তাঁর ভালই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এই সূত্রে দেশনায়ক হয়ে ওঠার তিনি যোগ্য জায়গা পেয়েছিলেন। এমন বহির্মুখী পাত্রকে মেনে নেওয়া এলিজাবেথের পরিবারের থেকে এল প্রবল আপত্তি। নাছোড়বান্দা এলিজাবেথ ঘর ছাড়লেন, জনের সঙ্গে ঘর বাঁধার জন্য। এলিজাবেথ এগারোটি সন্তানের জননী হলেন। তবে সাকুল্যে বেঁচেছিল ছ'টি। তাঁরা যখন নিতান্তই খুদে সব, তাদের রেখে জন মারা গেলেন। অবশ্য ততদিনে এলিজাবেথ পঁয়ত্রিশ বছরের এক উদীয়মান দেশনেত্রী হয়ে উঠেছেন। এই দম্পতির জীবিত সন্তানদের মধ্যে শেষের দিক থেকে তৃতীয় ও জীবিতদের মধ্যে চতুর্থ হলেন স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল, যিনি আমাদের নিবেদিতার পিতা।
পিতৃহীন সন্তান। সাংসারিক অনটন এল স্বাভাবিক নিয়মে। বিধবা মায়ের খুব ভরসার ছিলেন রিচমন্ড। মায়ের আর্থিক অনটন দূর করতে নামজাদা বস্ত্র ব্যবসায়ী কাকার দোকানে থেকে রোজগারে নেমে পড়লেন। ব্যবসা তরতরিয়ে বাড়তে লাগলো। কিন্তু রিচমন্ডের মন তাতে খুব একটা সায় দিচ্ছিল না। তিনি হতে চান বাবা-মায়ের মত ধর্ম গ্রন্থ আলোচক ও আর দেশ সেবা। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়া কোনোদিন এক হয় না। ব্যবসাতেই পড়ে থাকতে হল।
এই ব্যবসার সূত্রে প্রতিবেশী ও সম্পন্ন কর্ক ব্যবসায়ী,আয়ারল্যান্ডের হোমরুল আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা হেমিল্টনের কন্যা মেরিকে তাঁর খুব পছন্দ। মেরীরও পছন্দ রিচমন্ডকে। অবশ্যই রিচমন্ডের মায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জন্য। মার্গারেটের প্রতি মেরীর এতো গভীর শ্রদ্ধা ছিল যে, এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যদি মেরী ও রিচমন্ডের প্রথম সন্তান মেয়ে হয় তাহলে তাঁর নাম থাকবে শাশুড়ির নামের সঙ্গে নাম মিলিয়ে মার্গারেট এলিজাবেথ, ওরফে মার্গট। তথা মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল, আমাদের ঘরের নিবেদিতা।
নিবেদিতার নামের পেছনে যদি এই রহস্য থেকে থাকে, তাহলে নিবেদিতা নামের পেছনের ইতিহাসও খুব মজাদার। সেই কথায় আসব পরের পর্বে....
( চলবে )
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
💐💝
উত্তরমুছুনদারুণ চলছে দাদা🙏👌🏻
উত্তরমুছুনঅসাধারণ ,অনেক নতুন তথ্য পাওয়াগেলো।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ অধ্যায়। শুভেচ্ছা 💐💐
উত্তরমুছুনখুব তথ্য সমৃদ্ধ লেখা।চালিয়ে যাও ভাই।অপেক্ষায় রইলাম।
উত্তরমুছুনঅনেক নতুন তথ্য জানলাম।দারুণ দারুণ চলছে দাদা।
উত্তরমুছুন