# নাম- 'যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি'
( আধ্যাত্মিক)
পর্ব- ১৫
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
আধ্যাত্মিক পরিবারে তিনি জন্মেছিলেন। গড়পড়তা সাধারণ জীবনের থেকে একেবারে আলাদা ছিলেন। দিব্যি নিরুপদ্রবে সময় কাটতো সাহিত্যচর্চা, আন্তরিক শিক্ষকতা ও আত্মলীল আধ্যাত্মিক অণ্বেষায়।
কিন্তু সেই ভিৎ নড়ে গেল উইলম্বডনে শিক্ষকতা করতে এসে। ইংল্যান্ড তখন ভয়াবহ আর্থিক অনটনের কবলে। বেকারত্বের জ্বালা আষ্টেপৃষ্ঠে। এই ক্রাইসিসের পেছনে যথার্থ কারন নিয়ে 'উইলম্বডন নিউজ'-এ রাজনৈতিক প্রবন্ধ লিখে জনমত গঠনে নেমে পড়লেন। 'ফ্রি আয়ারল্যান্ড' নামক বিপ্লবী দলে যোগ দিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে নামজাদা সব নেতৃত্ব তাঁকে আকৃষ্ট করতেন।
বিপ্লব শিয়রে। বিপ্লব বলে কয়ে আসেনা। সমাজের দাবিতে বিপ্লবের জন্ম স্বতঃস্ফূর্ত। বহ্মচারিনী মার্গারেট জীবনের চাহিদা পূরণের হঠাৎ মোড় নিলেন। ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখলেন স্বপ্নের মানুষকে নিয়ে।
তিনি ওয়েলসবাসী। ইন্জিনিয়ার। সৌম্য কান্তি। রেক্সামের অফিস পাড়ায় যোগাযোগ। আলাপ। তারপর ঘণিষ্ঠতা। স্কুল ছুটির পর রোজ দেখা হতো। কাজের একঘেয়েমিতা কাটাতে ছুটির দিন গ্রামের নিরিবিলি পথে ঘুরে বেড়াতেন। মনের মতো প্রকৃতির খুব কাছাকাছি। সাহিত্য চর্চায় দু'জনের সমান আগ্রহ। ভদ্রলোকের মায়ের খুব পছন্দ মার্গারেটকে। পরিনয় থেকে বাগদানের সময় যখন উপস্থিত আকস্মিক দুঃসংবাদ এল ভদ্রলোকের থেকে। ভদ্রলোক ফুসফুসের মারাত্মক যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত। মৃত্যু শিয়রে। যে মারণ রোগে মার্গারেট তাঁর বাবাকে হারিয়ে ছিলেন অকালে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সরে আসতে বাধ্য হলেন। এই ঘটনায় মার্গারেট মুচড়ে পড়লেন। রেক্সাম থেকে দ্রুত বদলি নিলেন।
চলে এলেন উইলম্বডনে। এখানে দ্বিতীয় প্রেম। ভদ্রলোক ব্যাঙ্কের ক্যাশিয়ার। নাম ম্যাকডোনাল্ড। সালটা ১৮৯৪। নিজের স্কুল নিয়ে খুব ব্যস্ত। তাঁকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ম্যাকডোনাল্ড। দেড় বছরের প্রণয় পর্ব। টিকল না আর। হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন তিনি প্রণয়ের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বির মুখে পড়েছেন। ম্যাকডোনাল্ডের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যান এলো। অগত্যা নিজেকে সরিয়ে নিলেন। মানসিক ভাবে খুব বিপর্যস্ত। কিন্তু তখন তাঁর কর্মজীবনের স্বর্ণকাল চলছে। তাই এসব মায়ায় নিজেকে আবদ্ধ না রাখার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিলেন। সিদ্ধান্ত নিতে খুব কষ্ট হয়েছিল। কেননা এতো একপ্রকার পরাজয়। সব কাজ ফেলে ছুটি নিয়ে মার্গারেট ছুটলেন হ্যালিফাক্সে। বাল্যের শিক্ষিকা কলিনজের (ফ্রেন্ড,ফিলোজফার,গাইড..) বুকে মুখ লুকিয়ে অঝোরে কাঁদলেন। অনেক অভিযোগ করে বুকের জ্বালা মেটালেন। কলিনজ আবার সেই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন। মার্গারেটের সব ক্ষত নিমেষে নিরাময় করে দিলেন। এক সপ্তাহ পর আবার উইলম্বডনে ফিরলেন মার্গারেট। তখন তিনি একেবারে বদলে গেছেন। স্থিতধী, অনেক পরিণত,ঘর বাঁধার স্বপ্ন থেকে বহু যোজন দূরে। তারপর একেবারে ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্বামীজী এলেন জীবনে। একেবারে সটান ভারতবর্ষে পাড়ি।
ভারতীয় দুর্বলতা,অশক্ত মানসিকতার পাশে এসে দাঁড়ালেন এক সিংহিনী নারীর বেশে। আমাদের জন্য নিজেকে নিবেদন করে হলেন লোকমাতা।
(চলবে)
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
অসাধারণ দাদা..💐💝
উত্তরমুছুনঅপূর্ব। এগিয়ে চলুন। 💐💐💐💐💐
উত্তরমুছুনঅত্যন্ত সুন্দর, দারুন লিখেছেন স্যার
উত্তরমুছুনঅসাধারণ লেখা।
উত্তরমুছুনঅপূর্ব।কত কিছু যে জানছি দাদা কি বলব!
উত্তরমুছুন