দৃষ্টিকোণ
©সুদেষ্ণা দত্ত
অবিনাশ বাবু বিপত্নীক-অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক।এক পুত্র অর্কঃপ্রভ ও এক কন্যা অনন্যা।দুজনেই বিবাহিত।ছেলে থাকে চেন্নাই আর মেয়ে জার্মানীতে।চাকর মধুই তাঁর বার্ধক্যের লাঠি।কাকাবাবুকে আদরে—শাসনে রাখে সে-ই।অবিনাশ বাবু ঘুম থেকে উঠে প্রাতঃ ভ্রমণে যান,ফিরে চা—খেয়ে বাজার।তিনি খুবই খাদ্যরসিক।বাজার থেকে ফিরে সকালের জলখাবার খেয়ে সংবাদপত্র আর বই পড়েই কাটে।দ্বিপ্রাহরিক আহার শেষে দিবানিদ্রার পর পাড়ার চায়ের দোকানে সমবয়সীদের সঙ্গে বৈকালিক মজলিশ।ফিরে একটু টি.ভি. দেখা,ছেলে-মেয়ের সঙ্গে কথা বলা রাতের আহার সমাধা করে শয্যা গ্রহণ এই তার দৈনন্দিন কর্মসূচী।
চায়ের দোকানের বিকেলের আড্ডায় অধিকাংশ দিন তিনিই চা—টায়ের যোগানদার।এহেন অবিনাশ বাবু তাঁর বন্ধুদেরও ঈর্ষার কারণ।আজ তো সুপ্রিয় বাবু বলেই ফেললেন,বেশ আছ ভাই অবিনাশ!ঝাড়া হাত-পা।পেনশনের জমা টাকায় বেশ তেলালো চিতলের পেটি,খাসির মাংস...।আর আমরা ভাই মাসের শেষে শুকনো মুড়ি,সর্ষের তেল খেয়েই কাটাই।অমিয় বাবু বলেন,আর অবিনাশ দা’র ভাগ্য সব দিকেই স্বর্ণখচিত।কথায় বলে—’অভাগার গরু মরে, ভাগ্যবানের বৌ মরে’।তাঁর এই রসিকতায় বাকিরাও হেসে ওঠেন।কাজল দা বলেন,আর ভায়ার টি.ভি.র রিমোট নিয়েও খন্ড যুদ্ধ বাধিয়ে আমাদের মত বুড়ো বয়েসে হাত-পা ভাঙার ভয় নেই।আবার মাঝে—মাঝেই তল্পিতল্পা নিয়ে বেশ বেরিয়ে পড়, তা আছ বেশ।আর চেহারাটিও বেশ নধরকান্তি বানিয়েছ,আমাদের চেহারা দেখে মনে হয়,শ্মশানে এক পা বাড়িয়েই রেখেছি,বলে ওঠেন স্বপন বাবু।এভাবেই রাজনীতি,খেলাধুলা,নাতি-নাতনির গল্প,বউয়ের সঙ্গে বোমার থুড়ি বৌমার বনিবনা না হওয়ার গল্প থেকে অবিনাশ বাবুতে এসে শেষ হয় প্রাত্যহিক আড্ডা।
এভাবেই রুটিন মাফিক চলতে থাকে তেল ফুরিয়ে আসা কয়েকটি প্রদীপের।একদিন বিকেলে এরকমই এক চায়ের আসরে অবিনাশ বাবুর চাকর মধু ওনার বন্ধুদের ডাকতে যায় অবিনাশ বাবু গুরুতর অসুস্থ বলে।তাঁরা পাড়ার ডাক্তার হরিপদকে কল দেন।ডাক্তারবাবু এসে জানান অবিনাশ বাবু আর বেঁচে নেই।তাঁর বন্ধুরা ডাক্তার বাবুর কাছে জানতে পারেন প্রায় বছর খানেক হল অবিনাশ বাবুর থাইরয়েডের ক্যান্সার ধরা পড়ে।প্রায়ই তাকে কেমো নিতে যেতে হত।সাধারণ জ্বর-জ্বারি হলে ডাক্তার বাবুর কাছেই ওষুধ নিতেন।একাকীত্ব থেকেই অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া—দাওয়া, চিকিৎসার জন্য ছেলে—মেয়েদের কাছে হাত পারতেন না আত্মাভিমানী অবিনাশ বাবু—তাই বাজারে কিছু ধার—দেনাও হয়েছিল।সে কথা শুনে বন্ধুরা একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছিলেন।
মেকআপ করে ঘুরে বেড়ায়
লোক—সুন্দর মুখ
আড়ালে তার লুকিয়ে থাকে
এসিড জ্বালার দুখ।
কোন ব্যক্তি,বস্তু বা ঘটনা সম্পর্কে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থাকে।যা থেকে তিনি গড়ে নেন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী।কিন্তু কোন মানুষেরই উচিত নয় অন্যের বিষয়ে গভীরভাবে না জেনে তাঁর দৃষ্টি অন্যের ওপর চাপিয়ে তাঁকে আঘাত করা বা হাস্যাস্পদ করা।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার—মিয়াজান কবির
ছবি সৌজন্য—গুগুল
©Copyrights reserved for Sudeshna Dutta

দারুণ ভালো লাগলো বন্ধু👌
উত্তরমুছুনঅসাধারণ অনুভব লেখা! তোর রূপদানে একটা দুর্দান্ত ম্যাসেজ কাছে এল। ধন্যবাদ। 👍👍👌👌💯💯❤❤💫💫💥💥💅💅💅💅
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে...
উত্তরমুছুনআসলে কেউ কেউ নিজের দুঃখ অন্যকে দেখাতে চায় না.....
খুব ভালো লেগেছিল ওখানে ,এখানেও তাই বলছি 💐💐💐💐
উত্তরমুছুনঅনেকেই তো আমরা মুখে খুশির মাস্ক পড়ে থাকি...মনের ভেতরের আসল চেহারা টা আর দেখতে পারি কই..??... অদিতি
উত্তরমুছুনদারুণ ।💐💐
উত্তরমুছুনAmi piyasha panja
উত্তরমুছুনAsadharon lekha.
খুব সুন্দর লিখেছো,সু।
উত্তরমুছুনতোমার কলম হাতিয়ার হয়ে উঠুক ...খুব ভালো লাগলো....দেবলীনা
উত্তরমুছুনKhub সুন্দর
উত্তরমুছুন