বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

মূর্তি তুমি কার ?( কলমে পারমিতা মন্ডল।)

বিষয় ---যতোক্ষণ পর্যন্ত কাজ না শেষ হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি পাথর আর আমি মূর্তিকর। কাজ শেষ হলে তুমি দেবতা  আমি  ছুঁতোর।

নাম--মূর্তি তুমি কার ?

কলমে---পারমিতা মন্ডল।

  
আমারা মানুষ। পৃথিবীতে সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীব বলে দাবী করি। কিন্তু আমাদের মতো নিষ্ঠুর, অমানবিক,স্বার্থপর জীব মনে হয় পৃথিবীতে আর একটাও নেই। অন‍্যের সৃষ্টিকে নিজের বলে চালিয়ে দিতে, বা তার সাথে খারাপ ব‍্যবহার করতেও আমরা পিছুপা হইনা।

অনেক শিল্পীর তৈরী অনেক মূর্তি ইমারত, স্থাপত্য দেখে আমরা মুগ্ধ হই ।কিন্তু ক'জন তার নাম জানি । একটু একটু করে পাথর কেটে তৈরী করা মূর্তি যখন মন্দিরে শোভা পায় , তখন সে আর পাথর খন্ড থাকে না ,দেবতার আসন পায়। আমরা ভক্তিভরে তাঁকে প্রনাম করি। কতো উপাচার সাজিয়ে দেই তার সামনে।  কিন্তু সেদিনও যে পাথর খন্ডে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিলেন বাড়ির কর্তা ; তিনি তাকে টান মেরে  বাইরে ফেলে দিয়েছিলেন নেহাতই একটি পাথর বলে। । তাকেই  তুলে নিয়েএকটু একটু করে দেবতা রূপ দেন শিল্পী।
পাথর খন্ড হয়ে ওঠে  দেবতা। তখন তার অপার মহিমা ।  এক ধাক্কায় সে অনেকটা উপরে উঠে যায়।  কিন্তু একটু একটু করে ঐ পাথর খন্ডকে যে দেবতার মূর্তি বানালেন, সেই শিল্পীর কথা কেউ মনে রাখেনা। সে ,যে ছুঁতোর ছিল তাই-ই থেকে যায়। তার অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না। তার প্রাপ্য সন্মানটুকুও তাকে দেওয়া হয়না।

শোনা যায়, যে কারিগরেরা তাজমহল বানিয়েছিল , তাদের নাকি বুড়ো আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছিল । জগৎ বিখ্যাত তাজমহলের সৌন্দর্য আমরা সবাই উপভোগ করি । তার অপরূপ শোভা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে । শাহজাহানের পত্নীপ্রেমে সবাই মুগ্ধ । কিন্তু যিনি এটা তৈরী করেছিলেন অর্থাৎ কারিগর তার কি দোষ ছিল ? তাকে কেন সারাজীবন কষ্ট পেতে হলো ? আসলে কাজ ফুরালে বা স্বার্থ শেষ হয়ে গেলে আমরা কাউকে মনে রাখি না। তার প্রাপ্য  সন্মান টুকু দিতেও অস্বীকার করি । 

এমন উদাহরণ পৃথিবীতে হাজার হাজার আছে। কোন কিছু সৃষ্টির প্রাক্কালে দুজনের সন্মান সমান ছিল। কিন্তু যখন সেটা হাতের মুঠোয় চলে এলো , তখন শ্রষ্ঠাকেই আমরা অস্বীকার করি । এমনকি পিছন থেকে ছুরি মারতেও পিছু পা হইনা।

৪টি মন্তব্য:

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...