# বিষয় - নারীর মূল্যায়ন
#নাম- লক্ষ্মীর অলক্ষ্মী কথা।
আমাদের ঘরে যখন নবজাতকের আগমন ঘটে তখন সে একজন সাধারণ শিশু। ধীরে ধীরে সে একটি লক্ষী ছেলে বা লক্ষী মেয়ে হয়ে ওঠে বড়দের স্নেহছায়ায়। সেখানে ও সমাজের জটিলতার শিকার হতে হয় একটি শিশু কন্যাকে। সদ্যজাত শিশু কন্যাকে অনেক সময় অবলীলায় হত্যা করে কিছু মানুষ রূপী জল্লাদ। এমনকি তারা জানতে পারলে ভ্রুণ অবস্থায় মেরে ফেলতেও পিছপা হয় না।
৮-১১ বছর পর্যন্ত মেয়েশিশুরা সাধারণত সমবয়সী ছেলেদের তুলনায় চঞ্চল আর নির্ভীক হয়। তবে ১২ বছরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে চপলতার মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এ সময় মেয়েটির মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন হয়। বিভিন্ন বিষয়ে খুব সহজেই অভিমান তৈরি হয়। অভিভাবকেরা প্রায়ই বলেন, ‘তুমি বড় হয়ে গেছ, এ কাজ কেন করছ?’ আবার এ–ও বলেন, ‘তুমি এখনো ছোট, এটা তোমার কাজ না’—এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব কিশোরীর মনে সে বড় না ছোট, এমন ‘আত্মপরিচয়ের সংকট’ তৈরি করে।
হঠাৎ কিছু শারীরিক পরিবর্তন ঘটে এই সময়।এটি জীবনের অপরিহার্য বিষয় হলেও এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয় না কিশোরীর জন্য। এর জন্য অভিভাবকদের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।
এইসময় কিশোরীরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে থাকে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে মস্তিষ্কে চলে ছোট থেকে বড় হওয়ার ভাঙা-গড়া। মনোদৈহিক পরিবর্তন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় এ সময় ছোট ছোট বিষয়ে তারা সহজে রেগে যায়। মান–অপমান বোধ তীব্র হয়।
কিশোরীর এই শারীরিক পরিবর্তন থেকেই মানসিক সমস্যার শুরু, এটি বুঝতে হবে। এ সময় হরমোনের পরিবর্তন মেয়েটিকে অনেক আবেগপ্রবণ করে দেয়। সব ধরনের অনুভূতির প্রকাশই তীব্র হয়। মেয়ের ওপর রাগ করেন অনেক বাবা-মা। মেয়ের মধ্যেও জমে অভিমান।
মেয়ের মন বোঝাটা জরুরি।হঠাৎই মেয়েকে খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দেন বাবা–মা। বিষয়টি কিশোরী মনে হতাশা তৈরি করে, যা ক্ষতিকর।
ছোট থেকে বড়তে পরিণত হওয়ার সময়। এ সময় বাবা–মা ভয় পান কিশোরীরা ভুল করবে। এই আশঙ্কায় কড়াকড়ি আরোপ করেন তাঁরা, যা হিতে বিপরীত হয়। একটা বিদ্রোহী মনোভাব গড়ে ওঠে। অনেক সময় দেখা যায়, ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে খেলছে এমন ছেলেবন্ধুর সঙ্গে আর মিশতে দেওয়া হয় না। দেখা যায়, বাবা–মা মুঠোফোন কিনে দিচ্ছেন, আবার সেটা বেশি সময় ব্যবহার করলে মা–বাবাই বকছেন। বাবা-মা আর কিশোরীর মূল্যবোধের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়, যা কিশোরীর মনের ওপর চাপ তৈরি করে। সে স্বাধীন মানুষ হতে চায়, বাবা–মাকে তার স্বাধীন জীবনের পথে অন্তরায় মনে করে। এ থেকে ঝামেলার সৃষ্টি হয়।
এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সে মনের মতো বন্ধু খোঁজে। আশ্চর্যজনক ভাবে সে মনের মতো বন্ধু পেয়েও যায়। কিন্তু মুশকিল হলো সেই বন্ধু সব সময় সৎ হয় না। এমন অনেক দুষ্টচক্র আছে, যারা বিভিন্ন ভাবে লোভ দেখিয়ে মেয়েদের মানসিক ভাবে দুর্বল করে দেয়। হতে পারে মেয়েটিকে ভালবেসে নতুন জীবন দেওয়ার স্বপ্ন দেখায়। আবার কখনো ভালো চাকরি দেওয়ার শর্তে প্রলুব্ধ করে।
এখন আবার "গোদের ওপর বিষফোঁড়া" র মতো মোবাইল ফোন হয়েছে। অচেনা, অজানা মানুষের হাতছানিতে ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে অনেক মেয়ে।
প্রথম পদক্ষেপ হলো মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কখনো মেয়েরা বিপদে পড়ে নিজের ভুল বুঝতে পারলেও ভয়ে মুখ খুলতে চায় না। অনেক প্রতিষ্ঠান এই ব্যাপারে এগিয়ে এসেছে।
জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের জীবনাভিজ্ঞতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মেয়েদের বিশ্লেষণমূলক চিন্তা, সমঝোতা ও সিদ্ধান্তগ্রহণের সক্ষমতা তৈরিতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
অল্পবয়সীরা নিজেদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে জীবনমুখী দক্ষতা আয়ত্ত্ব করে নেয়। এর ফলে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে।
তাদের অধিকার ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ এবং তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ ও সামাজিক প্রথার পরিবর্তনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমকে কাজে লাগানো হয়।
বয়স উপযোগী, সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল এবং শিশুদের বিনোদন ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান তৈরিতে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের স্থানীয় মিডিয়ার নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে ইউনিসেফ।
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর অনিশা কুমার।
অপূর্ব লিখেছো বন্ধু👌🏻👌🏻👌🏻👌🏻
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ বন্ধু 😍
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর। 💐💐
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ 🙏
মুছুনখুবই সুন্দর 🌷🌷
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ 🙏
মুছুনদারুণ!দারুণ!অসাধারণ!ধন্যবাদ। 👍👍👌👌💫💫💥💥💅💅💅💅❤❤
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ 🙏
মুছুনঅসাধারণ একটি লেখা।
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ বন্ধু 😍
মুছুন👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ 🙏
মুছুনখুবই সুন্দর লিখেছেন
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ 🙏
মুছুনKhub bhalo
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ 🙏
মুছুনAsadharan Lakshmi katha
উত্তরমুছুনThank you 🤗
মুছুনখুব ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ
মুছুন