# বিষয় - সুকুমার রায় স্মরণে
# নাম - ' পাগলা দাশু'
✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
বাংলা সাহিত্যে সুকুমার রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি পাগলা দাশু। তবে রায় ম'শাই কেন তাকে পাগলা উপাধি দিয়েছিলেন ততটা বোধগম্য নয়। দাশু ওরফে দাশরথির আচরণে কোথাও আমরা পাগলামি দেখি না। চলনে বলনে সে তো রীতিমত চালাক চোস্ত! তবে!
রবীন্দ্রনাথের জন্মের সাতাস বছর পরে সুকুমার রায়ের জন্ম - ১৮৮৭ র ১৩ নং কর্ণওয়ালিশ স্ট্রিটের লাহাদের বাড়ীর দো'তলায়। আর সুকুমার রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি পাগলা দাশুর প্রকাশ ১৯১৬ রায়চৌধুরীর পারিবারিক পত্রিকা 'সন্দেশ'-এ । আর স্বল্পায়ু সুকুমার রায় মারা যান রবীন্দ্রনাথের আগে। তাই রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুর এক বছর আগে খুব আগ্রহ নিয়ে পাগলা দাশু পড়ে বলেছিলেন - "সুকুমারের সমশ্রেণীর রচনা বাংলা ভাষায় দেখা যায় না।"
ব্রিটিশ আমল। স্কুল নামক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক শিক্ষার্থী যে বাঙালিকে এমন রসে বসে মজিয়ে রাখতে পারে তা অভাবনীয়।
দাশুর চেহারায় চোখ দুটি গোল গোল,কান দুটো অনাবশ্যক রকমের বড়। আর মাথায় এক বস্তা ঝাঁকড়া চুল। তার চেহারা দেখে সহপাঠীরা ছড়া কাটে-
"ক্ষীণদেহ খর্বকায় মুন্ড তাহে ভারী/ যশোরের কই যেন নরমূর্তিধারী।"
দাশু ওরফে দাশরথির কান্ডের নানা ডালপালা। তার হাত পা ছোড়ার ভঙ্গী দেখে চিঙড়ি মাছের কথা মনে হয়। কান্ডকারখানা বড্ড তিড়িংমিড়িং রকমের! কোনো নির্দিষ্ট গতিপ্রকৃতি নেই। যখন যেমন করে হোক আমোদ তার করা চাই। ক্লাসের বন্ধুদের সাথে মজা করা যেন তার কাছে ছিল বিগ ইভেন্ট। যেমন স্কুলে একটা বাক্স নিয়ে আসতো। তাতে সবসময় চাবি দেওয়া থাকত। বন্ধুদের কৌতূহল জন্মানোর জন্য। বন্ধুরা বাক্স জিম্মায় পেয়ে সেই বাক্সের চাবি খুলে বাক্সের ভেতরে তস্য সবচেয়ে ছোটো বাক্স খুলে যখন দেখল, তাতে একটা কার্ড পাওয়া গেল,যার এক পিঠে লেখা আছে 'কাঁচকলা খাও।' আর অন্য পিঠে লেখা আছে - 'অতি কৌতূহল ভালো নয়।'
হুজুগে বাঙ্গালীর ইংরেজি শিক্ষাকে ব্যঙ্গ করতে, সহপাঠীদের ব্যঙ্গ করতে সে একবার প্যান্টেলুন পরে ইংরেজি শিখতে স্কুলে এসেছিল। আর সঙ্গে ছিল তাকিয়ার মতো কোর্ট। কি ব্যঙ্গ!
একবার দাশুকে নাটকে নেওয়া হবে না। কিন্তু দাশু তা মেনে নেবে কেন! দেবদূতের পাঠ তার চাই। কিন্তু ফোর্থ ক্লাসের গণেশকে দেওয়া হয়েছে দেবদূতের পার্ট। এই গণশাকে দাশু রোজ খাইয়ে দাইয়ে, রঙিন পেন্সিল আর ছবির বই দিয়ে দাশু হাত করে ফেলল। ফলে নাটকের দিন গণেশ বেপাত্তা। অগত্যা দাশুই করবে দেবদূত চরিত্রে অভিনয়। প্রথম থেকে বেশ যেমনটি অভিনয় করার ছিল করে যাচ্ছিল। কোনো গন্ডগোল করেনি। কিন্তু করবে না সে কি হয়! শেষ দৃশ্যে মন্ত্রী রাজাকে জানিয়ে দিয়েছে 'দেবদূত গেল চলি স্বর্গ অভিমুখে।' দাশু বলেই পরক্ষণে মঞ্চে হাজির নিজের তৈরী সংলাপ নিয়ে- 'আবার সে এসেছে ফিরিয়া।'
সুকুমার রায় ফেরেন না, কিন্তু তাঁর দাশু বারে বারে এভাবেই ফিরে আসে। ফেরে পন্ডিতের ঘুম ভাঙাতে। সংস্কৃতের পন্ডিত মন্দ নন। কেবল ঘুমোন আর চটে যান। একদিন হয়েছে কি দাশুর অপছন্দের রামপদর মিহিদানার হাড়ি নিয়ে চিনে পটকার আয়োজন করে। রামপদ ধরা পড়ে মার খাওয়ার উপক্রম। তখন দাশু আসল সত্য স্বীকার করে। সত্য কথা পন্ডিত মশাইকে গড় গড়িয়ে বলে যায় - " আপনি যখন ঘুমোচ্ছিলেন , তখন ওরা শ্লেট নিয়ে খেলা করছিল।"
পন্ডিত মশাই বললেন - "কে বলেছে আমি ঘুমাচ্ছিলাম?"
দাশু - "তবে যে আপনার নাক ডাকছিল।"
পন্ডিত কথা ঘোরানোর জন্য বললেন- " তুমি কী কচ্ছিলে?"
দাশুর অম্লান বদনে স্বীকারোক্তি - "আমি পটকায় আগুন দিচ্ছিলাম।" সে পটকা কান্ড তো নয় যেন দাশুর লঙ্কা কাণ্ড!
এই যে দাশু স্কুলের যেকোনো গুরুগম্ভীর ব্যাপারকে নিয়ে মজা করতে ভালোবাসে, স্কুলের দমবন্ধ ভাব কাটিয়ে দেয়। সেই ইস্কুলে সবজান্তা,চালিয়াৎ,কবি,সর্দার,গুলবাজ, কি নয়!
বর্তমানে আর দাশুরা জন্মায় না। সুকুমার রায়ের হাতে সেই শুরু সেই শেষ, তবে দাশু অমর ও বাংলাসাহিত্যে একম্ ও অদ্বিতীয়ম্। দাশুকে নিয়ে ইস্কুলের গল্প এমন আর দ্বিতীয়টি নেই। কত স্কুল ইংলিশ মিডিয়াম, বেঙ্গলি মিডিয়াম হলো আমরা ওত পেতে বসে অন্তত আর একটা দাশু আসবে। কিন্তু কই আর সে দাশু। এখন মোবাইল,ট্যাব,ডেক্সটব ছুঁয়ে বাচ্চাদের তুখোড় যোগাযোগ। মাটির থেকে অনেক দূরে।
স্কুলের মধ্যে যে দাশুর এতো দৌরাত্মি তাকে কেন পাগলা উপাধি দিয়েছিলেন লেখক? শুরুতে প্রশ্ন রেখেছিলাম, আবার শেষেও সেই প্রশ্ন রাখলাম। কারো কাছে উত্তর থাকলে বলবেন।
ধন্যবাদ। নমস্কার।🌻🌻🙏🙏
@ copyright reserved for Mridul Kumar Das.
পাগলা দাশু এতবার পড়েছি আর হেসেছি বলার নয়।এখন সুকুমার রায়ের মত লেখক যেমন নেই তেমনি দাশুর মত ছাত্র ও নেই।সব রোবট ছাত্র।তাই ওই পাগলা নামে অভিহিত করার প্রশ্নই ওঠে না!!
উত্তরমুছুনধন্যবাদ দিদি। অনুপ্রাণিত হলাম। শুভেচ্ছা।❤❤🙏🙏
উত্তরমুছুনদাদা আবার দু'বেণীর মেয়েবেলার রঙীন দিনে নিয়ে গেলেন।দাশু আবার জীবন্ত হয়ে উঠল।আমার মনে হয় সুকুমার রায় এতটাই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন বর্তমানের প্রেক্ষিতে দাশুকে পাগলা বলেছিলেন।এখন সরলকে পাগল-ই বলা হয়।আর কাউকে সম্মান করলে তাকে দুর্বল।
মুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।💥💥💫💫💅💅❤❤
মুছুনঅসাধারণ
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। 💥💥💫💫❤❤🙏🙏
মুছুনদারুণ লাগলো দাদা🙏
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। অনেক অনেক ভালবাসা।💅💅💥💥💥💫💫❤❤
উত্তরমুছুন