তখন সদ্য কলেজে ঢুকেছি,মনটা উরু উরু সব ছেলের মতো মেয়েদের দেখলেই মনে হয় প্রেমে পড়ি।যদিও এই প্রেমে পড়ার চেষ্টায় বাছাই করতে করতে আমরা যাকে বাছলাম সে পল্লবী।কিন্তু একটা পল্লবী তো আর পাঁচ জনের হতে পারে না,মহাভারতের সে যুগও নেই,অগত্যা পল্লবী আমাদের চারজনের বান্ধবী হলো আর রজত ওকে অর্জুনের মত ছিনিয়ে নিলো।আমরা পাঁচ বন্ধু নতুন উদ্যোগে জুনিয়র মেয়েদের ক্রমান্বয়ে দাদা হতে লাগলাম ।একটাও পুরুষ যে শুধু দাদা হয় না আরো কিছু হয় সেটা বুঝতে পারলো না।যাইহোক কলেজ ক্যান্টিনে আমরা পাঁচ বন্ধু এবং পল্লবী প্রতিদিন একসঙ্গে আড্ডা দিতাম।পল্লবী যেমন ভগবানকে ভালোবাসতো তেমনি ভুতকে ভয় পেতো।তা একদিন আড্ডা চলাকালীন পল্লবী ওর ছোট মামার ভুত দর্শনের গল্প শোনাতে গিয়ে আমাদের কাছে খুব হেনস্তা হলো।শেষ মেশ চোখ কান লাল করে আমাদের বললো তোরা ভুতে বিশ্বাস করিস না তো ঠিক আছে তোদের আমি একদিন ভুতের কবলে ফেলবোই।আছে দম তোদের কারো তাহলে চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট কর।কমল, সাধন বলে উঠলো ,যা যা ভাগ ওসব তোর ঢপের চ্যালেঞ্জ রজতকে দে ও তোর জন্য এখন চাঁদে হিসি করে আসার চ্যালেঞ্জ ও একসেপ্ট করে নেবে।আমি আর গণেশ একটু একরোখা পল্লবীর ওই আঙ্গুল তুলে কথা বলাটা মেনে নিতে পারলাম না।দুজনে বললাম ঠিক আছে চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করলাম।পল্লবী আমাদের দিকে রক্ত চোখে একবার তাকিয়ে রেগেমেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো পিছু পিছু রজত ওর মান ভাঙাতে দৌড়ল আমরা সব হেঁসে গড়িয়ে পড়লাম।এর পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে ,আমাদের সেকেন্ড সেমিস্টার শেষ হয়ে গেছে, পল্লবীর বাবার অন্যত্র পোস্টিং হওয়ার কারণে পল্লবী আর আসে না।রজত বাবার ব্যাবসার কারণে ফার্স্ট সেমিস্টার দেওয়ার পর পর কলেজ ছেড়ে বাবার ব্যবসায় মন দিয়েছে।এখন আমরা চারজন ক্যান্টিনে বসে শুধু ভাই ফোঁটা নিয়ে যাই।
জুলাইয়ের শেষ দিকে এক বর্ষণ মুখর দিনে হটাৎ পল্লবীর ফোন কি রে সুমিত তোর চ্যালেঞ্জের কথা মনে আছে তো,যদি থাকে চলে আয় তোকে ঠিকানা msg করে দিচ্ছি,যদি না আসিস জানবো তোরা সবাই কাওয়ার্ড।এই কথা গুলো বলেই খট করে ফোন কেটে দিলো।আমি কিছুটা হতভম্ব হওয়া সামলে যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল সেখানে ফোন করলাম দেখি সেই ফোনের নম্বর ইনভালিড বলছে।ঠিক তখনি গণেশের ফোন এলো সে বললো পল্লবীর ফোন এসেছিলো সে বললো আমি গণেশ কে থামিয়ে বাকি কথা বলতেই ও তো হাঁ।আমি তখন বললাম আমি কিন্তু যাবো তুই যাবি কি।গণেশ যেতে রাজি হলো।আমাদের বাকি বন্ধুদের বলতে তাদের একটা পারিবারিক কাজের অজুহাতে এড়িয়ে গেলো।আমি গণেশ কে বললাম রজত কে বল ব্যাপারটা ওর সঙ্গে পল্লবীর কানেকশন আছে অচেনা জায়গায় যাবো ওকেও সঙ্গে নিই।আমরা না হয় ঘোস্ট হান্টার করবো ও সেই সুবাদে লাভ স্টোরি লিখবে।গণেশ যা বললো তাতে তো আমি নিজে বাক রুদ্ধ হয়ে গেলাম রজত নাকি ছয় মাস থেকে নিরুদ্দেশ তার ফোনের সুইচ অফ,পুলিশে ওর বাবা ডায়েরি করেছে।কিন্তু অবাক কান্ড এই যে নম্বর থেকে msg এসেছে সেটা রজতের নম্বর অথচ সেই নম্বরে ইনকামিং ফেসিলিটি নেই।
msg টা গণেশের কথায় পড়তে গিয়ে লক্ষ্য করলাম হ্যাঁ নম্বরটা তো রজতের ।এখন কি করি পুলিশে ইনফর্ম করা হয়েছে রজতের মিসিং এমতাবস্থায় যদি পুলিশ এই নম্বর থেকে msg আমাদের কাছে দেখে তাহলে রক্ষে নেই আমাদের।যাই থাকুক কপালে চ্যালেঞ্জ যখন নিয়েছি তখন কেউ না যাক আমি একাই যাবো বলে মনস্থির করি।
জায়গাটা বিহারের মুঙ্গের থেকে বাসে মাইল দশকের পথ ,একটা গ্রাম কিছু দূরে বর্ডার।লোকবসতি খুব একটা নেই।ঠিকানা অনুযায়ী বাস যেখানে গণেশ আর আমাকে নামলো সেখান থেকে নাকি মাইল খানিক গেলেই পলাশবাড়ী গ্রাম।এদিকে আকাশ গুম মেরে আছে,টানা ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি কর্দমাক্ত পথ।দুপুর দুটোর সময় যেনো সন্ধ্যা নেমে এসেছে।মাঝে মাঝে হওয়া চলছে।আশপাশে কোনো দোকান পাট নেই।পল্লবী কি আমাদের সঙ্গে মজা করলো।কিন্তু ওর বলার ভঙ্গিমা মজা করার মতো ছিলো না।এদিক ওদিক তাকাতে দূরে একটা খড়ের চালের গুমটি নজরে এলো।গণেশ বললো সুমিত ওদিকে চ যদি চা টা পাওয়া যায় আর ঠিকানা টা ঝালিয়ে নেওয়া যাবে সঙ্গে যদি ওখানে যাবার মতো কিছু পাওয়া যায়।
দোকানের সামনে এসে দেখি সেটার ঝাঁপ ফেলা,ভাঙা বেড়াটাকে কয়েকটা বস্তা দিয়ে চাপা দেওয়া,বাইরের মাটির উনুন জল পেয়ে অর্ধেক গলে পড়েছে।বসার জন্য বাঁশের মাচা একটা ভেঙে কাত হয়ে একদিকে হেলে আছে।।একটু হাক ডাক করতে একটা খোঁচা খোঁচা দারিওলা মুখ বেড়ার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসে বললো "কেয়া হ্যায় বাবুজী"
আমি বললাম"ভাই সাহাব চায় মিলিগ'
লোকটা কিছুক্ষণ আমাদের দিকে অবাক বিস্ময়ে চেয়ে থেকে কিছু একটা ভাবলো তারপর চটের বস্তা আর একটু ফাঁক করে বললো ভিতর আ যাও।
আমরা একটা ভাঙা খাটিয়ায় বসে রইলাম ,সেই পৌঢ় দোকানী জনতা জ্বালাতে জ্বালাতে বললো "ইয়ে অন্ধেরি মসম মে আপ লোগ কাঁহা যাইবে
আমরা বলি পলাশবাড়ী।
দোকানী ভুরু কুঁচকে বলে,পলাশবাড়ী মে কাঁহা। সার্কিট হাউস বলাতে সে চমকে ওঠে।আমাদের দিকে ঘুরে বলে চায় পিকে বাপস চলে যাও।উহাকে মত যাও।উসমে কৈ নেহি রাহেতে,শ্রাপিত হ্যায়।
গণেশ আমায় ঠেলে, চাপা স্বরে বলে নে ভাটের গল্প শুরু হলো বলে। আমি ওকে চুপ করিয়ে বলি আসলে ওখানে আমাদের এক বন্ধু আসবে,সেই আমাদের ডেকেছে।পৌঢ় এবার বেশ জোরে বলে ওঠে উধার কৈ নেহি রাহেতে, তুম লোগ ভি নেহি জাওগে।আমি বলি কিন্তু কেনো।দোকানী দু গ্লাস চা বাড়িয়ে বলে
সদিয় পেহেলে কি বাত, এই বলে শুরু করলো সার্কিট হাউসে ইতিহাস।
বহুদিন আগে ডাচরা মুঙ্গেরে এসে ঘাঁটি গারে। এখানের বহুমূল্য জঙ্গলের কাঠ কেটে ব্যাবসা করার উদ্দেশ্যে।বন্দুকের ভয় দেখিয়ে স্থানীয় মানুষদের বশে আনে।সেই সময় এক ডাচ সাহেব ওই বাংলো বানান।ওই সাহেব ছিলো ভীষণ অত্যাচারী এবং বিকৃত মানসিকতার।প্রতি সন্ধ্যায় তার জন্য একটা করে দেহাতী যুবতীকে ধরে আনা হতো।সারারাত নিজের কাম জ্বালা মেটানোর পর তার যে অঙ্গটা তার খুব পছন্দ হতো সেটা কেটে নিয়ে তাকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দিতো।এই মেয়ে ওঠানোর কাজে স্থানীয় একটা লোক অর্থের বিনিময়ে সাহেবের লোকেদের সাহায্য করতো।যুবতীদের কাটা অঙ্গ গুলো একটা সিন্দুকে ভরে সার্কিট হাউসের মাথায় একটা চোর কুঠুরিতে রেখে দেওয়া হতো।এভাবেই চলছিল,বন্দুকের ভয়ে কেউ মুখ খুলতো না।একদিন ওই স্থানীয় লোকটির রাতে বাড়ি ফেরা হয়নি,সকাল বেলায় তার খোঁজ করতে তার ১২ বছরের মেয়ে তন্নী বাংলায় আসে ।সাহেবের নজর তন্নীর উপর পরে, এবার সাহেব সেদিনের জন্য লোকটিকে বলে তার মেয়েকে আনতে।লোকটি বিরোধিতা করলে সাহেব তাকে বন্দী করে এবং নিজের লোক দিয়ে তন্নী কে ধরে আনে।তারপর বাবার সামনে ওই বাচ্ছা মেয়েটিকে ভোগ করা শুরু করে।এদিকে মেয়ে বাড়ি ফিরছে না দেখে তার মা অস্থির হয়ে পরে, লোক মুখে শোনে তার মেয়েকে বাংলোর লোক ধরে নিয়ে গেছে।তন্নীর মা বাঘিনী র মতো ক্রুদ্ধ হয়ে পড়ে, হাতে কাস্তে নিয়ে বাংলোর দিকে দৌড়োয়।যখন বাংলায় পৌঁছয় তখন যা হবার হয়ে গেছে।সাহেব তার পছন্দের অঙ্গ কেটে নিয়ে পাশবিক ভাবে খেলে চলছে আর মেয়েটা অচৈতন্য হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে সারা ঘর রক্তে ভেসে যাচ্ছে।হাতের কাস্তে নিয়ে মেয়েটির মা সাহেবের উপর ঝাঁপিয়ে পরে এক কোপে সাহেবের মাথা ধর থেকে আলাদা করে দেয় ।তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে নতোমস্তকে বসা মেয়েটির বাবার গলাটা কেটে দেয়।সারা ঘর তখন রক্তের বন্যা বইছে।কাস্তে ফেলে তন্নীর অচৈতন্য দেহ কোলে নিয়ে সাহেব কুঠি থেকে ছুটে বেরিয়ে আসে।সাহেবের লোকেদের চোখে পরে যায়,তার পিছন থেকে গুলি করে তন্নীকে বুকে আঁকড়ে তার মা লুটিয়ে পরে।
সেইরাতে সাহেবের কাটা মুন্ডু সেই যুবতীদের অঙ্গ জমিয়ে রাখা বাক্সে ঢুকিয়ে দিয়ে চারটে লাশ নদীর জলে ভাসিয়ে সাহেবের লোকজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।
তারপর থেকে সাহেবের পিশাচ নিজের লালসা মেটাতে প্রতিরাতে একটা দেহে ঢুকে লালসা মেটাতে থাকে।প্রতিরাতে অঞ্চলের মানুষ পৈশাচিক অট্টহাসি একটা মেয়ের চিৎকার শুনতে পায়।পরদিন সকালে সাহেব কুঠির সামনে একটা মুন্ডু কাটা পুরুষ দেহ আর গ্রামের কোনো না কোনো যুবতী মেয়ের এক অঙ্গ কাটা মৃতদেহ দেখতে পেতো।আসতে আসতে গ্রামের মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।সাহেব কুঠি খন্ড হর হয়ে যায়।তখন এক তান্ত্রিক এসে গ্রাম বাসীকে ওই পিশাচের হাত থেকে বাঁচায়।কুঠিরের সেই বাক্স রাখা ঘরে সাহেবের অতৃপ্ত আত্মা বন্ধী করে।আর সকলকে বলে দেয় সে ঘরের বন্ধনী কেউ যেনো না খোলে।এরপর বহুবছর কেটে যায়।সাহেব কুঠি জঙ্গলে ঢেকে যায়।
তারপর হালে সরকার থেকে ওই কুঠি সংস্কার করে সার্কিট হাউস তৈরী করে সরকারী লোকেদের থাকার জন্য। তারপরই শুরু হয় আবার সেই অলৌকিক কার্য কলাপ।সেই হাউসে কেউ একরাতের বেশি থাকতে পারতো না।একজন সাতদিন ছিলো তারপর তাকে উন্মাদ অবস্তায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে।তারপর বন্ধই ছিলো অনেকদিন বছর খানেক আগে এক অফিসার তার পরিবার নিয়ে এখানে এসে ওঠে।কিন্তু তারা আর ফিরে যেতে পারেনি।এইটুকু বলে লোকটা চুপ করে যায়।
সুমিত বলে কেনো কি হয়েছিলো।লোকটা বলে হাম নেহি জানতে তুম লোগ ভাগ ইহাসে ।লোকটার কথা শেষ হয় না তার আগেই একটা কালো মতো কি তার উপরে ঝাঁপিয়ে পরে।
------ চলবে-----

আন্দাজ করছি। পরবর্তীর অপেক্ষায় রহস্যঘেরা লেখা অসাধারণ
উত্তরমুছুনসবে শুরু এখনো অনেক বাকি😊😊
মুছুনকৌতূহল দিয়ে শেষ হল। পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। খুব সুন্দর লাগল। ধন্যবাদ। 👍👍👌👌💥💥💫💫
উত্তরমুছুনপ্রথম প্রচেষ্টা সঙ্গে থাকুন
মুছুন👌👌👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ সঙ্গে থাকুন
উত্তরমুছুন👋👋👋👋👌👌👌👌👌
উত্তরমুছুনশিহরণ জাগছে।পরের পর্বের জন্য মুখিয়ে।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর হচ্ছে 👌👌👌👌💐💐💐
উত্তরমুছুন