শুভ আধ্যাত্মিক আলোচনার বাসর।
# বিষয় - আধ্যাত্মিক।
# নাম- প্রত্যাখ্যান।
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
*প্রত্যাখ্যান* কথাটি আধ্যাত্মিক সাধনার একটি বিশেষ আচরণগত অন্যতম অনুভূতি। বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের অবলম্বন।
মন নিয়ে আমাদের দিব্যজীবনের সাধনা। চেতনা তার শক্তি। এই চেতনার অবস্থান তিনটি স্তরে- দেহে,প্রাণে,মনে। তিনের কাজ আলাদা। দেহ বা প্রাণ যা চাইবে মনের সায় থাকতে হবে। আরেক চেতনা আছে যার নাম ইচ্ছা-সত্তা।
এই সকল চেতনার বহিঃপ্রকাশ জ্ঞাণের দ্বারা ও কর্মের দ্বারা। সাংখ্যে এই দুটি অংশকে বলা হয়েছে পুরুষ ও প্রকৃতি। এই দুজনে সকল কাজের প্রধান হোতা। পরস্পর নির্ভরশীল। কেমন সে নির্ভরশীলতা? উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট করা যেতে পারে।
পুরুষের পা নেই চোখ আছে,আর প্রকৃতির চোখ আছে,পা নেই। খোড়া কেবল দেখতে পারে,অন্ধ চলতে পারে। শরীর পুরুষ ও প্রকৃতির অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন-
প্রকৃতির সদাই কর্মে ভুল থাকার চান্স। ভুলের মধ্যেই তার শিক্ষা সম্পন্ন হয়। সেই ভুল দেখে পুরুষ তা প্রত্যাখ্যান জানাতে নির্দেশ দেয়। সারাদিন বেশি *না* কথাটা বলি এই কারণে। ব্যবহারিক জীবনে যেমন আধ্যাত্মিক জীবনের তেমনি। এই প্রত্যাখ্যান আছে বলেই ন্যায়,নীতি,বিবেক,মনুষ্যত্ব মূল্যবোধ ও জ্ঞান-কর্মের উৎকর্ষ আছে।
প্রত্যাখ্যান(Rejection) একটি মনস্তাত্ত্বিক ক্রিয়া। চিন্তার ক্ষেত্রে যা কিছুই বিস্তার। মনের মধ্যে গজিয়ে ওঠা যাবতীয় চিন্তাই আমাদের সকল কর্মে ব্রতী করে। এই চিন্তা বাইরের। ভেতরে প্রবেশ করে জ্ঞান ও কর্মের সফল করে। আর এই চিন্তাই অন্তর্ভুক্তি উদ্দীপ্ত করে কর্মে ব্রতী করে। আর চিন্তা কাজ না করলে কর্মের ব্যর্থ হতে হয়। আমরা বলি তখন মাথা কাজ করছে না।
প্রাণ ও প্রকৃতির মধ্যে অনেক রকম দোষ- মূঢ়তা,ক্ষুদ্রতা,অলসতা,সংশয় সন্দেহ। অনেক রকমের ভোগ,কামনা,বাসনা, লালসা,স্বার্থপরতা,অহংকার,আত্মগরীমা। এই সবগুলি প্রত্যাখ্যানে সামগ্রী- অন্তর তখনই প্রত্যাখ্যানের সায় দেয় যখন কর্মে ও জ্ঞানে শুভ ও অশুভ,বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব তৈরী হয়।
এই প্রত্যাখ্যান মানে অনভিপ্রেত যত দেহের ক্রিয়াকে,মনের ও প্রাণের ক্রিয়াকে এড়িয়ে চলা। আধ্যাত্মিক উপাসনার মধ্যে থাকলে সকল প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করতে হবে। কাম থেকে কামিনী কাঞ্চন,সংসারের পাঁকে থেকে পাঁক এড়িয়ে থাকতে হবে। বাইরে যেমন আছি তেমনি থাকতে হবে,ভেতরে কিছুতেই গ্রহণ করা চলবে না। যদি প্রলোভন প্রশ্রয় পায় তাহলে প্রত্যাখ্যান খুব মুশকিল হবে। আর যাতে অন্তরের সায় মন থেকে থাকে না তা যদি প্রত্যাখ্যানের বদলে অহরহ গ্রহণ চলে তবে ভুল সবসময় হবে।
এই ভুলের রক্ষাকবচ প্রত্যাখ্যান। যা ভুল বলে গ্রহণ করার পর মোটের কারণে তাতেই লিপ্ত থাকি তবে মনের ও চিত্তের মুক্তি ঘটবে না। এই প্রত্যাখ্যান তারই এক প্রতিষেধক। নবকুমার বনে কাঠ কাটতে যাওয়ার অনুরোধ যদি প্রত্যাখ্যান করত তাহলে বনে একাকী বিসর্জন হতে হতো না। এমন প্রত্যাখ্যানের সামগ্রী প্রতি ক্ষণে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো তৈরি হচ্ছে।
খুবই সুন্দর।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ লেখনী দাদার।
উত্তরমুছুনদারুণ ।💐💐
উত্তরমুছুন