রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০

#বিষয়- আধ্যাত্মিক পর্ব - ১৬ মৃদুল কুমার দাস।

   #নাম- '

যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি'
            ( আধ্যাত্মিক)
               পর্ব - ১৬
উইম্বলডন শহরেই শুরু হলো মার্গারেটের নিজস্ব স্কুল। নাম 'দ্য কিংসলে স্কুল',বা লিজেল রেমঁ অনুসারে 'রাস্কিন স্কুল'।
  দশ বছর বয়সি ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই স্কুল। ৩-৪ বছর বয়স যাদের তারা কিন্ডারগার্টেন। ৪-৬ বছর যারা তারা ট্রানজিশন বিভাগে। ৬-১০ বছর বয়সিরা প্রিপারেটরি। এই তিনটি শ্রেণি নিয়ে ১৮৯৫ থেকে মার্গারেট তাঁর নতুন স্কুল শুরু করলেন। ভর্তির বিজ্ঞাপন দেওয়া হল 'উইম্বলডন নিউজ'পত্রিকার,২- নভেম্বর ১৮৯৫ সংখ্যায়। সেই সঙ্গে মার্গারেট বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছেন সব শিশুকে ভর্তি নেবেন না। বিশেষ যোগ্যতা যাচাই করে তবে ভর্তি নেওয়া হবে - 'An introduction and references required before admission to the school.'
  আগ্রহী অভিভাবকের সংখ্যা বেশি হবে জেনেই নিয়ম করেছিলেন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হতে তারাই পারবে যারা আগাম 'introduction and references' এ যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। ছাত্র ছাত্রী ভর্তিতে তিনি খতিয়ে দেখার পক্ষপাতী ছিলেন।
মার্গারেট সহযোগী হিসেবে পেলেন বিশিষ্ট 'ব্রাশ' চিত্রশিল্পী এবেনিজার কুককে। তিনি রং ও তুলির সাহায্যে ফ্রয়েবেল নীতির প্রয়োগ করতেন। তাঁর মতে শিশুর জগৎকে মুক্ত করতে গেলে, লেখাপড়া শেখানোর আগে তাকে রং ও রেখার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। শিক্ষা প্রণালীতে মার্গারেটের সাথে কুকের অসাধারন বোঝাপড়া ছিল। দু'জনের কর্মক্ষেত্রের বাইরে বন্ধুত্বের সম্পর্কও ছিল অকৃত্রিম।
স্কুলের খ্যাতি অচিরেই প্রতিষ্ঠিত হলো। কিন্তু হ্যালিফাক্স স্কুলে সেই যে মিস কলিন্সের কাছে ঈশ্বরের সন্ধান চলতে শুরু করেছিল তার রেস উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। ব্যক্তিগত দুঃখ নিরসনে তিনি দিনকে দিন আরো ঈশ্বরকে আঁকড়ে ধরছেন। পরমপুরুষের ধারণা মনে ক্রমেই ধোঁয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। আটাশ বছর বয়সের জীবনে তিনি ভেতর থেকে একটা প্রবল আধ্যাত্মিক এষনার প্রবল সাড়া পাচ্ছেন, কিন্তু থিতু হওয়ার মতো সম্বল যত খুঁজে পাচ্ছেন না,ততই রোখ বেড়ে যাচ্ছে। তাই একটি বিশেষ মতকে নিজের মতো করে ধরে নিয়ে চলার চেষ্টা করছেন, কিছুদিন পরে সেই মত আর পোষাচ্ছে না। এমনকি ক্যাথলিক চার্চের থেকে সরে এসে 'চার্চ অফ ইংল্যান্ড'-এর 'ফ্রি থি়ংকার' দলে যোগ দিলেন। কিছু দিন বেশ ভালোই লাগল। এই সম্প্রদায়ের মুখপাত্র ক্যানন স্কট হল্যান্ডের সংস্পর্শ মন্দ লাগছিল না, কিন্তু তাতে থিতু হতে পারলেন না। কারণ এঁদের মধ্যেও সেই গোঁড়ামি তাঁর না পসন্দ।
  মার্গারেটের এই দিশেহারা মনের অবস্থার কথা সহকর্মী ও হরিহর আত্মা প্রিয় বন্ধু কুক জানতে পারলেন। একদিন স্কুলে ছবি আঁকার ক্লাস নিতে এসে তিনি মার্গারেটকে বললেন -
  "লেডি ইসাবেল মার্গসন তাঁর বাড়িতে বন্ধুস্থানীয় কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এক ভারতীয় সন্ন্যাসী ওখানে ঘরোয়া ভাষণ দেবেন। তুমি যাবে?"
আবার ধর্মীয় নেতা! মনে প্রবল সংশয়। কি করবেন মার্গট! আসব পরের আলোচনায়।
         ( চলবে)
    
    @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 


৭টি মন্তব্য:

  1. অসম্ভব সুন্দর একটা তথ্য বহুল লেখা পড়লাম

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...