লরেনকভা ছিলেন একজন খ্রিষ্টান ভদ্রমহিলা।তাঁর জন্মস্থান হলো কলকাতায়। তাঁর পূর্ব পুরুষ দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের আমলে ব্যবসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় আসেন।তারপর থেকে লিসার পূর্ব পুরুষরা আর নিজের দেশে কোনদিনও ফিরে যাননি।
সাল তখন উনিশো পঞ্চান্ন।লিসার বয়স তখন আঠারো। উচ্চশিক্ষার জন্য লিসা কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হলেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হলো প্রফেসর লালবিহারী দাসের । তিনি ছিলেন একজন মস্ত বড় সমাজসেবী।লিসার উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পর লালবিহারী বাবু লিসাকেও তাঁর হাতে গড়া একটি অনাথ আশ্রমের শিক্ষিকা হিসেবে যুক্ত করালেন। লিসা বেশ ভালোই ছিলেন সেই সকল অনাথ ছেলে মেয়েদের নিয়ে।
পরবর্তী কালে লিসার এইকাজে যুক্ত হওয়ার জন্য পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকতো কিন্তু লিসা এই পেশাটাকে প্রচন্ড ভালবেসেছিলেন ।তিনি সেই অনাথ ছেলে মেয়েদের জন্য কোন পারিবারিক বন্ধনেও আবদ্ধ হননি। সেই অনাথ ছেলে মেয়েদের কাছে লিসা ছিল মায়ের মতন।
পরবর্তী কালে লালবিহারীবাবু লিসাকে সেই অনাথ আশ্রমের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং লিসা সারাজীবন সেই সকল অনাথ ছেলেমেয়েদের নিয়েই ছিলেন।
লিসা জাতপাতে বিশ্বাস করতেননা। তিনি সর্বদাই সকলকে বলতেন যে, ঈশ্বর এক। আমরা মানুষরাই ঈশ্বরকে ভাগ করে দিয়েছি। আর তখন থেকেই নানা ধর্মের উৎপত্তি।তিনি অনাথ আশ্রমের ছেলেমেয়েদের বলতেন জাতপাত না দেখে মনুষ্য সেবা করাই হলো ঈশ্বরের সেবা করা।এতেই আত্মার শুদ্ধি। তিনি মারা যাবার পর তাঁর ইচ্ছাতেই হিন্দু রীতিতে পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কারণ? খ্রিষ্টান হলেও তার পুরো জীবনটাই যে কেটেছিল কলকাতায়। সে যে সবসময় নিজেকে এখানকার বাসিন্দাই ভাবতেন।
কপিরাইট রিজার্ভ ফর সোমা দে।
বাহ্! খুব সুন্দর লাগল। অসাধারণ!❤❤⚘⚘🖋
উত্তরমুছুনধন্যবাদ দাদা।
উত্তরমুছুনবাহ্, খুব ভালো লাগলো ❤️💕🌷
উত্তরমুছুনধন্যবাদ বন্ধু। 🍫🍫🍫🍫
উত্তরমুছুন