রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১

# নাম- আত্মা ও পারলৌকিকতা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসর। 
  # বিষয় - *আধ্যাত্মিক।*
   # নাম- 
*আত্মা ও পারলৌকিকতা*।
  # মৃদুল কুমার দাস। 

        মানুষের সম্মিলিত পরিচয় মানবসভ্যতা। মানবসভ্যতা ব্রহ্মান্ডেরই অংশ। ব্রহ্মান্ডের নিত্য প্রকাশ মানুষের মধ্য দিয়ে। একক মানবসভ্যতা আবার বহুধাবিভক্ত- জাতিভিত্তিতে ও বর্ণভিত্তিতে। 
    এই মানুষ আসে কোথা থেকে? এর উত্তর বিজ্ঞানের কাছে নেই। বিজ্ঞান শুধু দৃশ্যজগতের জ্ঞান সংগ্রহ করতে পারে। গবেষণা দিয়ে যেখানে অজ্ঞতা সেখানে জ্ঞানের আলো জ্বালতে পারে। মানুষের আগমনের উৎস আবিষ্কার তার কাছে অসাধ্য বা সাধ্যাতীত। শুধু দৃশ্য জগতের জ্ঞান বৃক্ষ সে।
    এবার আসি আধ্যাত্মিকতার কথায়। আধ্যাত্মিক অনুভবের আলোকে এই ধারণা স্পষ্ট রূপ দান করে মোটামুটি একটা পথের সন্ধান দিয়েছে। যথার্থ মীমাংসা দিতে গিয়ে মতান্তর এসেছে। তবে আত্মা সম্পর্কিত ধারণার একটা সর্বসাধারণীকৃত ধারণা আছে। আত্মা অবিনশ্বর। দেহের লয় আছে। আত্মার নেই। আত্মা নতুন প্রাণে আশ্রয় নেয়,ঠিক পোশাক বদলের মতো। 
  শঙ্করাচার্য জ্ঞাণ ও কর্মের শ্রেষ্ঠ কে সেই নিয়ে মীমাংসক মন্ডনমিশ্রকে পক্ষকালীন সময়ে পরাস্ত করতেই,সদ্য ছোড়া শঙ্করাচার্যের কাছে মন্ডন মিশ্রের স্ত্রী উভয়া ভারতীদেবী স্বামীর এই শোচনীয় পরাজয়কে কোনো মতেই মেনে নিতে পারলেন না। শঙ্করাচার্যকে তর্ক যুদ্ধে আহ্বান করলেন। তর্কে অগ্রসর হয়ে শঙ্করাচার্য পড়লেন মহাফাঁপরে। ভারতী দেবীর যৌনজীবন নিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্নের উত্তর শঙ্করাচার্যের জানা নেই। কারণ আট বছরে সমূহ বেদ  ও অল্প বয়সে সন্ন্যাস নিয়ে যৌনজীবন সম্পর্কে তাঁর কিছুই জানার সুযোগ হয়নি। তখন শঙ্করাচার্য পনর দিন সময় চাইলেন। এই পনর দিনের মধ্যে নিজের দেহের আত্মা ছেড়ে এক মৃত রাজার দেহে স্থান নিলেন। আর রাজার তিন রাণীর সঙ্গে যৌনজীবন সম্পর্কে সবদিকের পূর্ণ জ্ঞান লাভ শেষ হতে পনর দিনের মাথায় রাজার আত্মা ছেড়ে আবার নিজের দেহে প্রবেশ করলেন। আর ভারতী দেবীকে অনায়াসে তর্ক যুদ্ধে পরাস্ত করলেন। এই আত্মা কী?
  আত্মার স্বরূপ এক। অদৃশ্য। আঙুল তুলে চিনিয়ে দেওয়া যায় না। তবে দেহ দৃশ্য। দেহের দৃশ্য বলে তার পরিচয়ের নানাসূত্র - নাম, বংশ,বাবা,মা,দেশ,জাতি,সম্প্রদায় আরো কত কি। আত্মার স্বরূপ এক। কিন্তু দেহের গঠন,পরিচয়,দেশ কাল ভেদে মানুষে মানুষে কত পার্থক্য। এই পার্থক্যের হেতু পরিবেশগত। ধরিত্রীর পরিবেশ ধারণ বিভিন্ন- পরিবেশ আপাতপক্ষে তিন ধরণের। যথা- গ্রীষ্মপ্রধান,শীতপ্রধান ও নাতিশীতোষ্ণ। এই পরিবেশের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন, আচার অনুষ্ঠান,পোশাক পরিচ্ছদ নানারকম। ভারতবর্ষ তার বাস্তব উদাহরণ। বিবিধের মাঝে মিলনের মহান মন্ত্র ধ্বণিত হয়। 
  খাদ্য বস্ত্র আচার আচরণ  রীতিনীতিই এনেছে সম্প্রদায়ের বিভিন্নতা। আর বর্ণ এসেছে তাপমাত্রার হেরফেরে। 
  এই কথাগুলি মাথায় রেখে মূল আলোচনায় আসি। আত্মা কোথা থেকে আসে। আবার যায় কোথায়? এর উত্তর নেই। তবে আত্মার এই ধরিত্রীর জল আলো বাতাসে পুষ্ট। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানে অভ্যস্ত হয়,সাংসারিক মায়ার অধীন হয়। শরীরের ক্ষয়িষ্ণুতা থেকে দেহের মৃত্যু যাকে আয়ুর সমাপন বলি,দেহের মায়া কাটলেও আত্মার মায়া কাটে না। আত্মার মায়া কাটানোর জন্য   
যে কাজ করতে হয় তাকে পারলৌকিক ক্রিয়া বলা হয়। এই পারলৌকিক ক্রিয়া সম্প্রদায় ভেদে ভিন্ন  ভিন্ন  কেন?
   পরিবার,সংসার সম্প্রদায়গত জীবন জীবিকার মধ্য দিয়ে প্রত্যেকে একটি জীবদ্দশা সম্পন্ন করে। মায়া কাটলে দেহ কাঠামোর লয়কে( দাহ,কবর) বলে মৃত্যু। দেহের লয় বা মৃত্যু হলেও আত্মার লয় নেই বলে প্রিয় পরিজনের মধ্যে ঘোরে ফেরে। তার মুক্তির জন্য পরিবার যে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে,যেমন- মুখে আগুন,মৃতাসুজ পালন(দিন ধরে), হবিষ্যি, শ্রাদ্ধ,নাম কীর্তন, ব্রাহ্মণ ভোজন, গীতা দান এ হিন্দুরীতিতে আত্মার মুক্তির এক পরিক্রমা। তাই পারলৌকিক ক্রিয়া। 
         সাংসারিক জীবনের যা যা চাহিদা ছিল তা আনুষ্ঠানিক পালনের মধ্য দিয়ে আত্মার মুক্তি ঘটানো হয়। আর শেষ পর্ব গয়ায় পিন্ডদান। ইসলাম বা খ্রিষ্টদের এই পারলৌকিক ক্রিয়ার পদ্ধতি আলাদা কারণ প্রাত্যহিক জীবনযাপন   থেকে,আহার, বিহার, খাদ্যাভাস থেকে আচার আচরণ,রীতিনীতি,ধর্মীয় আচরণে আত্মার যে দেহের অভ্যাস ছিল দেহের বিনাশের সাথে সাথে বিধি সম্মত পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এই সম্প্রদায়গত পরিচয় ও জীবনযাপনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পারলৌকিক ক্রিয়া যে যার মত করে পালন করে আত্মার মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গীতা পাঠ, মন্ত্রচ্চারণ,হরিণাম আত্মার মায়ামুক্তির যে অনুষ্ঠান তাই পারলৌকিক অনুষ্ঠান। ইসলামের কাছে সে অনুষ্ঠানের পদ্ধতি আলাদা। খ্রিষ্টানের আলাদা।
                 *******
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

৫টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...