শুভ প্রভাতী আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - *আমরা জানি যে শক্তির সৃষ্ঠি বা ধ্বংস হয় না, শুধু রূপান্তর হয়। তাহলে আমরা যে চিন্তা শক্তি বলে থাকি, আমরা যে অনেক কিছু চিন্তা করে থাকি, চিন্তা গুলোর কি হয়?* "
# নাম-
*চিন্তাশক্তির অবিনশ্বরতা।* ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
শক্তির নানাপ্রকারের (আলোক,তাপ,তড়িৎ,চৌম্বক...) মধ্যে চিন্তাশক্তি অন্যতম একটি। ভরের যেমন নিত্যতা শক্তি পাই,চিন্তারও একটা নিত্যতা শক্তি আছে। চিন্তাশক্তি দিয়ে সকল শক্তিকে(আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক) ধারণ করি। মাথাই চিন্তাশক্তির উৎস। মাথার স্নায়ুতন্ত্র যত উজ্জ্বীবিত চিন্তাশক্তি তত শক্তিশালী। এই চিন্তা ভেতর থেকে উৎপন্ন হয়,বাইরে তা নিক্ষেপিত হয়। আবার বাইরের চিন্তাশক্তি ভেতরে গৃহীত হয়।
এখন এই শক্তিই জীবজগৎ ও জড়জগতকে সচল রাখে। শক্তিই সকল প্রানের ও জড়ের অভ্যন্তরীণ পরিচয়। যার যতটা শক্তি দরকার সে ততটাই নিয়ে বেঁচে থাকে। এককোশি অ্যামিবার শক্তি,আর রয়েল বেঙ্গল টাইগারের শক্তি নিশ্চয় এক নয়। যার যতটা শক্তি দরকার তাই নিয়ে সে ক্রিয়াশীল হয়। অস্তিত্ব বজায় রাখে। অস্তিত্বের জন্য লড়াই করে। টিকে থাকার ভিত্তি হল শক্তি। শক্তির বলে প্রকৃতির এক এক উপাদান নিজেদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে যে যার শক্তির স্ফূরণ ঘটায়। বটগাছের ফল ঐ অত বড় গাছ সৃষ্টির শক্তি কোথা থেকে পেল!
আমাদের শরীর খাদ্য গ্রহণ করে। কারণ খাদ্যের মধ্যকার শক্তি শরীরের দরকার। এই শক্তির রূপান্তর হয় বলে ক্ষিদে পায়। শক্তি হল বিচিত্র গতিশীল প্রক্রিয়া। শক্তিই ত্রিভুবনের পরিচয়কে প্রকৃতি,জড় ও জীবের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করছে।
ধরা যাক মহাশূণ্য ব্রহ্মান্ড। এর আদিও নেই। অন্তও নেই। আবার ক্রমবর্ধমান। এই ক্রমবর্ধমান শক্তির নানা রূপান্তর ঘটছে। শক্তির রূপান্তর ঘটে বলেই শক্তির ক্ষয় নেই। মহাশূণ্য বা ব্রহ্মান্ডের শক্তিবিচার সাধ্যাতীত। সেই শক্তির তিলমাত্র ধরিত্রী গ্রহণ করে। মানুষ সেই শক্তির উৎস ও তার ব্যাখ্যা দিতে বৌদ্ধিক শক্তির বিকাশ ঘটায় চিন্তাশক্তির সাহায্যে। মনের মধ্যে চলে তার বিচিত্র গতিশীলতা।
শক্তির ক্ষয় নেই। শক্তিকে জানতে মানুষের চিন্তা সেই শক্তির সঙ্গে জোটে। শক্তিকে নিয়ে চিন্তাশক্তি। শক্তি পাশে স্থান দেয় বলে চিন্তা স্থান পায়। আবার চিন্তা না থাকলে শক্তির স্বরূপ বোঝা যেত না। চিন্তা শক্তিকে অহরহ রূপান্তরিত করে যেন চিন্তার শক্তির উপর মহুরীগিরি করছে। আর সকল শক্তির উৎস মহাশূন্য বলে,তা থেকে শক্তির স্রোত আলোকশক্তি,তাপশক্তি...) অনবরত বইছে বলে E= mc2 শক্তির স্বরূপের এই সামাান্যটুকুকেও বুঝতে জীবনের পর জীবন কেটে যায়।
শক্তির নিত্যতা সূত্রের উপর চিন্তার-মহুরী যেন আশ্রিত। চিন্তা দিয়ে শক্তির নানান স্বরূপ ধরার জন্য শক্তিতে সমর্পণ করে বসে আছে চিন্তা। মানুষই শক্তির সঙ্গে চিন্তার অহরহ ছুটছে তো ছুটছেই -(চিন্তা+শক্তি = চিন্তাশক্তি)। শক্তির শেষ নেই বলে চিন্তার শেষ নেই। মানুষ চিন্তাশক্তির ফসল অহরহ ভোগ করে - সে ভোগ সু ও কু। সে চিন্তার জন্য সুখ ও দুঃখ। সে চিন্তার জন্য আনন্দ ও বেদনা। চিন্তা দুশ্চিন্তা। চিন্তা সুখদায়ক। চিন্তার পীড়ন আছে। চিন্তার স্ফূর্তি আছে। চিন্তাশক্তির জন্য ত্রিশ বছরে বুড়ো হয় কেউ, আবার কেউ আশি বছরে এভারগ্রিণ।
সুতরাং শক্তির সূত্রে চিন্তারা জীবনের মধ্যেই বহুরূপী ও বহুমুখী হয়ে শক্তির নিত্যতা সূত্রের মধ্যে বিরাজ করে। রবারের মত। যত টানবে তত বাড়বে। চিন্তাশক্তির স্ফূরণ না ঘটালে এক জায়গায় জমাট বেঁধে থাকবে। চিন্তা তিলেও আছে। তালেও আছে। সাইজ তিল(ক্ষুদ্র) ও তাল (বৃহৎ)। চিন্তাশক্তি আর কোথায় যাবে, সদাই খেলে কেবল মানুষের মধ্যে। সে বড্ড মায়ার অধীন। আবার মায়া থেকে মুক্ত - মুক্তির আনন্দ!
তাই চিন্তার কি হয় নয়,চিন্তারা কী করে। চিন্তারা কী করে ভাবলেই উত্তর মিলবে। আবার উত্তর মিলবে না। তাই তড়িতাধানের মত সদাই চিন্তার কেন্দ্রে বস্তুর গঠনের প্রোটন,নিউট্রণ ও ইলেকট্রনের মত চিন্তাশক্তিরও যেন তেমনি গঠন ভূমিকা মনে করাটা যদি চালিত করি এও চিন্তাশক্তির এক দারুণ মজা। ঠিক যেন মন একটি ফুটবল মাঠ। সেই মাঠের মধ্যে চিন্তাশক্তির প্রোটন ও নিউট্রণ দুটো দলের মত খেলে। আর ইলেকট্রন দর্শকের মত মাঠের বাইরে ফল ভোগ করে। অন্তর ও বাহির আছ তুমি....!
*****
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
অপূর্ব বিশ্লেষণ করেছেন দাদা
উত্তরমুছুনঅসাধারণ, দুর্দান্ত চিন্তা ভাবনা 🙏
উত্তরমুছুনঅসাধারণ
উত্তরমুছুনঅসাধারণ 👌👌👌
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনবাঃ খুব সুন্দর সমৃদ্ধ হলাম
উত্তরমুছুনঅসাধারণ চিন্তার বিশ্লেষণ....
উত্তরমুছুনঅসাধারণ লেখনী
উত্তরমুছুনঅন্যরকম।খুব সুন্দর লেখা।
উত্তরমুছুন