চিলেকোঠার চিঠি
কলমে:সুদেষ্ণা দত্ত
দিশা মিত্তির বাড়ীর নতুন বউ।শ্বশুর বাড়ীতে বিয়ের পর এটাই দিশার প্রথম পুজো।নতুন বউকে তোলা তোলা করেই রাখেন শাশুড়ি মা।আপন ছন্দে মজে থাকে দিশা।এক বনেদী পরিবার থেকে আর এক বনেদী পরিবারে আসা।এখানে লোকজন অনেক।তাই বদ্ধ ঘরেই ডানা ঝাপটায় দিশা।চিলেকোঠার ঘরটা তার বড় প্রিয়।বাপের বাড়ীতে ওই ঘরটাই ছিল অন্তরের অন্দরমহলে ডুব দেওয়ার জায়গা।পক্ষীরাজে চেপে সে কত তেপান্তরের মাঠ ভাসিয়েছে তার সুরেলা কণ্ঠে।সেই দুরাগত সুরের টানেই তার স্বামী প্রভাত হয়ে উঠেছে আজ তার একান্ত আপন।কত সুখ—দুঃখের নক্সীকাঁথায় ফোঁড় তুলেছে ওই ঘরে।কিন্তু এবাড়ীর চিলে কোঠার ঘরে রাজ্যের জিনিস স্তূপাকার করা।এই উজাড় করা আকাশের পানে ধাবিত ঘরটায় দিশার যে এক অমোঘ টান আছে তা বোঝে প্রভাত।তাই প্রভাতের নির্দেশে ওই চিলেকোঠার ঘরই হতে চলেছে দিশার একান্ত আপনার উপাসনা ঘর।
ফেরিওয়ালাকে ডেকে শাশুড়ি মা পুজোর আগেই এই ঘর পরিষ্কার করিয়ে দিশার হাতে তুলে দিতে চান।তাই জোরকদমে আজ কাজ চলছে।শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে দিশাও হাত লাগিয়েছে।ঘরে কত্ত জিনিস।এ যেন আলাদিনের জিনের এক আশ্চর্য জগৎ--এমনই মনে হয় দিশার।এক একটা জিনিসে হাত ছোঁয়ালেই ভেসে উঠবে এক একটা গল্প।
বেশ কিছু পুরোনো বইপত্রও রয়েছে, সে সবও বিক্রি করে দিতে চান শাশুড়ী মা।কিন্তু দিশা বলে, “থাক না মা,আমি ওগুলো পড়ব”।ওদের পাশে সরিয়ে রাখে।পুরোনো উনুনের কাঠামো,ভাঙা হ্যারিকেন,হাতল ভাঙা চেয়ার,রঙ জ্বলা—অল্প ভেঙে যাওয়া শোপিস—বাসনের ফাঁকে উঁকি দেয় শৈল্পিক কারুকাজ করা এক সুদৃশ্য কাঠের ছোট বাক্স।তবে কাজ অনেকটাই নষ্ট হতে বসেছে।আর কাঠও গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে!তবে বাক্সটা খুব পছন্দ হয় দিশার।বাক্সটা খুলে দেখে একটা বোতাম।কিন্তু এবার শাশুড়ী মা বাধা দিয়ে বলেন, “দিদিশাশুড়ীর মত রাজ্জির জিনিসের পতি মায়া বাড়িয়ে আর জঞ্জাল বাড়িও না দিকি বৌমা।সব আপদ বিদায় কর”।ফেরিওয়ালা জিনিস পত্তর গুছিয়ে বেশ খোশ মেজাজেই ঘর মুখো হয়।
দুপুর বেলায় শরতের শিউলি ভেজা বাতাসের গন্ধ মেখে চিলেকোঠার ঘরে পুরোনো বইয়ের পাতা ওল্টায় দিশা।হঠাৎ হাতে আসে একটা চিঠি।খুলব কি খুলব না ভেবে শেষে খুলে দেখে তাতে লেখা—"ব্রিগেডিয়ার বাবু আমার জন্য কাশ্মীর থেকে তোমার আনা এই কাঠের বাক্সে আমি রঙিন সুতো দিয়ে স্বপ্নের জাল বুনি”।হ্যাঁ ঠিক তো,দিশার মনে পড়ে ওখানে কোন সুতো ছিল না বটে,তবে একটা বোতাম ছিল।আবার পড়তে শুরু করে চিঠি।"জানো এই বাক্সে খুব যত্ন করে তোমার শেষ যাত্রার পোশাকের একটা বোতাম রেখেছিলাম।বাবুর উচ্চতার জন্য দেশ সেবার কাজে যাওয়া হল না।খুব ইচ্ছে ছিল নাতি হলে তাকে গড়ে তুলব তোমার স্বপ্ন পূরণের কান্ডারী করে।নাতি এল ঘর আলো করে।কিন্তু অমন অলুক্ষুনে কাজে বৌমা ছেলেকে পাঠাতে চায় না।বাবুরও সায় আছে মনে হয়!জানিনা মিত্তির বংশের আর কেউ তোমার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসবে কিনা!”ঠাম্মি স্নেহলতার চিঠি পড়া শেষ করে দিশা।ভাবে দিম্মার এক বাক্স স্বপ্নও আজ ফেরিওয়ালা নিয়ে চলে গেল।চোখের পাতা ভারী হয়ে ঘুম নামে।এক অনাগত ছোট্ট শিশু সৈনিক মায়াঞ্জন পরিয়ে দিয়ে যায় দিশার দু’চোখে।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ছবি সৌজন্য:গুগুল

বাহ্! দারুণ লাগল। অসাধারণ!👌👌❤❤⚘⚘🖋
উত্তরমুছুনদারুন... দারুন..👌👌👌
উত্তরমুছুনDarun.❤❤
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনদুর্দান্ত 👌❤️🌷
উত্তরমুছুনবাহ! খুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুন