মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

#নাম- 'প্রকৃতির চিত্রপট।' ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ চিত্র আলোচনা-বাসর।
   # বিষয় - *চিত্রালোচনা।*
  # নাম- *প্রকৃতির চিত্রপট।*  ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

    আকাশ গাঙে আকাশ সুন্দর। স্থলভূমি সুন্দর সমুদ্রের কল্লোলে। সুন্দরের সুন্দর, অসুন্দরের সুন্দর জাগতিক আপেক্ষিকতা তার  ক্ষণে ক্ষণে রূপান্তর নানা। রূপ থেকে রূপে ধায় সেই তো দেখার আনন্দ। রূপের বদল না এলে দেখাটা যে মনের ক্ষুধা-তৃষ্ণার অফুরন্ত বেগ,আবেগের অনন্তের সুধা সেই তো।
  বিরল রূপ ক্ষণিকের আগমণ। প্রাকৃতিক লীলার দানের কাছে মানুষ ঋণী - প্রাকৃতিক লীলার ক্ষণে ক্ষণে বদলের কাছে। যখন প্রকৃতির সেই রূপ ব্যক্তি হয়ে ও সমষ্টি হয়ে রূপের ঋণী হই তখন ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব। 
  চিত্রে আকাশ গাঙের বিরল রূপ সৃষ্টির জন্য মেঘের কাছে সমবেত মানুষের প্রত্যক্ষের কাছে  দৃশ্যের অতুলনীয়তা ধরা দিয়েছে। আর সেই চিত্ররূপ সময়ের পাতায় মুদ্রিত হয়ে গেল। সময়ের মুহূর্ত সময়ের পাতায়  পেল চিরন্তনের সামগ্রী হয়ে। ছবি পেল এক গতিশীল রূপ। আকাশ আলোর সাহায্য নিয়ে মেঘের কালোরূপের সঙ্গে যেন অপরূপ ছবি এঁকেছে। এই ছবির স্রষ্টা প্রকৃতি। মানুষ তার সাক্ষী। মানুষে ঘণ ছায়া,মেঘে আলো কালের খেলা সমষ্টি আবহে এর তলাতল বিচার করতে ভাব পাগলপ্রায়।
          কালো সরালে এমন বিরল দৃশ্য পাওয়া যাবে না। কালো সরিয়ে সবুজ আনলে রূপ বদলে যাবে। সবুজের রূপ সবুজের জন্য,কালোর রূপ কালোতেই। কালোর জন্য জগত আলোময়।
       কালো সরানোর কথা কথাটি প্রকৃতি থেকে ঘুরিয়ে জীবনের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। প্রকৃতির এমন বিরল রূপে যে মানুষ ঋণী,তার জীবনের কালোর সঙ্গে এর কোনোও সম্পর্ক নেই। সমবেত মানুষের আনন্দ উপভোগকে জীবনের কালোর সঙ্গে তুলনা করে এমন ভাবা,ভাবের ক্ষুদ্রতা,সাংসারিক মোহজনিত দুঃখকে এর মধ্যে চাপিয়ে মনকে বিষাদ করা সে মনের ক্ষুদ্রতা ছাড়া কিছুই নয়। প্রসঙ্গত বলাই যায় বঙ্কিমচন্দ্রের *কপালকুন্ডলা* উপন্যাসের  নব কুমার বৃদ্ধকে সমুদ্রের দিকচক্রবালে অপূর্ব সৌন্দর্য যখন দেখতে বলছে বৃদ্ধকে তখন বৃদ্ধ গ্রামের বিশ পঁচিশ বিঘা জমির ধান লুঠ হওয়ার আতঙ্কে চিন্তাগ্রস্থ। অপরূপ সৌন্দর্য বৃদ্ধের কাছে বৃথা।
   ঠিক আছে ১৯৯৫ এর সূর্যগ্রহণের জন্য চারদিক যে অন্ধকার ঘণিয়ে এসেছিল,সেই অন্ধকারকে জীবনের অন্ধকার ঘোঁচানোর কথার সঙ্গে তুলনা কেউ ভুলেও ভাবে না। অকাল অন্ধকার,পাখি বাসায় ফিরছে,ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে,জোনাকি পাখা মেলছে...ইত্যাদি। এই অন্ধকার কি জীবনের অন্ধকার ঘোচানোর কথা আসবে! 
    
 এমন কথা সাংসারিক বুদ্ধির কথা। এই সৌন্দর্যের মধ্যে জীবনের কালোরূপের তুলনা করে জীবনের কালো সরানোর কথা বলা হচ্ছে। যে মানুষটা বলছে তার ভাবনার বুদ্ধিগত স্তরে মোহবুদ্ধিই প্রকট হওয়াকে চিহ্নিত করে। 
  চিত্রকে নির্মোহ দৃষ্টিতে ছুঁতে চাইলে এর ভেতরের কথা এক। আর মোহাবিষ্ট হয়ে বিশ্লেষণ করলে অন্যরকম। ছবিটির গুরুত্ব ব্যক্তির কাছে কেমনভাবে হবে তা আপেক্ষিক। বিশ্লেষণের ভঙ্গীতে ব্যক্তিক ও নৈর্ব্যক্তিক  গুরুত্ব ভিন্ন ভিন্ন। 
                 ধন্যবাদ।
               *******
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

৫টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...