শুভ সান্ধ্য আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - *বিজ্ঞান।*
# নাম- *স্থিতি ও গতি।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
স্থিতি ও গতি বিগ ব্যাং- এর একটা সৃষ্টির মূল রহস্য। সত্যিই রহস্য। বিজ্ঞান এই রহস্যের লক্ষ্যভেদ করতে চাইলেও একে আজও অসম্ভব লাগে,লাগে বড়ই অসহায়। কিন্তু চেষ্টার শেষ নেই। চেষ্টা করেই যাচ্ছে সাফল্যের মুখ দেখতে পাচ্ছে না বলে,বরং তাই গবেষণার গতিশীল অবস্থা।
গতিশীল অবস্থা বলের ফল। এই "বল চার রকম। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক(যার ক্রিয়ায় পাখার ব্লেড ঘোরে বা খাবার হজম হয়),উইক(যা তেজস্ক্রিয়তার মূলে),স্ট্রং(যার প্রভাবে পরমানুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রণ ঠাসা থাকে) এবং গ্রাভিটি( যার বলে আপেল মাটিতে পড়ে,চাঁদ পৃথিবীর চারধারে ঘোরে)। এর বাইরে আর একরকম বলের হদিস পাননি বিজ্ঞানীরা।" কথাগুলি হুবহু তুলে দিলাম পথিক গুহের প্রতিবেদন 'পঞ্চম বলের গোলকধাঁধা'( আনন্দবাজার - ১৭/০৭/২০২১ পৃ:-৪) রচনা থেকে।
পথিক গুহ বিশ্লেষণে পাই এই চারটি বলের বাইরে আর একটি বল আছে যেটি পঞ্চম বল,সেই আসলে সবের নিয়ন্ত্রক। যেমন অন্ধকারই হল বিগ ব্যাং এর মূল শক্তি। সেই এই চারপ্রকার বল দিয়ে গ্যালাক্সিকে গতিশীল করেছে যার পরিমাণ বড়জোর চার পাঁচ শতাংশ। আর বাকি পঁচানব্বই শতাংশ তার আস্তিনে লুকানো বল। যে বলের প্রভাবে সে ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। তার রহস্য বিজ্ঞানের কাছে অধরা। ব্রহ্মান্ডের অঙ্গুলি হেলনে গ্যালাক্সিরা গতিশীল। কেউ কারো থেকে ছিটকে বেরিয়ে যাচ্ছে না। গ্যালাক্সিরা সব পদার্থ নিয়ে পরিচিত। সেই পদার্থ নিয়ে জ্ঞান লাভের বিষয়কে আমরা পদার্থবিজ্ঞান বলি।
গতিশীল অবস্থার রহস্যের পঞ্চম বল কী তাই জানা অসম্ভব,অথচ সেই পদার্থবিজ্ঞানের আসরে নামিয়ে দিল- গ্রাভিটেশন ল, আপেক্ষিকতাবাদ,কোয়ান্টাম থিওরি,জীব ও জড়ের সম্পর্ক ইত্যাদি। এর মধ্যে আপেক্ষিকতাবাদ এক অদ্ভূত তত্ত্ব। যা কিছু বোধগম্যতার শেষ বলে কিছুই নেই - বিগ ব্যাং এর তাই যেন সকল বিষয়ের ব্যাখ্যার শেষ সিদ্ধান্ত না পাঠিয়ে মীমাংসাহীন আপেক্ষিকতাবাদকে তার দূত করে পাঠিয়েছে। আর এই রহস্য বুঝতে সবকেই বিগ ব্যাং গতিশীল রেখেছে। আমরা যাকে স্থির বলি কোনোকিছুই স্থির নয়। স্থির আপাত মনে হয়,বাস্তবে কোনকিছুই স্থির নয়। সবের আকার প্রোটন ও ইলেকট্রন কনার পজিটিভ ও নেগেটিভ তড়িতাধানের খেলা। পাথরকেও আপাত স্থির মনে হলেও কিন্তু পাথরের অস্তিত্ব প্রোটন ও নিউট্রণের খেলা আছে। স্থির বা স্থিতি থেকেই সবের জন্ম। গতিশীল অবস্থা তার স্থিতিশীলতার যথার্থ স্বরূপ। ব্রহ্মান্ড মহাশূন্য,কোনো এক অদৃশ্য বলের দ্বারাই সে প্রকাশিত হচ্ছে - বিশকবির ভাষায় - "আমায় নইলে ত্রিভূবনেশ্বর তোমার প্রেম যে হতো মিছে।" কবি কত বড় একটা সাহিত্যের আঙিনায় বিজ্ঞান নিয়ে খেলে গেলেন,এর রহস্য ঐ পঞ্চম বলেই আছে। কিন্তু তাঁকে ছোঁয়া সাধ্যাতীত এখনো।
তাই যতক্ষণ গতিশীল ততক্ষণ জীবন্ত। আর স্থিতিশীল মানেই সে অহরহ গতিশীল অবস্থায় ফিরতে চাইবে। তার মধ্যেই যতক্ষণ প্রকাশ ততক্ষণ গতিশীল অবস্থা। দৃশ্যমান জগতের সবটাই গতিশীল,আর গতিশীল না হলে জাগতিক ও মহাজাগতিকে এতকান্ড কিছুই জানার কৌতুহল মিটত না। তা ঐ বড়জোর পাঁচ শতাংশ। বাকি পঁচানব্বই শতাংশ অদৃশ্য এক শক্তি যার রহস্য অনুধাবন অসম্ভব বলে সেই স্থিতিশীল শক্তিই তার সামান্য অংশ গতিশীল করে আমাদের দিকে পাঠাচ্ছে। আর গতিশীল ও স্থিতিশীল অবস্থার মূল্যায়ণ একটা চলনসই ব্যাখ্যা নিয়ে সন্তুষ্ট কতটা এর ব্যাখ্যাও কারো কাছে নেই।
ধন্যবাদ।
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
তথ্যবহুল লেখা । খুব সুন্দর👌
উত্তরমুছুন