*একটা সিদ্ধান্ত*:
অনিমেষ জীবনে বহু বছর অবিবাহিত থাকার পর আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব দের হাজার কথায় এবার বিয়েটা করেই ফেলল। বিশেষ করে শেষ বয়সের বিধবা মায়ের কথা রাখার জন্য। নিজে দেখতে একজন সুপুরুষ হওয়া সত্ত্বেও জীবনে একটাই ভয় ছিল নিজের পায়ে ঠিকঠাক মতো দাঁড়াতে পারেনি তাই সংসার কে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা বোধহয় তার নেই। সামান্য একটা পানের দোকান থেকে যা ইনকাম হয় তাতে কোন মেয়েকে সচ্ছল রাখা বোধহয় তার পক্ষে সম্ভব নয়। এরকম হাজার ভাবনার ভিড় তাকে গ্রাস করে বসতো । তাই বলে কি মানুষ সংসার পাতে না? হাজার দরিদ্রতার মধ্যেও তো মানুষ সুখ খুঁজে বেড়ায়। তবে ওর দোষ কোথায় সংসার বাঁধতে? আর ও যা ইনকাম করে মোটামুটিভাবে একটা সংসার চলে যেতেই পারে। মেঘে মেঘে বেলা বেশ ভালই ঘনিয়ে এসেছিল অর্থাৎ দেখতে দেখতে অনিমেষের বয়স প্রায় 38 বছরে যখন ঠেকেছে তখন এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়। অনিমেষের বয়স অত খানি হলেও চেহারার জন্য বয়স বোঝা দায়। মেয়েটিও অবশ্য জানতে পেরেছিল বিয়ের পর যে তাদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান প্রায় কুড়ি বছর। স্ত্রীর ওই কম বয়সী মনের আবেগ গুলোকে ভালোলাগাকে আর শখ পূরণ করতে গিয়ে অনিমেশ আজ সর্বস্বান্ত হতে বসেছে। মাঝে মাঝে স্ত্রীর দামি গয়নাদামি দামি আসবাব পত্রের অভাব মেটাতে না পেরে নিজে এক প্রকার হীনমন্যতায় ভোগে। এরইমধ্যে দুইটি সন্তান ও জন্মগ্রহণ করেছে। তাদের ওষুধপাতি চিকিৎসা, পড়াশুনো, ভালো মন্দ খাওয়ানো, শ্বশুরবাড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে চলা এই সবকিছু করতে করতে অনিমেষ যেন আজ ক্লান্ত। এই নিয়ে ঘরের মধ্যে নিত্য অশান্তি আজ তাকে পেয়ে বসেছে। তাই কারনে অকারনে দাম্পত্য টা যেন একেবারে বিষময় হয়ে উঠছে। ওদিকে স্ত্রীরও
যেন কেমন আনরোমান্টিক মনে হয় তার স্বামীকে। মনে হয় এটা যেন তার জীবনের একটা ভুল সিদ্ধান্ত। স্ত্রী দাম্পত্য সম্পর্কে সুখি নয় বলে নিজেকে অনেক বেশি সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছে। নিজেকে একপ্রকার সহজলভ্য পণ্য মনে করেছে।উঠতি বয়সে কত ছেলেদের কাছ থেকে লাইক কমেন্ট এ আজ তার জীবন যেন এক রঙ্গিন মোড়কে মোড়া। এরই মধ্যে কয়েকজন হোয়াটসঅ্যাপে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সংসার তার কাছে বিতৃষ্ণা। অনিমেষের মায়ের দীর্ঘদিনের চিকিৎসার ঔষধ জোগাড় করতে করতে আজ সে দিশেহারা।
অনিমেষের মনে হল একমাত্র নেশায় তাকে পারে সব দুঃখ থেকে মুক্তি দিতে যা কিনা তার কখনো ভাবনার মধ্যেই ছিল না। তাই একটু একটু করতে করতে আজ সে প্রায় মাতালের পর্যায়। ফেসবুকে সেও অনেকটা সময় কাটায়। বিষাদ ময় জীবনের যত উক্তি ফুটিয়ে তুলে ফেসবুকে রঙিন পাতাগুলোতে। এমন এই উক্তির মোহে পড়ে আসক্ত হয় তনুশ্রী নামের এক বিবাহিত নারী। তনুশ্রী ও যেন নিজের না পাওয়া জিনিসগুলো অনিমেষের লেখার মধ্যে খুঁজে পায়। তাই প্রতিটা পোস্ট লাইক কমেন্ট থেকে কখনো বিরত হয়না। এভাবে কখন যে সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে গেল অনিমেষ তা সে নিজেও বুঝতে পারেনি। অথচ এই অনিমেষকে ই যৌবন বয়সে যখন কোন মেয়ে কাছে পেতে চাই তো তখন নিজেকে গুটিয়ে নিত।
অনিমেষএর মা নিজেকে আজ যেন কিছুতেই ক্ষমা করতে পারছেন না। কেবলই মনে হচ্ছে খোকার জীবনে ওই একটা সিদ্ধান্ত যদি আমি নিতে বাধ্য না করতাম তাহলে বোধহয় এমনটা হতো না। আমার ওই জীবনের একটা সিদ্ধান্ত ই যে আজ তাকে হাজার মাইল পথ হাঁটতে শিখিয়ে দেবে তা আমি বুঝতে পারিনি। মানুষের জীবনের এই হাজার পথ চলার মধ্যে সুখ-দুঃখ সবকিছুই মিলেমিশে থাকে তবুও জীবনের একটা অন্য মানে খোঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু আমার অনিমেষ যে একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন আমি কি করি? হে ঈশ্বর আমি তো এমনটা চাইনি। আমি কেন পৃথিবীর কোন মায়েই তো এমনটা চায় না। তুমি আমার অনিমেষের চলার পথ মসৃণ করে দাও আবার সবকিছু ঠিকঠাক করে দাও প্রভু। মা হয়ে ছেলের সংসার এই ভাবে ভেসে যেতে যে দেখতে পারিনা বড় কষ্ট হয়।

সুন্দর লেখা
উত্তরমুছুনঅসাধারণ, বলার ভাষা নেই 🍫🍫🍫🍫
মুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।💐💐💐
মুছুনহাজার মাইল কেমনভাবে হাঁটবে তা বোধহয় নিয়তি আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্ধারণ করতে পারে।সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছ।
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ গো।💐💐💐
মুছুনবাহ! বেশ সুন্দর লাগল। অসাধারণ! 👌👌❤❤⚘⚘🖋
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক ধন্যবাদ দাদা।🙏💐💐💐
মুছুনঅসাধারণ লিখেছো
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক ধন্যবাদ।🙏💐💐💐
মুছুনবাঃ খুব সুন্দর
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ গো।💐💐💐
মুছুনদারুণ লেখা
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক ধন্যবাদ দিদি।💐💐❤️
উত্তরমুছুনঅসাধারণ লেখা...💐👌
উত্তরমুছুন