শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১

বেগুন পাঁচালী(রম্য রচনা)সুদেষ্ণা দত্ত


 বেগুন পাঁচালী(রম্য রচনা)

 সুদেষ্ণা দত্ত  

      বাবারে বাবা!কি অশান্তি!কি অশান্তি।এই গরমে রোদে সারাদিন ভাজা ভাজা হচ্ছি।আর পোড়ানোর দরকার নেই।সকলে বলে মেয়েরা নাকি মায়ের জাত!তা দেখ,আমাকে দেখে একটু প্রাণে মায়া জাগে না গো।আমি বেগুন বলে গরমে রোদে পোড়ায়।আর শীতে গ্যাসে!আবার পুরুষগুলোকেও ভাল মনে কর না।ওগুলো হাড়ে—মজ্জায় বদ।আমি তো একটু বেশি মিষ্টি,তাই যত ছোকছোকানি।এক রামে রক্ষা নেই,তায় সুগ্রীব দোসর!যত পোকা এসে গায়ে বসে।আর পুরুষগুলো ক্ষেতে বিষ দিয়ে আমার ওপর শোধ তোলে! এই সেদিন ভটচাজ বাড়ীতে আমাকে নিয়ে কি গোলটাই না বাঁধল।আমার গায়ে পোকা দেখে ভটচাজ গিন্নী কেটেকুটে রক্ত বের করে দিল।এদিকে আমার রক্ত তো আর দেখা যায় না।তাই কেউ বিটাডাইন লাগিয়েও দিল না।আসলে সবাই ভাবে আমি তো মরে গিয়েছি।তাই আমার আত্মাটার দাম কেউ দেয় না।এদিকে গিন্নীর কর্তা তখন এক চাপ চায়ের আব্দার করায় অনেকটা বেগুন নষ্ট হয়েছে বলে গিন্নী খচে বোম।সেখানেও বেগুন কান্ড ছেড়ে শুরু হল লঙ্কা কান্ড। আমাকে খোঁচা দিয়ে ভটচাজ গিন্নীর শাশুড়ি বলে উঠলেন বৌমার অবস্থা এখন “রেগে আগুন তেলে বেগুন”।      

        আবার পুরুষগুলো বোধহয় মনে মনে বলে “কাঁটা হেরি ক্ষান্ত নই বেগুন তুলিতে”!বেশি লোভ!মর মর ওই বিষ খেয়েই আমার মত তোরাও মর।আবার দেখ কোন গুণের আমার মধ্যে অভাব!উচ্চ রক্তচাপ,মধুমেহ,কর্কট রোগ কমিয়ে দি।মেয়েগুলোর দীপিকা পাডুকোনের মত ফিগার ধরে রাখতে সাহায্য করি ওজন কমিয়ে।সব রকম ভিটামিন শরীরে নিয়ে ঘুরি তো তোদের সুন্দরী করব বলে!তাও সব বেঈমান।বলে কিনা বে-গুন।এদিকে মেয়েগুলো নিজেরা না খেয়ে খেয়ে সব চামচিকের মত চেহারা বানাবে।মুখ দেখলে মনে হয় শুকনো বাসি রুটি।এদিকে শীতে আমার ময়েশ্চারাইজার মাখা ত্বক দেখে নজর দেবে।কেউ বরকে বলবে বাজার থেকে বড় দেখে বেগুন আনবে।কেউ বলে একদম ছোট ছোট।আবার কপাল দেখ এত সুন্দরী হয়েও অধিকাংশ সময় পার্শ্ব চরিত্র।নায়িকা হওয়ার সৌভাগ্য আর হয় কোথায়!আবার গরমে দোসর করে ওই আপদ যত তেতো নিম,উচ্ছের সঙ্গে।আর বর্ষার কথা ছেড়েই দাও।ইলিশের সঙ্গে থাকলে কে আমাকে মনে রাখে বল!নিজেই কেমন কনফিডেন্সের অভাব বোধ করি।মনে হয় যেন শোয়েব আখতারের পেস বলের সামনে দাঁড়িয়ে আছি!তারপর ধর হনু গুলো কি কম বজ্জাত।আমার সঙ্গে এক্সিডেন্ট ঘটাবেই।হয় মায়ের ভোগে থুড়ি পেটের ভোগে পাঠিয়ে দেবে,না হলে আঘাত দিয়েই আমার ভবলীলা সাঙ্গ করবে।অবলা প্রাণী বলে যাদের খ্যাতি সেই ছাগলগুলোও আমায় ছেড়ে কথা বলে না!আমার দুঃখের কি শেষ আছে গো।বলতে গেলেই তোমরা বলবে কাঁদুনি গাইছে।এই সেদিন সেন বাড়ীর চাকরটা সবে ভুলবশত আমাকে বাইরে ফেলতে যাচ্ছে,আমি তালে আছি এই সুযোগে শুরুৎ করে কেটে পড়ব।এদিকে সেন বাবু বাজার নিয়ে “ গুরু বলে মিথ্যা নয় চ্যাং ধরেছি গোটা ছয়,ঝোল খাইব দুটি বেগুন দিয়া রে” বলে গান গাইতে গাইতে বাড়ী ঢুকছিলেন।চাকর ছিদামের গোঁজার বালতির উপর পড়ে থাকা আমার উপর নজর পড়ায় বলে উঠলেন, “ওরে হতভাগা চোখের মাথা খেয়েছিস নাকি।আজ আমি চ্যাং মাছ এনিচি আর তুই বেগুনগুলো বাইরে ফেলতে চললি”!      

       সব জায়গায় আমি!ফ্রম রান্নাঘর টু জলসাঘর!তবু কত অপবাদ।আমার দেখ এই লোকে কত মনোরম পাহাড়—সমুদ্রঘেরা রোমান্টিক জায়গায় বেড়াতে যায়।তা তেমন একটা জায়গার নাম আমার নামে দিতে পারতিস।তা না দিল একটা ভুতুড়ে জায়গার নাম—বেগুনকোদর!!সবই আমার কপাল।তা যাই হোক যদিও জানি জল আর জলপাই এক নয়।বেগুন আর বেগুনকোদরও যদিও এক নয়।তবু আমার নামের সঙ্গে মিল তো আছে।তাই তোমাদের সকলকে বেগুনকোদর আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম।শিগগির ঘুরে যেও কিন্তু। 


 ©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ছবি সৌজন্য:গুগুল

১৩টি মন্তব্য:

  1. দারুণ একটা রম্যরচনা। মন ভরে গেল। অসাধারণ!👍👍❤❤⚘⚘

    উত্তরমুছুন
  2. কি লিখলে সু!
    দুর্দান্ত 💕🌷

    উত্তরমুছুন
  3. দারুন.. দারুন... বেগুনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এমনভাবে ভেবে দেখিনি তো কখনো..👌..☺️☺️☺️☺️☺️

    উত্তরমুছুন
  4. বেগুনের গুণ কীর্তন বেশ ভালোই হলো দিদি

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...