#বিষয়_বিজ্ঞান
#নাম_অর্বুদ
#কলমে_অনিশা
সর্বজিতের ঠাম্মা হায় হায় করে উঠলেন। "বৌমা দেখো দেখো, জিতু কি কান্ডটাই করল।" বৌমা মানে সর্বজিতের মা প্রজ্ঞাদেবী ছুটে এলেন। এসে দেখেন ছেলের দুই হাত কাদামাখা আর চোখেমুখে অপরাধীর দৃষ্টি। কিন্তু তিনি কিছুই দেখতে পেলেন না। প্রজ্ঞাদেবী ছেলের মুখে অপরাধীর দৃষ্টি দেখতে এক্কেবারেই রাজি নন। তিনি ছেলেকে সাহসী বুদ্ধিমান হিসাবেই দেখতে চান। তাই তিনি সর্বজিৎকেই জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কি করেছ? তোমার মুখ এমন কেন?" প্রথমটায় ওর ঠাম্মা এর উত্তর দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু প্রজ্ঞাদেবী বললেন, "মা, আপনি কিছু বলবেন না। ও কি করেছে সেটা ওকেই বলতে দিন। কারণ আমি চাই ও যেটা করছে সেটা কেন করছে বুঝতে শিখুক। আর যদি কোন অন্যায় করে থাকে তবে তা স্বীকার করতে শিখুক।"
আসলে প্রজ্ঞাদেবী তখন ও বুঝে উঠতে পারছিলেন না, সর্বজিৎ ঠিক কি কান্ড করেছে।
ঠাম্মার চেঁচামেচি শুনে সে ততক্ষণে মায়ের আগের দিন থেকে ভিজিয়ে রাখা ছোলা-মটর নিয়ে ফুলগাছের টবে দিয়ে ভালো করে মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছে।
সর্বজিত বুঝতে পারল মায়ের কাছে সত্যি কথা বলে দেওয়াই ভালো। সে বলল, "তোমার ফুলের গাছ গুলোতে ফুল ফোটে না অনেক দিন ধরে, আর তাই তোমার মন খারাপ হয়ে যায় মাসীমণি কে বলছিলে, আমি শুনেছি।"
"ওম্মা হ্যাঁ তো, তাতে কি হয়েছে?" প্রজ্ঞাদেবী অবাক হয়ে হেসে জিজ্ঞাসা করলেন।
মায়ের হাসিতে জিতু মনে সাহস পেল। সে সোৎসাহে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলল, "জানো মা! ম্যাম বলেছে ছোলা-মটর গাছের শিকড়ে নাকি অর্বুদ থাকে। আর তাতে নাকি অনেক ভিটামিন থাকে! তাই তো আমি ওগুলো তোমার টবে পুঁতে দিয়েছি। দেখো, এবার তোমার টবের গাছে ফুল ফুটবে।"
প্রজ্ঞাদেবী তাঁর প্রতি ছেলের ভালোবাসা দেখে মনে খুব আনন্দ পেলেন। ছেলেকে একটু আদর করে দিয়ে বললেন, "হ্যাঁ, ঠিক বলেছ। কিন্তু ওটা ভিটামিন নয়। ওটা হলো নাইট্রোজেন। আগেকার দিনে যখন এত সার আবিষ্কার হয়নি, তখন চাষীরা জমিতে এইভাবেই সার যোগান দেওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু এখন অনেক রাসায়নিক সার বাজারে পাওয়া যায়। আমি ও কিনে এনেছি। চলো, আমি টবগুলোতে সার দিই আর তুমি একটু করে টবে জল দাও। পারবে তো!"
ঠাম্মার মা-ছেলে র কথোপকথন শুনে অনেক পুরনো কথা মনে পড়ল যখন তাঁদের জমিতে চাষ হতো। সেই গল্প পরে কোনদিন সর্বজিতের সঙ্গে হবে। আজ এই পর্যন্তই।🙏

অপূর্ব একটা ইনফরমেশন গল্প কাহিনি। অসাধারণ! 👍👍⚘⚘⚘❤❤❤🖋
উত্তরমুছুন