সংস্কার কুসংস্কার ।
কলমে--- পারমিতা মন্ডল।
1) বিজ্ঞানের শিক্ষিকা দেবারতি দি বাড়ি থেকে অনেক দূরে একটি স্কুলে চাকরি করেন। আজ স্কুলে পরীক্ষা শুরু হবে। ওনাকে তাড়াতাড়ি যেতেই হবে। তাই নাকে মুখে দুটো গুঁজে দৌড় লাগালেন। ট্রেনটা ধরতেই হবে। কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে একি বিপদ ? সামনে এসে বসলো এক শালিক । এক শালিক দেখলে যে যাত্রা ভালো না । বিজ্ঞানের শিক্ষিকা যিনি সব সময় ছেলে মেয়েদের খেশান কুসংস্কার কি, কিভাবে মানুষের জন্ম হয় শুক্রানু- ডিম্বানুর মিশ্রণে, কিভাবে সূর্য ওঠে ও অস্ত যায় ।এই সব কিছুর পিছনে বিজ্ঞান আছে। । আজ তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে দুই শালিক খুঁজে চলছেন। এখন তিনি কোথায় পান আর এক শালিক ? এদিকে ট্রেনটা যে ছেড়ে গেল । না হয় একটা কলা গাছ পেলেও হতো। কলা গাছকে নমস্কার করলে দোষ কেটে যায়। উনি এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে কলাগাছ খুঁজে চলেছেন দুই হাতে তাবিজ-কবজ ও নীলা-চুনী পরিহিত বিজ্ঞানের দিদিমনি। এদিকে ট্রেনটা ছেড়ে গেল।
2) ওদিকে রায়বাবু একটি ব্যবস্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজে আজ সিংগাপুর যাবেন। দশটার সময় ফ্লাইট। ঠিক সময় মতো বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন । কিন্তু বিপদ হলো রাস্তায় এসে। হঠাৎ করে গাড়িতে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়লো ড্রাইভার। সামনে দিয়ে একটি কালো বিড়াল রাস্তা পার হয়ে গেল। শুভকাজে যাচ্ছিলেন, বাঁধা পড়লো। আর তো গাড়ি সামনে এগোনো যাবে না। দাঁড়াতে হবে কিছুক্ষন। কালো বিড়াল যে অশুভ। ওদিকে ফ্লাইট তো ছেড়ে যাবে। তিনি এখন কি করেন ?
3) ট্রেনের মধ্যে দুই মহিলার মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়েছে। একটু কান পেতে শুনি একজন আর একজনকে বলছে---- "সকাল বেলাতেই তুই আমাকে এক চোখ দেখালি কেন ,? জানিস আজ আমার দিনটা কতটা খারাপ যাবে ? তুই এটা ইচ্ছা করে করেছিস। এখনি দু'চোখ দেখা।" ওদিকে সে যতোই দু'চোখ দেখায় ওর কিছুতেই মন ওঠে না। আজ কোন না কোন বিপদ হবেই। সকাল সকাল এক চোখ দেখেছে।
4) অণুপমার খুব শিক্ষিত পরিবারে বিয়ে হয়েছে। শাশুড়িও কলেজে পড়ায়। সেখানে ও কিছু করেনা বলে মন খারাপ লাগে মাঝে মাঝে। তার এই শিক্ষিত শাশুড়িমা সেদিন গর্ভবতী নিরুপমাকে বললেন --" একটু পরে গ্রহণ লাগবে । তুমি কিন্তু বাইরে বেরিও না। আর এই সময় জানো তো কোন কিছু কাটতে নেই । তাহলে সন্তানেরও কোন না কোন অঙ্গে কাটা বা খুদ বেরোয়। কিছু খেতেও নেই ,যতোক্ষণ গ্রহণ চলবে তুমি কিন্তু না খেয়ে থাকবে। জলও খাবে না । অবাক হয়ে সেদিন শাশুড়িমার কথা শুনেছিল নিরুপমা। যে নিজেকে কম শিক্ষিত বলে মনে মনে আপরাধী ভাবতো।
5)অনেক বয়স হয়ে গেছে। মেয়েটার বিয়ে হচ্ছে না। তাই বাবা মা দুজনে মিলে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন জোতিষীর কাছে। তিনি বহুমূল্য ব্যয় করে আনেক গুলো পাথর ধারন করতে বললেন। এবং বেশ কিছু তাবিজ কবজ ও দিলেন। সাথে দিলেন বিভিন্ন রকমের কৃচ্ছসাধন। কিন্তু মেয়েটা উচ্চ শিক্ষিত হতে চেয়েছিল। আরো পড়াশোনা করতে চেয়েছিল ।বাবা মা পড়ানোর পিছনে টাকা খরচের বদলে" পাথর "কিনতে সেই টাকা খরচ করলেন। আর মেয়ের সুপাত্রের আশায় সুখনিদ্রায় মগ্ন হয়ে রইলেন ।
আমরা এখনো অনেকেই এরকম কুসংস্কারকে মেনে চলি। যতোই লেখা পড়া শিখিনা কেন ?। একটু ভেবে দেখি না এগুলোর পিছনে সত্যিই কোন কারণ বা যুক্তি আছে কিনা ? নাকি সংস্কার বলে বংশ পরম্পরায় মেনে চলি। একটি শালিক বা কালো বিড়াল আমার যাত্রা পথে কিভাবে অমঙ্গল ঘটাতে পারে ? গ্রহণ কেন হয় তা আমরা সবাই জানি। তাই কোন কিছু কাটার সাথে গ্রহণের কোন সম্পর্ক নেই। আর আমার মনে হয়না জোতিষী কারো ভাগ্য ফেরাতে পারে।
(নিজস্ব মত। আমার মতের সাথে সবার নাও মিলতে পারে। কেউ আঘাত পেলে আমি দুঃখিত।🙏🙏🙏,)
All rights are reserve by paramita mandal.
বাহ! বেশ দারুণ লাগল। অসাধারণ! 👌👌❤❤⚘⚘🖋
উত্তরমুছুনভালো লাগল । কুসংস্কার মনের ভ্রম। যত তাড়াতাড়ি সরে যায় ততই মঙ্গল।
উত্তরমুছুনবেশ লাগল । কুসংস্কার মনের ভ্রম।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর।
উত্তরমুছুনএকদম ঠিক বলেছ।কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
উত্তরমুছুন