ফোনে আড়িপাতা বা ফোন ট্যাপ করার পেছনে বর্তমানে কাজ করছে একাধিক দুষ্ট চক্র । তারা আমাদের ফোন ট্যাপ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে স্বার্বস্বান্ত করে ছাড়ছে বহু মানুষকে ।
কিভাবে বুঝবো আমার ফোন ট্যাপ করা হয়েছে কিনা?
- সবসময় বোঝা না গেলেও অনেকক্ষেত্রে বোঝা যায় । যেমন -
● যদি ফোনের ব্যাটারি খুব দ্রুত ডিসচার্জ হয় অথচ তা সম্পূর্ণ নতুন এবং পূর্ণমাত্রায় কর্মক্ষম ।
●যদি কলিংএর সময় ওপাশ থেকে কোনো সন্দেহজনক শব্দ শোনা যায় ।
●যদি ফোনে এমন কোনো ফাইল থাকে যা বারংবার ডিলিট করা স্বত্তেও আবার ফিরে আসছে ।
●যদি এপ্স গুলো নিজে থেকেই অকারণ খুলে বা বন্ধ হয়ে যায় ।
●যদি কলিং এর সময় ছাড়াও ফোনে অকারণ বিপ বা ক্লিকের আওয়াজ আসে ।
●যদি ফোন অকারণে খুব গরম হয়ে থাকে ।
●অকারণ যদি ফোনের ডেটা ব্যালেন্স দ্রুত ফুরিয়ে যেতে থাকে ।
●অজানা ভাষা বা সাইন ল্যাংগুয়েজে মেসেজ আসতে থাকে ফোনে।
দেশের সুরক্ষায় গভর্নমেন্ট থেকে যাদের ফোনে আড়িপাতা হয় তা অবশ্যই সরকার মনে করেন বলে সেই ব্যবস্থা করেন । এতে অনেক সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে দেশকে বাঁচানো সম্ভব হয় । কিন্তু, যারা হ্যাকার, তারা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ফোনে আড়ি পেতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ নথি গুলোর অপব্যবহার করে আমাদের সমূহ বিপদ ডেকে আনতে পারে ।
ফোনে কি কি করা উচিত নয়:-
●মেসেজে আসা কোনো লিঙ্ক ক্লিক করা উচিত নয় ।
●হোয়াটস এপ বা ফেসবুকে অযাচিত লোকেদের থেকে আসা মেসেজ রিকোয়েস্ট দেখলে প্রথমেই তাকে ব্লক করা উচিত ।
●কোনো এপ ইন্সটল করার সময় যদি ফটো, মিডিয়া, কলিং, ক্যামেরা, মাইক্রোফোনের একসেস চায় তবে খুব ভরসাযোগ্য এপ ছাড়া এগুলোর একসেস দেওয়া কখনোই উচিত নয় ।
●ব্যাংক বা আঁধার কার্ড এর সাথে লিঙ্ক করা ফোন নম্বর শুধুই নিজের জন্য থাক, এই নম্বর কোনো দ্বিতীয় ব্যক্তিকে দেওয়া উচিত নয় ।
●কোনো অচেনা ব্যক্তি বিপদে পড়ে রিকোয়েস্ট করছে, "একটা ফোন করতে দেবেন প্লিজ?"- এতে গলে যাওয়া সমীচীন নয় । হতে পারে সেই ব্যক্তি সত্যিই বিপদে পড়েছেন । কিন্তু, তা যদি না হয়ে থাকে, তবে ফোন তার হাতে দিলে সমূহ বিপদ ।
●আমাদের দেশের আই.এস.ডি কোডের বাইরে অন্য দেশের কোড থেকে ফোন এলে ধরা থেকে বিরত থাকা ও সেই নম্বরকে ব্লক করা দরকার ।
●কোনো অচেনা নম্বর থেকে রং কল এলে কলটা দ্রুত কেটে দিয়ে নম্বরটা ব্ল্যাকলিস্ট করা দরকার ।
●কোনো কোনো সময় মোবাইলে লিঙ্ক আসে, "অমুক জায়গা থেকে এই প্রাইজ জিতেছেন, উপহার পেতে এই নম্বরে মেসেজ/ফোন করে আপনার ডিটেইলস দিন"- নৈব নৈব চ । সোজা ব্লক এন্ড রিপোর্ট করে দিতে হবে ।
এত কিছু সাবধানতা অবলম্বন করেও হাজার হাজার লোক লুণ্ঠিত হচ্ছে প্রতিদিন। কিভাবে তাদের কষ্টার্জিত সম্পদ যে চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের হাতে তা কেউ বলতে পারেনা । তবুও আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে যাতে আমাদের অবস্থা ওই মানুষগুলোর মতো না হয় । হ্যাকাররা প্রচুর হয়তো উপার্জন করছে, কিন্তু উৎপাতের মাল সবসময় চিৎপাতেই যায় । কাউকে ঠকিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করা এই মানুষরূপী জানোয়ার গুলোর নরকদর্শন অবশ্যম্ভাবী ।
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

খুবই জরুরি এবং তথ্য পূর্ণ লেখা।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ বললে কম বলা হবে। অপূর্ব। 👌👌❤❤⚘⚘🖋
উত্তরমুছুন