পরিবার এবং ট্রেনের কম্পার্টমেন্ট মধ্যে মিল অমিল,
*
*কলমে,-- পারমিতা মন্ডল।
আজকের বিষয়টি খুব সুন্দর। লিখতে দেরী হয়ে গেল।
ট্রেন এবং পরিবার যে একসাথে ভাবা যায় এই ভাবনাকেই আমি স্যালুট জানাই। আমাদের মত নিত্য ট্রেন যাত্রীদের কাছে সত্যি ট্রেনের কম্পার্টমেন্ট আমাদের আর এক পরিবার । এখানেও সুখ-দুঃখ, আনন্দ- বেদনা আমরা ভাগ করে নেই সমব্যথি হয়ে। এটা হলো বৃহত্তর পরিবার।
এবার দেখি পরিবার কি । ছোট বেলায় বইতে পড়েছি বাবা, মা, ভাই , বোন , কাকা, কাকি, ঠাকুরদা, ঠাকুমা নিয়ে গড়ে ওঠে পরিবার। কিন্তু বাস্তবে দেখি বাবা, মা আর তাদের সন্তানদের নিয়ে ওঠে পরিবার। অর্থাৎ এটা হলো নিউক্লিয়ার পরিবার। এখন আর যৌথ পরিবার বেশী দেখা যায় না । এখানে সবাই রক্তের সম্পর্কে আবদ্ধ। শুরু স্বামী-স্ত্রী ছাড়া। তবে এক ছাদের তলায় থাকলেই যে পরিবার হবে এমনটা নয়। দূরে থেকেও পরিবার গঠন করা যায়। সেটা হলো র্ভাচুয়াল পরিবার।
আমরা নিজেদের একাকীত্ব দূর করতে তৈরী করেছি এই র্ভাচুয়াল পরিবার। যেমন আমাদের লেখক লেখনী পরিবার। এখানেও ছোট বড় সব রকম সম্পর্কের বন্ধন আছে। এখানেও একজন আর একজনের বিপদে পাশে দাঁড়ায়, দুঃখে সমব্যথি হয় আবার আনন্দে প্রান খুলে হাসে।তাই এটাও একটা পরিবার। তাহলে ট্রেনের সাথে মিল কোথায় ?
মিল অনেক আছে। যারা ট্রেনের নিত্য যাত্রী তারা কিন্তু নিজের পরিবারের চেয়েও বেশী আপন হয়ে যায়। যেমন এই তো সেদিন শিবুকাকা প্রচণ্ড ভীড় ট্রেনে হাত ধরে টেনে তুলেছিলেন রীনাদিকে। নাহলে ঐ দিন হয়তো শেষ দিন হতো। শিবুকাকা জানতেন রীনাদির পায়ে খুব ব্যথা। উনি ট্রেনে ব্যাগ বিক্রি করেন।
আচার মাসি , সেদিন ডাটা দিয়ে নতুন এক রকম আচার বানিয়ে নিয়ে এসেছিল আমাদের গ্রুপটার জন্য। সবাইকে দিলো। মাসিকে কখনোই নিজের মাসি ছাড়া কিছু মনে হয়না। উনি ট্রেনে আচার বিক্রি করেন।একদিন না দেখলে আমরাও যেমন মাসির খোঁজ করি, মাসিও তেমনি আমাদের খোঁজে। এমন আরো অনেকেই আছেন। সত্যিই আজ তাদের কথা খুব মনে পড়ছে। যেন এক বিনি সুতোর মালা।আমরা একসাথে অনেকটা রাস্তা যাই তো। তাই পরিবার হয়ে গেছি। আমরা ট্রেনের মধ্যে দোল খেলি, জন্মদিন পালন করি, গলা ছেড়ে গান করি। উপহার ও আদান, - প্রদান হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ট্রেন বন্ধ। তাই জানি না তাদের আর ফিরে পাবো কি না ?
আবার যেদিন সবিতাদি রিটায়ার করলেন, সবাই ওনার জন্য কেঁদেছিলাম, । আর আগের মত দেখা হবে না বলে। কাউকে অনেকদিন ট্রেনে না দেখলে, তার খোঁজ যেমন করে সবাই তেমনি বিপদে পড়লেও পাশে দাঁড়ায় সমানভাবে। তাই বলে কি ঝগড়া হয়না ? সেদিন সামান্য কারনে ঝগড়া হয়ে গেল মৈত্রীদির সাথে সুলেখার। সুলেখা শুধু বলেছিল তোমার গয়নাটা আজ শাড়ির সাথে ম্যাচ করেনি। বুড়ির মত লাগছে। আর যায় কোথায় ? কেঁদে কেটে একসা। আমাকে তুই বুড়ি বললি ? তাকে সবাই মিলে আবার সামলানো । এমন তো পরিবারেও হয়। দুই জায়ের মধ্যে বেশি। তাহলে এটা তো এক পরিবার হলো।তবে যারা নিত্য যাত্রী নয় তাদের মধ্যেও কিন্তু বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
অমিল ও প্রচুর আছে। পরিবারে সবার ভাবনা পরিবার কেন্দ্রিক হয়। কিন্তু ট্রেনের পরিবারে সবার ভাবনা আলাদা। একবার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে সহজে বেরনো যায় না। কিন্তু ট্রেনে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে নেমে যেতে হয়। কাজ শেষ হয়ে গেলে ট্রেনের কামরার গুরুত্ব ফুরিয়ে যায়। কিন্তু পরিবারে অকেজো হয়ে গেলেও তার গুরুত্ব আগের তুলনায় কমে গেলেও বাদ দেওয়া যায় না।
আরো অনেক আছে। বড় হয়ে যাবে। তাই এখানে শেষ করলাম।
বেশ সুন্দর লাগল। অসাধারণ জীবনভাষ্য।! 👌👌❤❤⚘⚘🖋!
উত্তরমুছুন