রবিবাসরীয় আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসরে আজকের বিষয় *আত্মার মুক্তির জন্য পারলৌকিক ক্রিয়া জাতি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয় কেন?*
এটি অতি সাধারণ সমাধান। জাতিভেদের ফলে পূজা আচার বিচার জন্ম থেকে মৃত্যু সব ভিন্ন হয়, তাহলে পারলৌকিক ক্রিয়া এক সামাজিক লোকাচার অবশ্যই পৃথক হবে। অবশ্যই কেবল ধর্ম ভেদে নয়, জাতি ভেদেও ভিন্ন হয়, প্রাদেশিক বিভিন্নতায় ভিন্ন হয়। বিষয়টি বিস্তৃত বিচার করা যাক।
ধর্ম ভেদকে যদি এখানে জাতিভেদ ধরা হয় তবে সে হিসেবে এই পারলৌকিক কাজের সামাজিক প্রথাটি অন্য রকম একটি মাত্রা আনে ভিন্নতায়। যেমন মুসলিমদের মৃতদেহ দাফনের পদ্ধতি বিশদভাবে ইসলামী শরিয়তে নির্দেশিত আছে। মরদেহকে যথাযথ নিয়মে গোসল দেয়ার পর কাফন পরানো হয়। তারপর তা কবরে নিয়ে যাওয়া হয়। ২-৩ জন ব্যক্তি কবরে নেমে লাশ গ্রহণ করে এবং মাটিতে শুইয়ে দেয়। কবরে লাশ নামানোর সময় বলতে হয়: "বিসমিল্লাহি ওয়ালা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ"।বাংলাদেশে লাশের মাথা উত্তরে এবং পা দক্ষিণে রেখে লাশ মাটিতে শোয়ানো হয়। মরহুমের মুখমণ্ডল পশ্চিমমুখী ক'রে দেয়া হয়, চোখ খোলা থাকলে তা চেপে বন্ধ করে দেয়া হয়। কাফনের কাপড় আটকে রাখার জন্য মাথার কাছে, পায়ের কাছে এবং পেট বরাবার লাগানো ফিতায় দেয়া গেরোসমূহ খুলে দেয়া হয়। এরপর আড়াআড়ি ভাবে বাঁশের টুকরা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। তার ওপর বাশেঁর চাটাই বিছিয়ে লাশের গায়ে মাটি পড়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। এর পর ধীরে ধীরে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।সিন্ধুকী কবর" এবং "বগ্লী কবর"। মধ্যপ্রাচ্যের শক্ত মাটিতে বগ্লী কবর খোদাই করা হয়। আবার বাংলাদেশের মাটি নরম বিধায় সাধারণত সিন্ধুকী কবর করা হয়।
অন্যদিকে খ্রীস্টানদের কবর দানের পদ্ধতি মৃতদেহ পূর্ব পশ্চিম শোয়ানো হয়। এবং কফিনেই মাটি দেওয়া হয়। ইহুদিদের মৃতদেহ ও পারলৌকিক কিন্তু আলাদা। মিশরের পিরামিড ও ধনসম্পদ দানের পদ্ধতিতে মনে করা হত পরকালে যাত্রায় এসব তাদের প্রয়োজন হবে। হরপ্পা সভ্যতায় অনেক মৃতদেহ বসিয়ে রাখাও পাওয়া গেছে। জাপানে এমন এক নিয়ম আছে শোনা যায়। প্রাচীন মিশরের এই দেহকে অমরত্ব দানের প্রচেষ্টা বিশেষ চর্চিত। এবার যদি একটু দেশের ভেতরে ঢুকে এই পারলৌকিক ক্রিয়ার ওপর নজর দেওয়া যায় তবে অবাক হয়ে কেবল বলতে হয়.... বিবিধের মাঝে মিলন মহান । তাই তামিলনাড়ুতে মৃতদেহ যাত্রা কালে হিন্দু সমাজে পটাকা বাজি ইত্যাদি পোড়ানো হয়। এক দেহ ছেড়ে অনেক দেহে প্রবেশ করার এই অশৌচ কয়েকটি দিন বিপুল আড়ম্বরপূর্ণ হয়। বিধবা চিৎকার করে কান্না কোন কোন যায়গায় নিশিদ্ধ। এমন বৈচিত্র্যময় কেবল মাত্র হিন্দু পারলৌকিক কত রকম পদ্ধতিতে ভরা। ব্রাম্মনদের যেখানে এগারো দিনে সব শেষ, অন্য জাতের তাই পনেরো দিনে। এই বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা এখানে প্রয়োজন তবু সময়াভাবে বলবো পূর্ব ভারতীয় পদ্ধতি আরও অন্যরকম। স্নানের পদ্ধতি এবং দিন গননায় আলাদা রকম নিয়ম। এমনকি ঘাটে ওঠার যে পদ্ধতি বাঙলায় বিশেষ প্রচলিত তা অনেক যায়গায় উহ্য। সময়ের অভাব ও স্থানাভাবে পনেরো দিনের ব্রম্ভচর্যের বিশেষ পরিবর্তন এসেছে। সুতরাং কেবল জাতি বা ধর্মীয় ভাবে ভিন্নতা নয় সময়ের আবেদন মাথায় রেখে হিন্দু পারলৌকিক কাজ একটু একটু করে কায়া বদল করছে। সামাজিক প্রয়োজন মাথায় রেখে যেমন পারলৌকিক ক্রিয়ার প্রতি মানুষের আগ্ৰহ ছিল। কালের হাত ধরে তা যেমন এক রিতি বা ট্র্যাডিশন হয়ে উঠেছে, তেমনি পরিবর্তন হয় পারলৌকিক কর্ম। যেমন পার্সিদের একান্ত নিজস্ব পারলৌকিক নিয়ম পক্ষি দিয়ে শবদেহ ভোজন। কিন্তু ভারতের পলিউশন শকুন জাতীয় পাখির ধংসের কারন হয়ে ওঠায় ওরা কবর কিংবা দাহকে পারলৌকিক কর্মে ইনক্লুড করতে দ্বিধা করেনি। উত্তর প্রদেশে থাকা পার্সি সম্প্রদায় ওদের মৃতদেহ সৎকারের স্থানাভাবে দাহকে নিজস্ব করে নিয়েছে। কবরের আধিক্য বৃদ্ধি এবং বসতির প্রয়োজন হেতু হয়ত কখনও পারলৌকিক ক্রিয়ার এই অংশটির পরিবর্তন আসতে পারে।
পারলৌকিক ক্রিয়া পরিবর্তন জাতের ফারাকে । উচ্চ নীচ, এমনকি সন্ন্যাসীদের মৃতদেহ রাখা ও আচর পালনে বিশেষ পার্থক্য থাকে। বৌদ্ধদের এই বিষয়ে বিশেষ পার্থক্য লক্ষনীয়। তিল দানের পদ্ধতি পূব ও পশ্চিম ভারতের অনেক পার্থক্য আছে। পূব দিকে যেমন যে কোন পোশাকেই মৃতদেহ দর্শন ও পারলৌকিক কাজে অংশ নিতে পারে আত্মীয়। পশ্চিম ও উত্তর ভারতে সাদা পোশাকের চল ইদানীং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছুটা হিন্দি ফ্লিমের ছায়া বলা চলে। তাই গতিমান এই সমাজের আবেদন রক্ষায় আচার ব্যবহারের মতো পারলৌকিক কাজ পরিবর্তনশীল। রাজস্থানে রুদালী সর্বজনীন প্রসিদ্ধ। কাঁদা জন্য লোক ভাড়া করে আনা হয়।

বাঃ বেশ তথ্যবহুল 👍👍👍👍
উত্তরমুছুনধন্যবাদ🙏💕🙏💕🙏💕🙏💕
মুছুনবাহঃ... খুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনধন্যবাদ বন্ধু 💐
মুছুনঅসাধারণ তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। অপূর্ব! 👍👍❤❤⚘⚘🖋
উত্তরমুছুনধন্যবাদ দাদা🙏🙏
মুছুন