# প্রবন্ধ : *পরিবার ও ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে মিল /অমিল।*
©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
ট্রেনের আওয়াজ শুনলেই মন উড়তে থাকে। দূর থেকে কেউ ডাক দিয়ে যায়। দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রী আমি। প্রথম প্রথম এক যাত্রা দুই গুনতাম, একসময় কখন গোনা ছেড়ে দিয়েছি। ভালো লাগে মানুষের এই আনাগোনা। সবাই বলে ২য় শ্রেণী আর আগের মতো মধ্যবিত্ত উপযোগী নেই। তবু আমি কখনও জোর করে টিকিট কাটাই। এই মানুষ গুলোর সাথে, খোলা জানলা দিয়ে পটপরিবর্তন আর সন্ধ্যায় হু হু করে ঠান্ডা বাতাস। ভাসিয়ে দিয়ে যায় এক অনাস্বাদিত আনন্দে। সাথে চা ওয়ালার সুর করে ডাক। কিংবা ঝাল মুড়ি একদিনের দিদি ভাই মাসি পিসির সাথে খাওয়া। একটু পরে ডিনার। স্টিলের থালা বের করে কেউ বাবু হয়ে আলু পরোঠা আচার যোগে... কেউ আবার ট্রেনের রোজকার খাবার অর্ডার দিয়েছে। একটু সরে দাঁড়িয়েছে যারা খাচ্ছে তাদের যাতে সুবিধা হয়। কিংবা মাসিমা সেই যে জানলার পাশের সিটটায় বসে গেছেন,ছাড়ছেন না। মনে মনে যত গালি দাও সিঙ্গল ট্রাভেলার ওপরের সিটে কাটিয়ে দিল দুদিন, মুখে দেখতে হাসি হেসে। তার মনের জ্বালা কে বোঝে। অবশ্য আজকাল এসি সেকেন্ড স্লিপারেও স্টিলের বাটি ঘটি বের হয়। তবে মানুষের মেলা তো ওই পারে। এই যে শ্রেণী ভাগ সংসার বা পরিবারের জীবনেও যে পাই না, তা নয়। আছে সব সেখানেও হুবহু কম্পার্টমেন্টের মতো জীবন ও ছুটে চলেছে। হঠাৎ থামার উপায় নেই। বেহিসাবী হলেই গেলো.... আর একান্নবর্তী বাথরুমের মতো এখানেও এই সমস্যা রয়ে যায়। পেয়ে গেলে ছোটা ছুটি বন্ধ দরজায় ধাক্কা ..একটু তাড়াতাড়ি দাদা। বিদায় বেলায় এখানেও সহযাত্রীকে এগিয়ে দিতে হয়, কিছু না হোক মিষ্টি হেসে....বাই বা সাবধানে যাবেন। পরিবারেও অন্তিম যাত্রা পথে একটু বিদায় বলতে হাজির হয়ে যায় পরিচিত স্বল্প পরিচিত কত কত জন। ট্রেনের রেগুলার যাত্রীরা তো অনেক সময় জীবনের সাথে জুড়ে যায়। নিজেদের মধ্যে বিবাহ ইত্যাদি সম্পর্কে বাঁধাও হয়। বলতে গেলে ট্রেনের এই গতিময় ক্ষনস্থায়ী ঘরটি পরিবারের মতো সম্পর্ক গড়ে। অসহিষ্ণু হয়ে ভাঙ্গে। মানুষের মন তো যেখানে যায়, বাসা খোঁজে হলেই বা তা সামান্য মুহুর্তের। মন লাগাতে ইমোশনাল জুড়ে যেতে পারে মানুষ বলে, ট্রেনের মতো ভার্চুয়াল জগতে সম্পর্কের জাল বুনে চলে। না জাল নয়, নক্সি কাঁথার মাঠ। তাতে কত সহস্র ছোট ছোট কাহিনী অহরহ যুক্ত হয়ে সুন্দর হয়ে উঠছে, ভরে উঠছে। কত ব্যাথা ভরে তুলছে ভারী নক্সা। হিংসা বিদ্বেষ লোভ স্বভাব সুলভ আসবে। তাকে পরিপূর্ণতা দিতে ভালোবাসা ক্ষমা আনন্দ ইত্যাদি সুন্দর হৃদয় বিত্তি আসবে। আসলে মানুষ সামাজিক জীব। যেখানে যায়.... একটা ঘর সে বানাবেই। সব চেয়ে বড়ো কথা পরিবারের মতো গন্তব্য আছে , আবার অন্য যাত্রীর জন্য ছেড়ে দিতে হবে, সবাইকে সাধের কয়েকটি দিনের মিলন মেলা। তারপর আর ট্রেন বা পরিবারের দিকে ফিরে তাকানো নয় অনন্ত হেঁটে চলা অবসন্ন ক্লান্ত জিনিসের মুটে বয়ে এগিয়ে চলা কিংবা কর্মের ফলের বোঝা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
সত্যিই তো ট্রেনের এ্যাপার্টমেন্টে কত মিল পরিবারের সাথে। ওখানেও শ্রেণী আছে বসার আলাদা জায়গা আছে সুযোগ সুবিধা আলাদা। পরিবারের ক্ষেত্রেও বিত্ত হিসেবে নজর ঘুরে যায়। শ্রেণী বিভাজন আছে । তবে অমিল কি নেই? পেলাম না খুঁজে। শুধু মিল আর মিল। তবে একটি অমিল আছে ওখানে পারিবারিক প্রধান নেই, কিন্তু পরিবারে আছে । আর তার বড়ো গুন সংসার বা পরিবারের মৈত্রেয়ী বন্ধনে বেঁধে রাখা।ট্রেনের ঘরে বসে পরিবারের কথা ভাবি। পরিবারের মধ্যে এসে ফেলে আসা ওদের আলোচনা করি। স্বল্প হলেও মানুষের ক্ষনিকের আশ্রয়স্থল ওটিও। নমস্কার।।

বেশ সুন্দর লাগল।অসাধারণ!👌👌❤❤⚘⚘🖋
উত্তরমুছুনধন্যবাদ🙏💕
উত্তরমুছুন