বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১

বিষয়- ইতিহাস কলমে - প্রসেনজিৎ পাল

#বিষয়_ইতিহাস

(আপনি নিজেকে যদি স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে দেখতে চান,তাহলে কার জায়গায় দেখতে চান এবং কেন?) 

#কলমে_প্রসেনজিৎ পাল


 প্রশ্নকর্তা হয়তো একটা সৌখিন অধিকর্তায় নিজেকে বসাতে চায়। এটা হয়তো ভাল। বিষয়ে আসি-- বলা হয়েছে আমি যদি স্বাধীনতা সংগ্রামী হতে চাই তবে কার মত হব। অর্থাৎ  কোথাও না কোথাও নকল আসল নকলের খেলার কথায় চলে যাচ্ছে। প্রশ্নটা তাই বললাম বেশ সৌখিন হয়ে যাচ্ছে। এ প্রশ্নে আমার তেমন কিছু বলার নেই। কারন স্বাধীন বা পরাধীন এই কনসেপ্টটা প্রকৃত কি ভাবে পরিকল্পিত হয় সেটা আজ আমাদের কাছে এখনো আবছা। সুতারাং নিজেকে কেন স্বাধীনতা সংগ্রামী করে তুলব, এটা যেন প্রায় অবান্তর বলে মনে হচ্ছে। তবে কয়েকটা কথা লিখি, যখন ফাঁকাই আছি, লিখতে অসুবিধা নেই।


প্রথমে বলি ভারত কবে স্বাধীন ছিল, আর কবে পরাধীন হয়েছে এই নিয়ে নানান তর্ক হতে পারে,বরং বলতে পারি বিপ্লব এবং প্রতিবিপ্লব অনেক বার হয়েছে এবং হচ্ছে।সেখানে বিপ্লবের শরিক হিসাবে আমি কাকে বেছে নিতে চাই এটা এক জবর প্রশ্ন হতে পারে।



স্বাধীনতা সংগ্রামী আমরা সকলেই। অন্তত যারা মানুষী চেতনা থেকে মানস চেতনায় নিজেদের উত্তরন ঘটাতে চায় তারা সকলেই স্বাধীনতা সংগ্রামী বলতেই পারি।আর একবার ভাবুন দেখি একটি দেশের স্বাধীনতা বলতে যদি উপনিবেশের থেকে উদ্ধারই হতো তাহলে এখনকার রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের উপনিবেশ স্থাপনের এতো প্রয়াস করতো কী? এখনও তো সময় আছে, বিপ্লব গড়ে তোলা, এখন কি আমরা বিপ্লবী হতে চাই?? একবার ভাবুন তো ধৃতরাষ্ট্রের সময় হস্তিনাপুরের মানুষ যদি অত্যান্ত খারাপ থাকতো তাহলে সকলেই দেশ বিপ্লবী হতে চাইতো। স্বাধীনতা মানুষের স্ব-অধীনতার লড়াই সেখানে মানুষ তার প্রক্রিয়া শুরু করে অত্যন্ত সন্তর্পনে। সেখানে যুগ পরিবর্তনের ভুয়ো বার্তা দিয়ে হয় না। এবার আপনারা নানান প্রসঙ্গ তুলতে পারেন। আমি এসব নিয়ে কিছু বলব না। শ্রীঅরবিন্দের শেষ অবস্থায় তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বাংলাদেশের কী হবে, তিনি বলেছিলেন - বাংলাদেশ যদি স্বাধীনতা চায় তবে সে অবশ্যই পাবে। এখানে তিনি বলতে চাইছে স্ব-অধিনতার জন্য বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সাথে সাথে আন্তরিক অনুশিলনের দরকার। তবে স্বাধীনতা আসবে। না হলে হলাহল এবং আপাত দৃষ্টিতে স্বাধীনতা মনে হলেও আবার তা পরাধীনতাতেই পর্যায়ভুক্ত হবে। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র পৃথিবীর জন্যই প্রযোজ্য। সুতারাং আলোচনা করা যাক বিপ্লব এবং প্রতিবিপ্লবের প্রসঙ্গে।


বিপ্লব গঠিত হয় একটি নির্দিষ্ট ধ্যান ধারনার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায়। সেখানে লড়াই আছে, সংগ্রাম আছে।আর সেই বিপ্লবের যদি বিপরীত ধারনায় আর এক বিপ্লব সংগঠিত হয় তাকে বলে প্রতিবিপ্লব।


তাহলে হলটা কি? বিপ্লবী মানেই একপক্ষ নিয়ে মানুষের চলা হবে। সেটা কিছুকাল মানু্ষের কাছে থাকবে। আবার ভাঙবে। কারন একটি নীতি কখনই চীরকাল মানুষের কাছে স্থায়ীভাবে থাকে না সে পরিবর্তিত হতে চায়। আর পরিবর্তনই  সভ্যতার ধারা। 


তাহলে, বিপ্লবের নিরিখে আমি কেমন হতে চাই এরকম প্রশ্নে বলবো- আমি এমন বিপ্লবী হতে চাই, যে প্রত্যেক মানু্ষের এই ভাবনাকে জাগাতে পারবে, যা দেখছ সেটা স্বাধীনতা নয়, একটা কুয়োর ব্যাং কুয়োকেই পৃথিবী ভাবছ। ওঠো, জাগো, আর দেখ তুমি কোন জিনিসের অধিকারী।আর তুমি কি নিয়ে পরে আছো।


নমস্কার🙏🙏🙏

২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...