শুভ সান্ধ্য ইতিহাস বিষয় আলোচনা-বাসর।
# বিষয় -
*ঐতিহাসিক মহাত্মা।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
স্বাধীনতা সংগ্রাম এক ঐতিহাসিক কালপর্ব। সাম্রাজ্যবাদী শোষণের ঐতিহাসিক তথ্য বেদনার করুণ কাহিনি বলে। আর বিপরীতে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের হাতেনাতে সুশাসন শিখিয়েছিল। তাঁদের জন্য আমরা ভারতীয় কতটা - বিজ্ঞান, শিল্পকলা,রাজনীতি দিয়ে আমরা নিজেদের চিনেছিলাম। আধুনিক জীবন ধারণ করেছিলাম,নবজাগরণের পটভূমিতে। সাম্রাজ্যবাদী বৈদেশিক শক্তির নিপীড়নে আমরা সোচ্চার কন্ঠে বলেছিলাম স্বাধীনতা আমাদের জন্মগত অধিকার। আর এই স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতির জনককে নিয়ে আজ গল্প করব। গাঁধী হতে কি পারা যায়। না পারব। তাই ভাবা অলীক কল্পনা। শুধু স্মরণ দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব।
নেলশন মেন্ডেলা বলেছিলেন - " ভারত আমাদের এম.কে.গাঁধীকে দিয়েছিল,আর দু'দশক পর আমরা ভারতকে ফিরিয়ে দিলাম মহাত্মা গাঁধীকে।"
মহাত্মা গাঁধীর আফ্রিকার স্বাধীনতা আন্দোলনের পথিকৃত। আর ভারতবর্ষের তিনি ভারতাত্মা। স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর অবদানের পেছনে মানুষটিকে নিয়ে কিছু কথা বলি তাহলে।
মহাত্মার পরিবার ছিলেন জৈন ধর্মাবলম্বী। এ যেমন পারিবারিক সূত্রে পাওয়া,তেমনি বৌদ্ধদর্শণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বুদ্ধদেবের *মা হিংসি* অবলম্বনে অহিংসনীতির উদার ভাববাদের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিপ্লব,সন্ত্রাস একদিকে। তিনি বিপরীত দিকে। অহিংস ভাববাদেই তিনি প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার যথার্থ উত্তরসুরি রূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে আজীবন সাধনা করে গেছেন।
এই অহিংস নীতির ছিল দুই স্তম্ভ - অসহযোগ ও সত্যাগ্রহ। এই দুই ধারায় গণ আন্দোলন আজও অননুকরণীয়,কেননা বর্তমান রাজনৈতিক অবক্ষয়ের জন্য গাঁধী থেকে গেছেন অননুকরণীয়।
আন্দোলনের ধারায় তার বিপক্ষ শক্তি তাঁকে সহ্য করতে পারতেন না। সংঘবদ্ধ হওয়ার চেয়ে আন্দোলন নানামুখী হয়েছিল। গাঁধীকে ব্যর্থ নায়কের তকমা দিতে কসুর করেননি। আর সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ টিকে ছিল।
গাঁধী ধর্মের পুনঃরুজ্জীবন চাইতেন। আর তাই দিয়ে রাজনীতির নতুন সংস্কার চেয়েছিলেন। এখানেই বিপক্ষ রাজনীতির জন্য রাজনীতি করতে গিয়ে ভুল বুঝিয়েছিল দেশবাসীকে।
ধর্ম ও রাজনীতি দুটি আলাদা ক্ষেত্রের তাই মেলবন্ধন ঘটাতে চেয়েছিলেন।
আফ্রিকা ছিল সেই ভাবনার সূচনাকাল,যার শুরু ১৮৯৩ থেকে। আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল ব্রিটিশ ও পর্তুগীজরা। ভারতে প্রতিপক্ষ শুধু ব্রিটিশশক্তি নয়, দেশীয় পক্ষ বলতে মুসলিম লীগ,নরমপন্থী ও চরমপন্থী,উগ্র হিন্দত্ববাদী বিনায়ক দামোদর সাভারকারপন্থি ও আম্বেদকরের জাতপাত। সকলে যে যার মত ও পথে আন্দোলনমুখী। দুর্বলতা ঐক্যের অভাব। আন্দোলন বহুধাবিভক্ত। গাঁধীকে ব্যর্থ নায়ক বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টাও কম ছিল না। গাঁধীর মনঃপূত হত না বলে,আন্দোলন হিংসাশ্রয়ী হত বলে আন্দোলন সাফল্যের মুখ দেখার প্রাক্কালে আন্দোলনে ইতি টানতেন। যে কোনো আন্দোলন হিংস্রাশ্রয়ী হওয়াকে গাঁধী পছন্দ করতেন না বলে। আর মুসলমানদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা গাঁধীর বিরুদ্ধে প্রচার করে হিন্দুবিরোধী বলে জল ঘোলা করতেন।
সেই স্বাধীনতা এলো ,তবে দ্বিখন্ডিত হয়ে। গাঁধীর মনঃপূত হয়নি। স্বাধীনতা শুধু এলো না,সেই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হত্যা-রক্তাক্ত-হিংসা গাঁধীর স্বপ্নের স্বাধীনতার পথ কলুষিত হয়েছিল। স্বাধীনতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন গাঁধী। দিল্লীতে যখন স্বাধীনতার প্রবল উচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ছে,তখন গাঁধীজী কলকাতায় একা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রুখতে মরিয়া। অহিংস নীতির উপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা আসেনি বলে আজও দুই রাষ্ট্র পরস্পরের শত্রুতা করতে কসুর করেনা। এখানেই গাঁধীর দূরদর্শিতা আজ খুব প্রাসঙ্গিক। কিন্তু ঐ বইয়ের পাতায়। গাঁধী জাতির জনক। কিন্তু এ গালভরা কথা ছাড়া কিছুই নয়। জাতির জনককে স্মরণ আছে,কিন্তু ততোধিক দ্বিচারিতা আছে আমাদের মধ্যেই। স্বাধীনতা আন্দোলনের গাঁধীর অভিমুখে আমরা ইতিহাসের পাতায় পাতায় ঘুরি। সে অধ্যায় ইতিহাস বলে গাঁধীর প্রতি কথায় কথায় গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করি। কিন্তু একাগ্র অনুশীলন নেই। তাই গাঁধীর স্বপ্নে আছে বিভোরতা। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। দ্বিচারিতা তো আমাদের নতুন নতুন ইতিহাস।
********
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
খুব সুন্দর লিখেছেন।
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনঅসাধারণ ভাবনা দাদা...👌👌
উত্তরমুছুনঅনবদ্য
উত্তরমুছুনসুন্দর লেখা
উত্তরমুছুন