#বিষয়_রং নম্বর
#শিরোনাম_ভুল
#কলমে_অনিশা
অন্বেষা জীবনে প্রথমবার বাঁধন ছেঁড়া মুক্ত জীবনের স্বাদ পেল। ওরা চার বন্ধু ক্লাশ অফ করে কলেজের সামনেই স্বাতীদের কোয়ার্টারে গেল। কয়েক মাস আগে ও এই রকম ক্লাশ অফ করার কথা ভাবতেও পারতো না। ওর মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। স্বাতীর বাবা টেলিফোন অফিসে চাকরি করেন। তাই ওদের টেলিফোন বিল অফিস থেকেই দিয়ে দেয়। তখন টেলিফোন বুথে একটা ফোন করতে তিনটাকা করে নিত। তাই ইচ্ছে করলেই ফোন করে এত গল্প করা যেত না। তাই ওরা আজ স্বাতীর বাড়িতে বসে আড্ডা দেবে আর যার যত ফোন করার আছে করে নেবে।
আড্ডা, ফোন করা সব হয়ে গেছে। কিন্তু কলেজ শেষ হওয়ার টাইম এখনো হয় নি। এত তাড়াতাড়ি তো বাড়ি ফেরা যাবে না। এবার কি করা যায়? অন্বেষাতো ওর বয়ফ্রন্ডকে ফোন করলো না। শুরু হলো অন্বেষার ওপর ঝামেলা। ও যতই বোঝাতে চেষ্টা করে ওর কোন বয়ফ্রেন্ড নেই, বন্ধুরা ততই ওকে চেপে ধরে। শেষে জোর করে ওর মানিব্যাগ থেকে ছোট্ট টেলিফোন ডিরেক্টরি বের করে ওরা। এমার্জেন্সির জন্য ফোন নম্বর লেখা সবার ব্যাগে রাখা থাকতো। ওরা সেখানে খুঁজতে খুঁজতে সুমন বলে কারুর নাম পায়। "এই, সুমন কে রে?", বন্ধুরা জিজ্ঞেস করে। অন্বেষা হঠাৎ লজ্জা পায়। বলে ওঠে, "এই, না না প্লিজ্, ওকে করিস না ফোন।" বন্ধুরা আরো মজা পেয়ে যায়, "কি হলো? তুই লজ্জা কেন পাচ্ছিস?" ফিজিক্সের স্যারের মাসতুতো ভাই সুমন ওদের সঙ্গে বসে টিউশন নিত। সুমনের চোখের সমস্যা আছে। কথা বলতে গেলে দুটো চোখ দুদিকে চলে যায়। যাকে বলে ট্যারা। তাই নিয়ে ওর মনের দুঃখ অন্বেষাকে বেশ নাড়া দিত। অন্বেষা অনেক কষ্টে লুকিয়ে স্যারের টেলিফোন ডিরেক্টরি থেকে ওর ফোন নম্বরটা নিয়েছিল। যদিও নিয়ে কি করবে তখনো কিছু ভাবতে পারেনি।
বন্ধুরা জোর করে ফোনে ডায়াল করে অন্বেষার হাতে ফোনটা ধরিয়ে দিল। ওদিক থেকে সুমনের গলার আওয়াজ পেলেও অন্বেষা লজ্জায় লাল হয়ে কিছুই বলতে পারল না। ফোন কেটে গেল। বন্ধুদের উৎসাহের অভাব নেই। ওরা আবার ফোন করল। বলল, "আমার বন্ধু লজ্জায় তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারছে না। তুমি কাল নাগেরবাজার অটো স্টান্ডের সামনে ঠিক চারটের সময় দাঁড়িয়ে থেকো। ও আসবে আর তুমি ওকে চেনো।" কেমন বোকা হয়ে যাবে পরের দিন এইসব নিয়ে খুব হাসাহাসি করল ওরা। তারপর যে যার বাড়ি চলে গেল।
পরের দিন অন্বেষার মনটা খুব অস্থির হয়ে উঠল। অনেক বার ভাবল, "যাই, সুমনকে গিয়ে বন্ধুদের ব্যাপারে সব সত্যি কথা বলে দিই।" আবার ভাবল, "থাক, কি মনে করবে আবার। যদি ভাবে আমিই ইচ্ছে করে বন্ধুদের দিয়ে এসব করিয়েছি। আর যদি সে আমায় অপছন্দ করে!" অনেক মানসিক অস্থিরতা ও অশান্তির পর সে ঠিক করলো যাবে না। সুমন দাঁড়িয়ে থেকে থেকে ফিরে যাবে আর ভাববে কোনো রং নাম্বার থেকে ফোন এসেছে।
পরের শনিবার ক্লাশে গিয়ে একবার ও সুমনের দিকে তাকাতে পারেনি সে। ছুটি হয়ে গেলে সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সে বেরিয়ে এলো। কিছুতেই সুমনের মুখোমুখি যাতে না হতে হয়। কিন্তু বাড়ি থেকে বেরোতেই চমকে গেল। সামনেই সুমন দাঁড়িয়ে। বলল, "ফোন করেছিলে?" অন্বেষা নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য যা ভাবছিল তাই বলে ফেলল। বোকার মতো বললো, "আমি না তো! ওটা তো রং নম্বর।" বলেই বুঝতে পারলো ধরা পড়ে গেছে। মলিন হেসে সুমন বললো, "তুমি আমার ফোন নম্বর নিচ্ছিলে আমি দেখেছি। তোমার ফোনের আশাতেই ছিলাম। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম অটোস্ট্যান্ডে। জানি আমি দেখতে খারাপ। তাই বলে আমার সঙ্গে এতটা মজা না করলেও পারতে।" কথা শেষ করে সাইকেল নিয়ে ঝড়ের মতো চলে গেল। অন্বেষা কথা বলার অবকাশটুকু ও পেল না। আর কখনো সুমনের সঙ্গে অন্বেষা কথা বলার সুযোগ ও পায়নি কারণ সুমন আর পড়তে আসে নি।
কপিরাইট রিজার্ভ ফর @অনিশা কুমার

বাহ্! দারুণ লিখেছ। কি সুন্দর একটা ম্যাসেজ! অসাধারণ! 👍👍❤❤⚘⚘🖋
উত্তরমুছুনভালো লাগল । সুমন কষ্ট পেল।
উত্তরমুছুনখুব ভাল লাগল।কিন্তু বড় কষ্টের।
উত্তরমুছুন