শুভ বাক্য আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - *"একটু চুপ করো,একটু স্থির হও,অত বাড়িয়ে বলো না,অমন মাত্রা ছাড়িয়ে চলো না।"*
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
# নাম- *নীরব মনের কথা।* ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একথা লিখেছিলেন তাঁর *'শান্তিনিকেতন বক্তৃতামালা'* য়।
নীরব মন মনের এক স্থিতধী অবস্থা। ব্যবহারিক জীবন ও সাধক জীবনের কাছে নীরব মনের গুরুত্ব আলাদা আলাদা। একজন যোগী নীরব মন দিয়ে জ্ঞানযোগ,ভক্তিযোগ,কর্মযোগ পালনের মধ্য দিয়ে হন পূর্ণ যোগী। যোগী এই নীরব মনের অধিকারী দিন কয়েক চেষ্টায় অর্জন করেন না। মানসিকভাবে যোগের কয়েকটি স্তর অতিক্রম করে এই নীরব মনের অধিকারী হন। এই স্তরগুলি হল-
১ম স্তর- অচঞ্চল(Quiet)
২য় স্তর- স্থিরতা(Calm)
৩য় স্তর- প্রশান্তি(Peace)
৪র্থ স্তর- নীরবতা(Silance)
এই শেষ স্তর নীরব মনের সর্বোচ্চ স্তর।
নীরব মনের অর্থ শান্তমনে কাজ করা। নীরব মনে সবচেয়ে বেশী কাজ হয়। নীরব মন ভক্তির পথ সুগম করে। নীরব মনে ভক্তির আবেগের কপাট সহজেই উন্মুক্ত হয় - 'খুলিল হৃদয়দ্বার না লাগে কপাট'- নীরবতাই হৃদয়কে শূণ্য ব্রহ্মের নিকটবর্তী করে। বাহ্যিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে নীরবতাই একমাত্র পাথেয়। নীরবতা যোগীর কাছে একপ্রকার চৈত্য শক্তি(psychicization)। একপ্রকার বিশুদ্ধ জীবভাব। যা দিয়ে পরম ব্রহ্মের জন্য হৃদয় শূণ্য থাকে। তখন ভগবান হৃদয়ে প্রবেশের সুযোগ পান। হৃদয় ভগবৎ ভক্তি ও বিশ্বপ্রকৃতি থেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের দিকে যোগীর যাত্রা শুরু হয়। তখন জাগতিক সকল মায়া থেকে মুক্ত হন নীরব মন দিয়ে।
ব্যবহারিক জীবনেও মনের নীরবতার গুরুত্ব অপরিসীম। জাগতিক জীবনে মনের চাঞ্চল্য আসে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে। জীবন ও জীবিকার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থেকে। অহরহ দুঃখ,দৈন্য,আত্মশ্লাঘা,অহংবুদ্ধি,ইর্ষা,হিংসা,জিঘাংসা,স্বার্থপরতা,ক্রোধ,কলহ,তর্কপ্রিয়তা মনকে নীরবতা থেকে দূরে রাখে। কর্মে মনের স্থিতধী রূপের ব্যাঘাত ঘটে। শান্ত মনের নানা ঘাত প্রতিঘাতে মন পীড়িত হয়। জীবনের সুখ শান্তি বিঘ্নিত হয়। কবির শান্তিনিকেতন কর্মকাণ্ডে সেই নীরব মনের সিদ্ধির অবিচল প্রয়াসের সন্ধান করতেন। কর্মযোগীর নীরব মন কর্মে আনে সাফল্য। শান্তিনিকেতনের সেই নীরব মনের কর্মকাণ্ডের জন্য এমন অনুভবী কথা 'শান্তিনিকেতন বক্তৃতামালা'য় বলেছিলেন। নিজেকে নীরব মনের কাছে আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন। কথাগুলির পেছনে শ্রীঅরবিন্দের কর্মযোগের অনুপ্রেরণা বোঝাতে রবীন্দ্রনাথ কথাগুলি বলেছিলেন। কবির শান্তিনিকেতন যে সেই নীরব সাধনার স্থল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কর্মকাণ্ডের স্বরূপ বোঝাতে, এমন কথা আমাদের অহরহ প্রভাবিত না করে পারে না। আমরাও প্রকৃতির দানে চঞ্চলতা থেকে নীরব সাধনায় ব্রতী হই গ্রীষ্মের দাবদাহ জ্বালায় অশান্ত মন, বর্ষামঙ্গলে জুড়ায়,আর শরতের স্নিগ্ধতায় আসে নীরব মনে মায়ের সাধনা। মায়ের জন্য মন ব্যাকুল হয়।
নীরব মন নীরব সাধনা। ব্যবহারিক জীবনে যে কর্মী মানুষ নীরবে কাজ করে যান তাঁর কাজের প্রশংসা করলে,বিনয়ীভাব থেকে সেই প্রশংসা শুনে নিজেকে প্রশংসা থেকে মুক্ত রাখতে চান '...অমন মাত্রা ছাড়িয়ে বলো না।'
******
মন্তব্য করার ভাষা নেই।
উত্তরমুছুনতবে এটুকু বলতে পারি পড়ে মনটা ভালো হয়ে গেল।🙏
অসম্ভব ভাল উচ্চ মার্গের এক লেখা।আর শেষটা তো সেরার সেরা।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ অসাধারণ আর অসাধারণ
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ লিখেছেন দাদা 👌👌👌
উত্তরমুছুনদারুণ লিখেছেন দাদা
উত্তরমুছুনঅসম্ভব সুন্দর লিখেছেন দাদা
উত্তরমুছুনএকেবারে মনোবিজ্ঞানের ভাষায়
উত্তরমুছুনঅপূর্ব হয়েছে লেখাটি🙏
উত্তরমুছুন