শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১

#নাম- নাইট্রোজেন। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ সান্ধ্য বিজ্ঞান আলোচনা-বাসর। 
 # বিষয় - *বিজ্ঞান।*
   # নাম- *নাইট্রোজেন।*
    ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

       নাইট্রোজেন রসায়ন শাস্ত্রের জৈব রাসায়নিক উপাদান। সংকেত- N। অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড। হাইড্রোজেন অক্সিজেনের সঙ্গে অ্যামোনিয়া প্রভৃতি মৌল,মূলক নিয়ে নাইট্রোজেনের প্রকৃতি রাজ্যে  সাম্রাজ্যে বিস্তারে দিগবিজয়ী বীর লাগে। কারণ বায়ুতে নাইট্রোজেনের শতকরা উপাদান যে ৭৭•৪%। এই নাইট্রোজেন যদি না থাকত গাছ ও মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসের চক্র সম্পন্ন সম্ভব হতই না। নাইট্রোজেন না থাকলে গাছের সঙ্গে মানুষের অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের বিনিময়ের বিপরীত প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হত না। সর্বোপরি নাইট্রোজেন না থাকলে গাছেদের ক্লোরোফিল ও সেই  গাছের খাবার তৈরির হোতা হতে পারত না। মানুষের খাওয়ার জুটত না। প্রাণের মূলে নাইট্রোজেন চক্র প্রধান ভূমিকায়। নাইট্রোজেন আমাদের ও গাছেদের শ্বাস প্রক্রিয়ার অনুঘটক। ঘটকালি করে আমাদের সবাইকে ধারণ করে আছে। এজন্যই বায়ুতে নাইট্রোজেনের পরিমান বেশী। বায়ুতে নাইট্রোজেন রাজ প্রকৃতি প্রদত্তই।
    এবার আসি নাইট্রোজেন  যৌগ উপাদানের নানা কথায়।
      নাইট্রিক অক্সাইড ( নাইট্রোজেন অক্সাইড [৩] বা নাইট্রোজেন মনোক্সাইড) NO সূত্রযুক্ত একটি বর্ণহীন গ্যাস। এটি নাইট্রোজেনের অন্যতম প্রধান অক্সাইড। নাইট্রিক অক্সাইড একটি ফ্রি র‌্যাডিক্যাল। অর্থাত্‍ এর একটি বিযুক্ত ইলেকট্রন রয়েছে, যা কখনও কখনও তার রাসায়নিক সূত্রে (· N = O বা O NO) একটি বিন্দু দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। নাইট্রিক অক্সাইড ভিন্ন পারমাণবিক দ্বিপরমাণুক অণু। এটি একটি ঐতিহাসিক শ্রেণি যা রাসায়নিক বন্ধনের আধুনিক তাত্ত্বিক বিষয়গুলি আবিষ্কারের শুরুর দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। ১৭৭৫ সালে জোসেফ প্রিস্টলী প্রথম এই গ্যাসটি আবিষ্কার করেন আবার কারো মতে হামফ্রে ডেভী এই গ্যাসের আবিষ্কারক। তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত যে স্যার হামফ্রে ডেভিই প্রথম এই গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করেছিলেন। স্বভাবতই তিনি প্রথম এই গ্যাসের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেন। রাসানিকভাবে লাফিং গ্যাস হলো নাইট্রজেনের একটি অক্সাইড যাকে নাইট্রাস অক্সাইড নামে ডাকা হয়। মৃদু মিষ্টি গন্ধযুক্ত বর্ণহীন এই অক্সাইড মানুষ নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে হাসির উদ্রেক ঘটে। এর প্রধান কাজ মূলত ব্যথা কমানো হলেও এটি মানুষের মনে চনমনে ভাব তৈরী করে তাই একে আদর করে নাম দেওয়া হয়েছে লাফিং গ্যাস। লাফিং গ্যাসের কাজ করার ধারা নিয়ে মানুষের কৌতুহল দীর্ঘদিনের। পুরোপুরি সঠিকভাবে নাইট্রাস অক্সাইড কাজের ধারা জানা না গেলেও ধারণা করা হয় নিঃশ্বাসের মাধ্যমে যখন নাইট্রাস অক্সাইড গ্রহণ করা হয় তা রক্তের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের ভিতর আমাদের মস্তিষ্কে চলে যায় (মজার জিনিস হলো এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তের সাথে মিশে হিমোগ্লোবিনের সাথে কোনোরকম বন্ধনে জড়ায়না। আর তাই মানবদেহে এর স্থায়িত্ব অল্প সময়ের জন্য)। মস্তিষ্কে গিয়ে এই নাইট্রাস অক্সাইড NMDA (গ্লুটামেট রিসেপটর) এ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে একই সাথে প্যারাসিমপ্যাথেটিক  GABA রিসেপটরকে উত্তেজিত করে তোলে। এই উত্তেজিত প্যারাসিমপ্যাথেটিক  GABA রিসেপটর কিছু নিউরোট্রান্সমিটার ক্ষরণ করে যার ফলে মানুষের হাসির উদ্রেক ঘটে, ব্যথাবোধ হ্রাস পায়। এন্ড্রোফিনস নাকম নিউরোট্রান্সমিটার ক্ষরণে সাহায্য করে লাফিং গ্যাস এটি আমাদের ব্যথাবোধ কমিয়ে দেয়।
  আশা করি নাইট্রজেনের সাম্রাজ্য নিয়ে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া গেল। ইনি ত্রিভুবনের সাম্রাজ্যাধিপতি প্রকৃতির বরপুত্র। ইনিই রাখলে রাখবেন,মারলে মারবেন। বায়ুতে ৭৭•৪% এ আধিপত্যে  যাঁর সাম্রাজ্য তাঁকে আজকের আলোচনা-বাসরে  প্রণাম! 
            ********
 # কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

৭টি মন্তব্য:

  1. অসম্ভব সুন্দর হয়েছে 👏👏👏👏

    উত্তরমুছুন
  2. বিজ্ঞানের শ্রেণীকক্ষে বসে ছিলাম।সঙ্গে ইতিহাস,হাস্যরস মিলে মিশে একাকার।অনবদ্য।

    উত্তরমুছুন
  3. চক্রটা দিয়ে ও আরো ও বেশী সুন্দর হয়েছে।
    অসাধারণ..💐💐💐

    উত্তরমুছুন
  4. দুর্দান্ত আলোচনা, বিজ্ঞান ও সাহিত্যের মেলবন্ধন।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...