বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১

# নাম- নীরবতার আত্মসংযম। ✍ - মধুবন্তী দাশগুপ্ত।

#বিষয়-একটু চুপ করো, একটু স্থির হও, অত বাড়িয়ে বলো না, অমন মাত্রা ছাড়িয়ে চলো না।"
     -(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
#নাম- আত্মসংযম যখন দাড়িপাল্লায়
✍️- মধুবন্তী দাশগুপ্ত 

   "আরো আঘাত সইবে আমার, সইবে আমারো......যে রাগ জাগাও আমার প্রাণে  বাজেনি তা চরম তানে"
        বিশ্বকবি তাঁর বহু রচনাতেই বারবার ঈশ্বরের কাছে সহিষ্ণুতা প্রার্থনা করেছেন আত্মপ্রকাশে সাম্য বজায় রাখার জন্য। তাঁর পাঠকদের প্রতিও অনুরোধ করেছেন, "আপনা মাঝে শক্তি ধরো নিজেরে করো জয়"। 
          ছোট্টবেলা থেকেই গুরুজনদের কাছে একটা কথা খুব শুনেছি, "কথা কম, কাজ বেশি"। তখন কচি, অপরিণত মনে বুঝতামনা যে পরবর্তীকালে এর পরিণতি কতটা সাংঘাতিক সংঘর্ষ সৃষ্টি করতে পারে। তখন মনের সুখে বকবক করা, অতিরিক্ত আনন্দের আবেগ, ঠাট্টা, উত্তেজনা, রাগ, অস্বস্তি-সব কিছুই প্রাণ খুলে, ফলাফলের কথা না ভেবেই প্রকাশ করে গেছি। অপরদিক থেকে বাধা না পাওয়া পর্যন্ত মাত্রার কোনো ইতি টানিনি। 
         কিন্তু অদ্ভূতভাবে এই উপচে পড়া অবিরাম ধারার গতি হঠাৎ করে থমকে গেল একটাই নতুন  সম্পর্কের কারণে, যার নাম বিবাহ। কয়েকটা দিনের মধ্যেই আমি সাত পাকে বাঁধা পড়ে যেন বুঝে গেলাম সবরকম সংযমের সাতকাহন। একদিকের অভিভাবকদের কাছে এতদিন যেভাবে আত্মহারা হয়েছিলাম, আরেকদিকে এবার শুরু  হলো আত্মসন্ধানের পালা, অর্থাৎ প্রতিটা কথায়, চলায়, শুরু হলো আত্মমর্যাদা রক্ষার অনুশীলন। অতিরিক্ত বক্তব্যে একটু অসতর্ক হলেই অপ্রিয় হয়ে যাবার চিন্তা, সামান্য অধৈর্য হলেই ভুল করে ফেলার ভয়, সাজগোজ, কাজকর্মে পরিবারের পছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে চলার সচেতনতা - এইসবকিছুর সঙ্গে নানা জটিলতার সম্মুখীন হয়ে ক্রমে ক্রমে খুঁজে পেলাম ব্যবহারিক জীবনে আমার সত্তাকে উৎসর্গ করার মাপকাঠি ও তার সাথে প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি। 
       সুতরাং যে কোনো পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় প্রত্যেকেই যদি নিজের সহ্যের সামর্থ্যকে অন্যের কাছে গ্রহণের যোগ্য করতে পারে, তবেই উভয়পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার সাম্য বজায় থাকে। এই সঠিক মাত্রার পরিমাণটা অনুমান করতে পারা সত্যিই খুব কঠিন, তাই কবির ভাষাতেই ছন্দ মেলাতে হবে, 
"আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান...."
       ************
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মধুবন্তী দাশগুপ্ত।

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...