শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১

#অনুগল্প *স্ত্রৈনর স্ত্রী* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 *স্ত্রৈনর স্ত্রী*

©শর্মিষ্ঠা ভট্ট



 অমল কান্তি কে আমি শিশুকাল হোইতেই চিনি । বড়ো আকারের সাহিত্যিক হতে পারিবে।আসলে উহার মা আমার ঘরের সাহিত্য বৈঠকের আগ্ৰহী সদস্যা। 


এদিকে পাড়ার কমলা বৌদি হসপিটালে। তাহার কথা মনে হইল। জগোধাত্রীর মতো দেহারা লাল পাড় শাড়ী পরে এক কপাল সিঁদুর দিয়ে যখন বের হতেন বড়ো ভক্তি হোইত। ওনার স্বামী কে পেছনে ও সামনে লোক স্ত্রৈন বলিত। বৌদি যে কেমন করিয়া কি বিধি প্রয়োগ করিয়া স্বামী রত্ন টিকে এমন যাদু করিয়াছেন সেই নিয়ে চর্চা কম হোইত না। ওনার স্বামী কমলেশদা বড়ো নিরীহ ও ভালো মানুষ। স্ত্রী র সাথে লেপ্টে যে কোন যায়গায় যাওয়া। গিফট ও সোহাগের বর্ষাদ করিয়া আমাদিগকে কমপ্লেক্স খাওয়াইয়া রাখিতেন। 


হঠাৎ কয়ক বৎসর আগে হৃদ যোগে কমলেশদা চলিয়া গেলেন। বৌদির প্রিয় বলিয়া সর্ব প্রথম ছুটিয়া যাইলাম। উনি কানে কানে বলিলেন, অমল কান্তি মুখাগ্নি করিবে। বৌদি এত পরিচিত নহে তবু উহার নাম করিতে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি মেলিলাম। নিঃসন্তান দম্পতির কমলেশদা নিঃসন্তান নহে। অমল কান্তি র মাকে কমলেশদাই আমার সাহিত্যের আসরের খবর দিয়া ছিলেন। সময় কাটাইবার এক অনন্য উপায় ভাবিয়া। আকাশ হোইতে পড়িলাম। তাহোইলে এই যে যুগল দম্পতির এত খ্যাতি! বৌদি বলিলেন ও কেবল নাটকের সুবিন্যস্ত রূপ। যেমন তোমার সাহিত্যের জগতে প্রয়োজন হীন হাসি মাখাইয়া সম্পর্ক তৈয়ারি হোইতেছে । আসল সত্য কজন দেখিতে চায়। সকল সম্পর্কে এক পর্দা থাকিয়া যায়। তাহা হইলে বড়ো জঘন্য রূপ সামনে আসিয়া পড়ে। তাই বৌদি স্ত্রৈনর স্ত্রী হইয়া কাটাইয়া দিলেন। বাইরে আসিয়া আমি অমল কান্তি র নাম নিতে বড়ো গোলোযোগ। এই নাটকের আর এক পর্দা টাঙাইয়া দিলাম। বৌদির কথা না তুলিয়া বলিলাম আমার একান্ত ইচ্ছা। 


এখন পাড়ায় আমি স্ত্রৈনর স্ত্রী বলে পরিচিত। আড় চোখে ওনাকে দেখি আর ভাবি যদি এই শব্দটি অভিধানে না থাকিত🤔

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...