শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১

#নাম - প্রাকৃতিক লীলায় সমুদ্র। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ প্রভাতী আলোচনা-বাসর।
#বিষয় - *"মহা সমুদ্রে প্রতিনিয়ত ঢেউ উঠতে থাকে, কিন্তু শৃঙ্খলা মেনে। ঢেউ গুলো পাড় অবধি সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু কখনও কখনও সেই শৃঙ্খলা ভেঙে যায়, ঢেউ কোনো বাঁধ মানে না, সমুদ্র থেকে বেরিয়ে চলে আসে পাড়ে এবং তার চিহ্ন ছেড়ে যায়। ঝড়ের চিহ্ন।*"
  # নাম- *প্রাকৃতিক লীলা।*
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

   ব্রহ্মান্ডের এক অতি অনুর ভগ্নাংশের তস্য ভগ্নাংশ এই পৃথিবী। প্রাকৃতিক লীলার পুতুল খেলা ঘর পৃথিবী। শূণ্য নীরব ব্রহ্মের কাছে একমাত্র পৃথিবী এক বিশেষ অক্ষাংশে অবস্থানের জন্য ব্রহ্মান্ডের অদৃশ্য শক্তিই যেন পৃথিবীর নিয়ন্ত্রক। পঞ্চভূতের সম পরিমাণ বিন্যাসের জন্য পৃথিবী সচল। পৃথিবী প্রাণের জন্য পেয়েছে অনুকূল পরিবেশ। ব্রহ্মান্ড বা মহাকাশের মহাকর্ষ তরঙ্গই পৃথিবীকে বাঙময় করে রেখেছে। 
    ক্ষিতি,অপ,তেজ, মরুৎ ও ব্যোম পৃথিবীর উপর সাবলীল প্রভাব থেকেই যত কান্ডের সৃষ্টি হয়। এরাই সম্মিলিতভাবে সৃষ্টি করেছে পরিবেশ। এই পরিবেশের প্রধান সদস্য জলের ভূমিকার যে বৈশিষ্ট্য সেই প্রাণের স্রষ্টা। তাই জলের আরেক নাম জীবন। এই জল আজকের আলোচনার ভিত্তি।
    পৃথিবী সৃষ্টির সময় কোটি কোটি(কত কোটি বলা অসম্ভব,যাই বলা হোক অনুমান সাপেক্ষ) বছর আগে এরকম প্রাণ ছিল না। জলই তার জল চক্রের মাধ্যমে পৃথিবীকে ক্রম রূপান্তরিত করেছে প্রাণময়তায়। পৃথিবী একদিন আগুনের গোলা থেকে ঠান্ডা হতে হতে পুরোটাতেই জল এল। তার নাম প্যান্থালাসা। একদিন ভূআলোড়নে এই প্যান্থালাসা থেকে তৈরি হল টেথিস সাগরের উপর পামীর মালভূমি। আর অখণ্ড স্থলভূমি প্যানজিয়া। ভূআলোড়ণের একে  একে বিচ্ছিন্ন হতে হতে ক্রমে এক একটি মহাদেশের জন্ম দিল। জল নিজে তিনভাগ। আর একভাগ স্থল।
 মহাকর্ষ তরঙ্গের লীলা মহাকাশে,আর ভূপৃষ্ঠে জলের লীলা। এছাড়া আগুন,বায়ু,মাটি পরস্পর যে যার কর্তব্যে প্রাকৃতিক লীলা অহরহ অনুষ্ঠিত হতে লাগল। প্রাণ,জীবানু,ঝড়,বৃষ্টি,গ্যাসীয় উপাদান সব একে একে এই পৃথিবীর চলমান শক্তির নানারূপ। জলের দানে জীবন,আর জীবনের উপর আধিপত্য থাকবে না তা কি হয়! জলের শক্তি জলকণা। জলকণা পরস্পরের মধ্যে যত সংঘাত হবে তত কণা ভেঙে আলোড়ন তৈরী হয়। অর্থাৎ তরঙ্গ তৈরী হয়। মাঝ সমুদ্রে জলের তরঙ্গ নেই। তীরে এলে প্রবল তরঙ্গ তৈরী হয়,কারণ জল প্রবাহের ফলে। অনু থেকে পরমানু বিভাজন যেমন জলকণা পরস্পরের প্রবল সংঘাতে ঢেউ তৈরি হয় তেমনি। যেমন একটি প্রকান্ড পাথর পুকুরের মাঝখানে ফেললে ঢেউ তৈরী হয় কারণ জলকণা পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা লাগে বলে। সমুদ্রের জল প্রবাহের  ফলে তরঙ্গ তৈরি তেমন ব্যাপার। সমুদ্রের  জলে প্রবল আঘাত দুইভাবে হয়। বায়ুর আঘাতের জন্য(বায়ু কেন আঘাত করে সে বিষয় বায়ুগত), আর ভূআলোড়ণগত।
   সমুদ্রের জলে বায়ুমন্ডল প্রবল আঘাত করলে,প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি যাকে,তা মূলত মাঝ সমুদ্রে সৃষ্টি হয়। বেশিরভাগ সমুদ্রেই মিলিয়ে যায়। দু'চারটা স্থলভাগে সেই দুর্যোগ ঢুকে পড়ে। যার পরিণামকে স্থলভূমি বলে ঝড়। জল আলোড়ন বায়ুগত হলে ঝড়ে হয় যেমন তেমনি ভূ আলোড়ণে( ভূস্তরের প্লেটের একে অপরের দিকে সরে এলে) হয় সুনামী। জলের স্থিতিস্থাপকতায় প্রবল আলোড়নে এই সুনামী স্থলভাগকে ছেড়ে কথা বলে না। স্থলভাগে ভূআলোড়ণ হলে ভূমিকম্প। আর জলে হলে সুনামী।
  তখন ঢেউ আর শৃঙ্খলার ধার ধারে না। যেমন শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন বিশৃঙ্খল হলে যেমন লাগে জলের বিশৃঙ্খল অবস্থা প্রাকৃতিক তান্ডব হয়,যার প্রভাব জীবনকে নিতে হয়,কেননা জলের আরেক নাম জীবন। জল আমাদের জীবনের নির্ণায়ক শক্তি। কি রহস্য ভেদ করা গেল তো। বাকিটা নিজেরা ভাবো।
          **********
 # কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

৮টি মন্তব্য:

  1. খুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...