মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০

চ্যালেঞ্জ(অন্তিম পর্ব)

 


কলেজে হওয়া চ্যালেঞ্জ রক্ষা করতে সুমিত গণেশের পলাশবাড়ী সার্কিট হাউসে আসা,আসা থেকেই নানা অলৌকিক ঘটনার সামনে করে ওরা।পল্লবীর ডায়েরি পড়ে জানতে পারে ওর মায়ের নিখোঁজ আর বাবার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর যেটা আদৌ স্বাভাবিক নয় পল্লবীর লেখা অনুযায়ী।কিন্তু পল্লবীর কি হলো সুমিত লনে ঘুরতে ঘুরতে তিরপল ঢাকা দেওয়া গাড়িটার তিরপল ওটায়।তারপর------

     তিরপল সরাতেই আমি একটা ভয়ঙ্কর দৃশ্যের সামনে করলাম।একটা তীব্র বিশ্ৰী গন্ধে আমার শরীর ঝিম ঝিম করে উঠলো।গাড়ির সামনের কাঁচটা কেউ যেনো জোড়ে আঘাত করে ভেঙে দিয়েছে।ড্রাইভারের সিটে স্টিয়ারিং ধরে বসে আছে একটা নর কঙ্কাল তার গায়ের প্রায় সমস্ত মাংস গলে পচে পরে গেছে কিছুটা বোধহয় লেগে আছে যার জন্য সেখানে কিলবিল করছে সাদা সাদা পোকায়।কঙ্কালটার ঘাড় টা কেউ যেনো মটকে পিছন দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।ওটা পুরুষ না মহিলা বোঝা যাচ্ছে না।তবে একটা টি শার্টের কিছু কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে,নিচের পর্শনে জিন্স টাইপের কিছু পরা।আমি আর সে দৃশ্যের সামনে করতে পারিনা,তাড়াতাড়ি ওটা চাপা দিয়ে দিই।তাহলে কি এটা পল্লবী,শেষ মুহূর্তে বাঁচার আশায় গাড়ী নিয়ে পালাতে গিয়েছিল।কিন্তু কঙ্কাল তো একটা রজতের কি হলো।মনের ভয় তখন জেদে পরিণত হয়েছে, এ রহস্য আমায় খুঁজে বের করতেই হবে।আর আমার মন বলছে সব রহস্যের সমাধান ওই দোতলায় আছে।আমি দৌড়ে ঘরে ঢুকে চাবি নিয়ে সিঁড়ির পথ ধরি।বাইরে তখন আবার ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে।আমি সব উপেক্ষা করে ওপর তন্ন তন্ন করে খুঁজি মরচে পড়া তালা ঝুলছে প্রায় প্রতিটি ঘরে।সেরকম সন্দেহ জনক কিছু চোখে পড়ে না।আমি এবার ছাদের দিকে যাই।অবিরাম জলে ছাদের শ্যাওলা গুলো জেগে উঠেছে, আমি চারদিক ঘুরে দেখি হটাৎ ছাদের কোনায় একটা ঘর যার দরজাটা আধা খোলা ।আমি সেদিকে এগোতে থাকি।দরজার ওই টুকু ফাঁক দিয়ে ঘরের ভিতরে জমাট অন্ধকারে কিছুই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।একে দিনের শেষে মেঘলা আকাশের ফলে আলো তখন অনেক কম।আমি নিচে থেকে মোমবাতি আনি।ঘরের দরজার ভিতরে ঢুকতেই সেই বিশ্ৰী পচা গন্ধ,যেনো আমি কোনো পরিত্যাক্ত মর্গে ঢুকেছি। দেশলাই দিয়ে মোমবাতি জ্বালাতেই এক ভয়াবহ দৃশ্যের সামনে আমি করলাম।ঘরের কোনের দিকে একটা কঙ্কাল উবু হয়ে পরে আছে যার গায়ের জামা কাপড় তখনো অবিকৃত তার হাতে ধরা একটা কঙ্কালের খুলি।বাম দিকে ফিরতেই আমার রক্ত হিম হয়ে গেলো,একটা সিন্দুকের মতো বাক্সের ঢাকা সামান্য একটু খোলা তার ভিতরে গণেশ মাথা ঢুকিয়ে কি যেনো খুঁজছে।কিন্তু গণেশ তো আমায় চাবি দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, আমি সেই চাবি দিয়ে দরজা খুলে এখানে এসেছি।আমার মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে।ভয়চকিত কণ্ঠে আমি গনেশকে ডাকতে লাগলাম, গনেশ নিশ্চল হয়ে রয়েছে।আমি গনেশকে ডাকার জন্য যেই না ওর গায়ে হাত দিয়ে নাড়িয়েছি বাক্সের খোলা অংশটা দরাম করে বন্ধ হয়ে গেলো আর আমার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়লো গণেশের মুণ্ডুহীন দেহ।আমি ভয়ের চোটে হাতের মোমবাতি ফেলে সেই নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে দরজার দিকে দৌড়লাম।পাগলের মতো নিচের দিকে নামতে লাগলাম আমার পিছনে তখন অনেক পায়ের শব্দ আর বিকট অট্টহাসি,আমি আর একমুহূর্ত এখানে থাকতে চাইনা।পাগলের মতো লন পেরিয়ে বাইরের দরজার দিকে ছুটি দরজা খুলতেই দেখি আমার সামনে দাঁড়িয়ে গনেশ মৃদু হেঁসে বলে সুমিত তুই চ্যালেঞ্জ হেড়ে গেলি ভুতের ভয়ে পালাচ্ছিস,কিন্তু পালাতে তো আমরা শিখিনি,ঘরে চ আমরা এখানেই থাকবো।

       *      *      *    *   *

@copyright reserved by sougata

     অনেক চেষ্টা করে আমি জানলার ফাঁক দিয়ে। গনেশকে টেনে বেরকরলাম সাড়া গায়ে জল কাদা পানা লেগে একাকার। রাস্তা পার করে দেখি রজত আর পল্লবী গাড়ী নিয়ে আমাদের জন্য দাঁড়িয়ে।ওরা আমাদের দিকে দেখে খুব হাঁসতে লাগলো রজত তো বলেই বসলো কি রে সুমিত ভুতের চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করার কথাতেই কাপড় চোপর নোংরা করে ফেলেছিস।গনেশ হাত তুলে বিরক্ত হয়ে বলে একটা অজ জায়গায় থাকিস আবার বরো বরো কথা।আগে বাড়ি নিয়ে চ ফ্রেশ হয়ে বলবো ভুতের ভয়ে না কি জন্য জামাকাপড় নষ্ট হয়েছে।

 পল্লবী হেঁসে বলে ঠিক আছে ঠিক আছে চ আগে সার্কিট হাউসে চ।বাবা মাও এসেছেন তোদের নিতে গাড়িতে বসে আছেন। আমরা গাড়ির দিকে এগিয়ে যাই আমাদের সামনে একটা কিম্ভুত কিবাকার জন্তু,খানিকটা কুকুরের মতো কিন্তু কুকুর নয় থাবায় মানুষের মতো আঙ্গুল তবে চারটে।আমি পল্লবীকে জিজ্ঞাসা করি ওটা কি রে ? পল্লবী রহস্যময়ী হাঁসি হেঁসে বলে ওই তো সার্কিট হাউসে রক্ষক,ওরা নাম আলবার্ট ডিসুজা।

    গাড়িটা ওঁদের নিয়ে কুয়াশার ভিতর হারিয়ে যেতে থাকে।ততক্ষণে পুলিশ ,দমকল,লাশ তোলার গাড়ি সবাই পলাশ বাড়ি বাস স্টপেজের একটু আগে মরা দীঘির খাল ঘিরে ফেলেছে।এখন শুধু ক্রেনের অপেক্ষা যাত্রী বোঝাই বাসটা কালি দীঘি গ্রাস করেছে যে ভাবে পাঁকে গেঁথে গেছে যাত্রীদের আর বাঁচার আশা নেই।

           ------- সমাপ্ত-----

   

    


৩টি মন্তব্য:

  1. ভয়াবহতার সাথে সমাপ্তি। সত্যিই ভূতের ভয় পাবার মতো 👏🏻👏🏻👏🏻👏🏻👏🏻👏🏻👏🏻👏🏻

    উত্তরমুছুন
  2. দারুণ ।খুব ভালো লেগেছে পুরো টা। 💐💐

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...