পলাতক
শর্মিষ্ঠা ভট্ট
কলেজ ছেড়ে কুড়ি বছর। একই কলেজে তনুময় এখন প্রফেসর হয়েছে। আর ও সামান্যই....। তাই রিইউনিয়নে ইচ্ছা থাকলেও এ্যাভয়েড করতে পারল না। তাই যাবে। ভয়টাকে আর কত দিন বয়ে নিয়ে চলা যায়।
সেদিন ও স্পষ্ট দেখেছিল প্যান্ডেলের পেছন থেকে ওদের বেরিয়ে আসতে। তবু ওকেই সকলে আসার আগে পালাতে হল আর আজও পালাচ্ছে, নিজের থেকে। ট্যাক্সি🚖 ব্রেক মেরে কলেজের সামনে থামতেই চিন্তার সুত্র কেটে গেল। ভাড়া মিটিয়ে সেই গেটটার সামনে। চেনা একটা নিশ্বাস টানল বুকের ভেতর। চোখ বুঝতেই একুশ বাইশ বছরের ছ সাত ছেলেকে সিগারেট নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখছে। ইউনিয়নের ছেলে, বেশ চালাক চতুর। আর ও মফস্বল থেকে 🚶আসা তেলু ছেলে। মেয়েরা তখন তাই বলত।
পাঁচ ছটা ছেলে নিয়ে তাদের গ্রুপ তৈরি হল ফাস্ট ইয়ারে। ক্লাসেই থাকত মায়ের হাতের টিফিন খেত । প্রয়োজন না হলে নিজেদের জানান দিত না তেমন। কিন্তু রেজল্ট? চাপা থাকে না। কলেজ ওয়ালে প্রথম যখন তারই নাম। মেয়েরা ঘুরে দেখল । একটু সাজতে ভালো লাগল তার। একটু চুল উড়ল ,বুকের সার্টের দু তিন বোতাম নেই। সেকেন্ড ইয়ারে শেষ হতে হতে বদলে গেল। সেই গ্রুপের বন্ধু গুলো দেখা হলে সমিহ করে দূরে সয়ে যায়। সিগারেট হাতে কলেজ গেটের সেই ছ সাতটা ছেলে কখন তার এত কাছে হয়ে গেল ! এখানে দাঁড়িয়ে পুরো সিনেমা শেষ করবি? পিঠে কেউ যেন ধাক্কা মেরে কলেজে ঢুকিয়ে দিল পঞ্চাশ পেরোনো সৌরভকে।
কলেজ বেশ আরও বড়ো হয়ে গেছে। অনেক পরিবর্তন । তবু ক্যান্টিন আর ইউনিয়ন রুম একই যায়গায় একই রঙে বিদ্যমান। ভালো প্যান্ডেল হয়েছে স্টেজও। ফাংশন খাওয়া দাওয়া ভালো হল। বেশ কিছু চেনা মুখ পেয়ে গেল। কেউ টাক পড়া কেউ মোটা কেউ সাদা চুলের পাহাড়। মেয়েদের অনেকেই খাশা মাল্লু বরের ছয়ায় বিউটি পার্লার যাওয়ায় অঙ্গে চিকন এসেছে। তবে বয়স লোকাতে পারেনি। দুই একটা দুস্হ টাইপ সংসারে খাটা আন্টি টাইপও পুরোনো সহপাঠী পেল। কিন্তু তনুময় কোথায়? স্টেজের কাছে দেখল। গর্জন তর্জন করছে। সেই কুড়ি বছর আগে এ্যানুয়াল ফাঙ্কশন। আজও এগিয়ে গেল ওই দিকে। তরুণ একটি ছেলের হাত থেকে মাইকটা নিল। একটু অবাক সব ! !
ও শুরু করলো।........
চলে যাবেন না। আজ দাঁড়ান। তনুময় হয়ত চিনেছে ওকে, কারন অসংখ্য কোঁকড়ানো চুলে সাদা পেঁচানো চুল আর গাম্ভীর্য ছাড়া কিচ্ছু বদলায়নি। তনুময় মাইক বন্ধ করতে বলছে । কিন্তু সৌরভ বলে উঠল - আজ মাইক বন্ধ করিস না তনুময়। একটা গল্প বলি শুনুন আপনারা, ইউনিয়ন পয়সা খেয়ে স্টুডেন্ট ঢোকায়। আমার অসাধারণ রেজাল্ট ছিল এসব আমি আগে জানতাম না বুঝতাম না। কিন্তু হয়ত এই পাড়ায় থাকা কিছু ছেলে আগে থেকেই জানে পড়াশোনা ছাড়াও ডিগ্রি এবং রোজগার হয়। হয়ত তার কলেজ ঢোকার পথ এমন পিচ্ছিল ছিল। যাক সে সব। একটা মফস্বলের ছেলে একে একে কেমন ডুবে গেল তাই বলি।
তনুময় এর অনুগত ছাত্রদল ওর ইশারায় উসখুশ করছে একটু চেঁচিয়ে উঠল কেউ "বন্ধ করুন প্রোগ্রাম শেষ।" অন্য দল থেকে কেউ চিৎকার করল "চুপ, বলতে দাও। " সৌরভ বলে চলে - সেকেন্ড ইয়ারের শেষে ছেলেটা জেনে গেল কেমন করে মেয়েদের আকর্ষণ করতে হয় । কি করে লোকের নোটিশে এসে যাবে ইউনিয়নের চেয়ারে বসে, আমি আছি' টাইপের প্রদর্শন করে। ক্যান্টিনের টেবিল দখল। হৈ হট্টগোল ,একটু আঁতলামো। ক্যান্টিনে বসে পুরো কলেজে চোখ রাখা ।চা বা টিফিনের খাতায় জমে যাওয়া অর্ডার। বলতে গেলে ফুল টাইম ক্যান্টিন দখল । এ সব যে খোকলা কেবল চাকচিক্যময় এক ব্ল্যাক হোল বুঝতে অনেক দেরি করে ফেলল। ততক্ষনে এ্যাকশন হয়ে গেছে। ইউনিয়নের কিছু ছাত্র পেছনে পয়সা নিয়ে ছাত্র ঢোকায়। একটা নতুন ছাত্র ওটা ফাঁস করতে চেয়েছিল। ওর সখ ছিল বড়ো হয়ে সে সি বি আই তে আসবে। আর সেই নিয়ে পড়ছিল। আমার কাছে ম্যাথের জন্য আসত। তাই ভালো চিনতাম। এমন একটা ফাংশনের দিন, প্যান্ডেলের পেছনে সে খুন হল। প্যান্ডেলের পেছন থেকে আমি কিছু ছেলেকে বেরিয়ে আসতে দেখলাম। মাইকের জোর আওয়াজ থাকলেও আমি মৃত্যুর আর্তনাদ শুনে ছুটে গিয়ে দেখলাম... রক্তে লতপত আমার জুনিয়র। ওর বুকের ছুরি🔪 টেনে বের করলাম.... পিছনে কারো হাত আমার কাঁধে পিছনে ফিরে চিনলাম ইউনিয়নের এবং ক্লাসের আমার প্রিয় বন্ধুটি! বলল - পালা.... সবাই আসার আগে পালা। ততক্ষন ছাত্র ছাত্রী প্রফেসর স্টাফ আরও অনেকে ছুটে আসছে। আমি পালালাম ....... উত্তেজনায় অনেকটা বলে 🗣 নিশ্বাস নিয়ে দেখল তনুময়ের সিট ফাঁকা । সে কখন চলে গেছে। আবার ফিরে এলো নিজের কথায়.... হেসে বলল আমার নতুন উপন্যাস "কলেজ ক্যান্টিন" প্রমোট করলাম আপনাদের সামনে, কেমন লাগলো? তালি পড়ছে হুড়মুড়িয়ে। সৌরভের আনা সাংবাদিক টাইপের ছেলেটা দু একটা ছবি এবং অন্যদের রিভিউ নিচ্ছে। সৌরভ তখনও মাইকে -🎙 আমার ছদ্মনাম 'পলাতক' । এই নামে প্রকাশিত হবে। আমি চাই আমার কলেজের প্রথম কুড়িজন লাকি পাঠককে ফ্রিতে বইটা দেওয়া হবে। আপনাদের আগ্রহ এবং সাথ একান্ত কাম্য 🙏ধন্যবাদ।। বেশ মোটা অঙ্কের ডোনেশন দিয়ে বেরিয়ে পড়ল খ্যাতনামা কথাশিল্পী সৌরভ সরকার।
পথে আবার তার মনে পড়ে সেই ভঙ্কর দিনে শুধু পালানো আর পালানো। আর পরের দিন কাগজে তনুময়়ের । এটা কিিিন্তু চায়নি।
@copyright reserved for Sharmistha Bhatt

খুব সুন্দর লাগল। অসাধারণ। ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ দাদা🙏🙏
মুছুনবেশ সুন্দর লাগল। 👍👍👌👌💥💥💫💫❤❤🙏
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ দাদা 🙏🙏
মুছুনটানটান,চমৎকার কাহিনী।খুব ভাল লাগল।
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক ধন্যবাদ🙏💕🙏💕 💐💐
মুছুনপালানোর চমৎকার এক গল্প।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ🙏💕🙏💕🍫🍫🍫
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর। 💐💐
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক ধন্যবাদ🙏💕🙏💕
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো ।
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো 👌👌👌💐💐💐💐
উত্তরমুছুন