সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০

বিষয় : গল্প # নাম : মহিলা সাহিত্যিক # পর্ব ৩ # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

মহিলা সহিত্যিক # পর্ব ৩



 "সাঁচি"র জন্য অনুরাগের কাছে লেখা চাইতেই বলেছে বেশ কয়েক কপি পাঠিয়ে দিতে, অ্যাড এনে দেবে। এর আগেও অনুরাগ সাঁচি সাহিত্যসভা পিকনিকের প্ল্যাকার্ড বানিয়ে বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করেছিল। দশ বারো জনের দল সামনের বাগানে বসে ,  সামনে ওই লেখাটা রেখে দু একটা ছবি। ওই ছবিগুলো নাকি পয়সা কালো থেকে সাদা করে দেয়। কোম্পানি একটা মোটা অঙ্কের টাকা অডিটের সময় সাহিত্য খাতে ব্যবহৃত দেখিয়ে দেয়। রিমা সাহিত্যের পথে নাম ও টাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু লাভজনক তো নয়। মাঝে মাঝে ওরও মনে হয় সত্যিই হয়ত, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।

দিতি মুখার্জী নতুন আসা মেয়েটা কিন্তু অন্য রকম করে দেখে। ও বলে "এই দুনিয়ায় মানি ভাসছে, রিমাদি ।  তোমার এই লিটল ম্যাগাজিন যে কি কামাল দেখাতে পারে জানো না। " অনুরাগের কথা ভাবলেই দিতি এসে যায়। অনুরাগের এক্স গার্লফ্রেন্ড। এরা আজকাল রিলেশনে স্থির থাকতে পারে না। অবশ্য ভুতের বোঝার মতো বয়ে বেড়ানোর থেকে, এই ভালো। দিতি মুখার্জী লেখে ছপ্পড় ফেঁড়ে, বলেও এমন। একটু উগ্ৰ মনে হয় মেয়েটাকে। সব বিষয়ে জোর দিয়ে বলা, মিটিং মিছিলে এরা যায় না। তবে ছাত্র রাজনীতির বাইরে সচেতন নাগরিক কি করে থাকে! থাকা যায় না।হরতাল তাই প্রায় ধর্ষিতাদের জন্য ক্যান্ডেল যাত্রা করছে। নারীবাদী উগ্ৰতা ওর লেখায় আছে। একবার "আকাল"  থেকে ধাক্কা খেয়েছিল এই উগ্ৰ ও অকাঠ্য যুক্তির কারনে। ফ্লপ নায়িকা হয়, সাহিত্যিক ফ্লপ হয় না হয়ত। কিন্তু দিতির ছদ্মনাম নাম ফ্লপ লেডি রাইটার। রিসেন্ট "বোরখা" নামের ওর লেখা ভয়ের চটে অনেক পত্রিকা নিতে চায়নি। দিতি এখানেও পাঠিয়ে ছিল, অনেক ভেবে রিমা না বলেছে। তসলিমা সুরক্ষা পায় না, না বাবা অত সাহস তার নেই। কোন ঝামেলা চাই না। কি দরকার এই সব জিন্দাবাদ তুলে?" বোরখা " কে সিরিয়ালে আনবেই জিদে আছে দিতি। দেখা যাক অদৃশ্য অনেক চোখ ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ওর এক যায়গায় অতি গালাগালির জন্য ওয়ার্নিং পেয়েছে। দিতিকে সাহিত্যের দুনিয়ার ছোট পাত্রে কিছুতেই ভরে রাখা যায় না। বেশিরভাগই অভিযোজন ও সমঝোতা করে নিজেদের গেঁথে দিয়েছে। অনেকেই শিখে নিয়েছে মেকি হেসে " দাদা আপনার এবারের পর্ব অসাধারণ, আমার নীল রজনীগন্ধা একটু ঢুকিয়ে দেবেন প্লিজ। " শিখে গেছে এমন সব কথা বলতে। আঙুরের থোকায় থাকা শিখতে হয়।

নীলাঞ্জনা ফোন করেছিল রিমাকে , একটা এনজিও থেকে কিছু লেখা দেবে, নেবে কি না। পরের মাসের জন্য জানিয়েছে। আজকাল লেখক লেখিকার ব্যক্তিগত জীবনে বড়ো আগ্ৰহ মানুষের। সেই চাহিদা পুরন করতেই এবার থেকে লেখকের ছোটো পরিচয় " সাঁচি "তে রাখবে। সেটাই বলতে ওদিকে হাসির আওয়াজ। নীলাঞ্জনা হাসছে। হাসি থামিয়ে বলল
" রিমা, কি লিখবে ওরা। রেড লাইনের মেয়ে আমরা। রঞ্জনা শেলি গোপি। টাইটেল নেই ওদের। ওদের কাছে পরিচয় কি চাইছো? বয়স চিরযৌবনা লিখবে?"  আবার হাসে নীলাঞ্জনা। এদের পরিচয় জানলে হয় পাঠক পালাবে, নয়ত বিস্ময়কর কৌতূহল নিয়ে পড়বে এদের লেখা। না গো সহজ লেখক  হতে পারবে না হয়ত। তবু আমরা চেষ্টা করছি একবার যদি এদেও চান্স দেওয়া যায়। তোমার "সাঁচি" যদি এগিয়ে আসে। রিমা উত্তর দিল ভেবে বলবে। নীলাঞ্জনা মেয়েটা দারুণ কাজ করে, কে জানে লোক কি ইচ্ছা করে ওর বদনাম দেয়!!

রিমা কল্যাণীতে একটা লেখা পাঠিয়েছিল। কিছুদিন আগে ও দিকের এডিটরের আওয়াজ শোনা গেল। "একটু লেখাটা ঠিক করতে হবে। বানান এত ভুল!" বিস্মিত রিমা বলে "কোথায় বলুন তো?" এমন সব ভুল ধরল । রিমা একটু বিরক্ত হয়েই বলে ফেলল
" ভুল ধরা মানে পুরো লেখাই পরিবর্তন করা নয়। "
" আপনারা মেয়েছেলেরা ঠিক মতো ব্যবস্থিত পারেন না। তাই। তাছাড়া আমারা তো আগেই বলেছি নির্বাচন মন্ডলীর নির্নয়ের ওপর কথা বলা চলবে না।"
একটু নরম হয়ে আলাপচারিতার দিকে যায় রিমা, "আপনি এসব ছাড়া কি করেন? মানে চলে কি করে?"
"মুদি দোকান আর পাশেই স্টেশনারি, বৌ চালায়।সাথে কির্তন "
রিমা আর কথা বাড়াল না।
©copyright  reserved for Sharmistha Bhatt.
ক্রমশ:📄

৭টি মন্তব্য:

  1. বাহ্! অসাধারণ লাগল। ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা 👌👌👍👍❤🙏🙏

    উত্তরমুছুন
  2. অসাধারণ।এগুলো একদম সত্যিই ঘটে।

    উত্তরমুছুন
  3. খুব সুন্দর আগের পার্ট গুলো মিস হয়ে গেছে কিন্তু কভার করে নেবো👌👌👌👌

    উত্তরমুছুন
  4. খুব ভাল লাগছে।পরের পর্বের অপেক্ষায়।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...