সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০

#বিষয়- আধ্যাত্মিক পর্ব- ১৭ মৃদুল কুমার দাস।

#নাম-

আমি ঘর বেঁধেছি'।
         (আধ্যাত্মিক)
            পর্ব- ১৭
    স্কুলের চিত্র শিল্পী শিক্ষিকা এবেনিজার কুকের প্রস্তাবে ( লেডি ইসাবেল মার্গসনের বাড়িতে ভারতীয় সন্যাসী আসছেন) লেডি ইসাবেলের বাড়িতে যাওয়া নিয়ে মন থেকে খুব একটা সায় মার্গারেটের ছিল না। তবে ভারতীয় সন্যাসী শুনে যেন এক চিলতে আশা জাগল। সেই ছোট্টবেলার ভারতবর্ষের প্রতি একটা অন্তর্লীন টান থেকে এই আশা। গেলেই হয়। বহু ধর্মীয় নেতা তো দেখলেন, না হয় আর একজনকে দেখাই যাক। ইতিমধ্যে অবশ্য এমার্সন ও থরোর রচনা থেকে হিন্দুদর্শন সম্পর্কে তিনি প্রাথমিক ধারণা লাভ করেছেন। উইম্বলডনে এসে জর্জ হটিনের কাছ থেকে নিয়ে পড়েছিলেন 'লাইট অব এশিয়া'। বুদ্ধ ও তাঁর বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে মার্গারেটের যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। খ্রিস্টের পূর্বসুরি হিসেবে বুদ্ধের প্রতি একটা আলাদা জায়গা গড়ে উঠেছিল মনে র মধ্যে। তাই তিনি তাঁর স্কুলে ছাত্র ছাত্রী ও অভিভাবকদের ধর্মীয় গোঁড়ামিকে উপেক্ষা করে স্কুলের স্টুডিওতে ম্যান্টলপিসের উপর বুদ্ধের একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করেছিলেন।
তাই ভারতীয় সন্যাসীর প্রতি একেবারে উন্নাসিক থাকাও অসম্ভব ছিল। তার উপর সিসেম ক্লাবের কয়েকজন সদস্য, বিশেষ করে ই টি স্টার্ডি ও হেনরিয়েটা মূলার সবিস্তারে বর্ণনা করলেন ভারতীয় সন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের অলৌকিক ক্ষমতার কথা।
মার্গারেট মনোস্থির করলেন যাবেন। আর মর্টিমার রেজিন্যাল্ড মার্গসনের স্ত্রী লেডি ইসাবেলও তাঁর বিশেষ পরিচিত। সমবয়সী, উদারপন্থী, নারীবাদী ও ফ্রয়েবেলীয় শিক্ষা পদ্ধতির সযর্থক। একদম নিজস্ব ঘরোয়া পরিবেশ। তাই সভায় যোগ দিতে মন মোটামুটি সায় দিল। সেদিন রবিবার। এমনিতেই ব্যক্তিগত কাজের ব্যস্ততা থাকে। ও দিন যাবেন বলে সব কাজ আগে থেকে সেরে রাখলেন।
   ১৮৯৫ এর ১০ নভেম্বরে রবিবার অপরাহ্নে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে মার্গারেট পায়ে পায়ে সভাকক্ষে যাচ্ছিলেন, সেদিন কোনো বাড়তি উদ্দীপনা বা আবেগ ছিল না। চেলসির অদূরে বেলগ্রাভিয়ার সেন্ট জর্জেস রোডে  মার্গসনদের ৬৩ নং  বাড়িতে হাজির মার্গারেট। পনেরজন অভ্যাগত। সবার শেষে এসেছেন মার্গারেট। তাই একটু কুন্ঠা মনের মধ্যে। একেবারে পেছনে নির্লিপ্ত মনে বসলেন। সন্ন্যাসীর সৌম মূর্তিতে প্রথম দর্শনেই মন ভরে গেল। সব কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। এতটাই মনোযোগ সহকারে শুনেছেন যে প্রশ্ন অনেক ভেসে উঠল। সব প্রশ্নের উত্তর একে একে মীমাংসা নিয়ে খুব খুব সন্তুষ্ট। তারপর!
  পরের পর্বে।
      ( চলবে)
   @কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 


৫টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...