বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

#বিষয় : গল্প # নাম : মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব৪ # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 

মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব




রতনের বাড়ী বসেছে আড্ডাটা, একচুয়ারি সাহিত্যের আড্ডা না বলে সাহিত্যিকদের আড্ডা বলা ভালো। রতনের বৌও আছে। বসুমতীদি শিলচর থেকে এসেছেন, তাই চেনা শোনা অনেকে দেখা করতে এসেছে। অনেক পত্রিকা ও বই বিনিময় এই সময় হয়ে যায়। একটু কথাও হল। "কিন্নর" চালায় গৌতম আর ওর বৌ বিদিশা এরা বসুমতীদির চেনা। নিজেদের দ্বিতীয় পূজাবার্ষিকী বসুমতীদির হাতে তুলে দিতে এসেছে। রতনের একটা বই ওরা প্রমোট করতেও পারে। আসলে ওদের মধ্যে পরিচিতি বাড়ানোর আশায় বসুমতীদি ওদের বাড়ীতে এই ঘরোয়া আড্ডা ডেকেছেন। রতন নতুন এদের সামনে গ্লাস খোঁজে নি। জানে ইমেজ বলে একটা কথা এ সব লাইনে টিকে থাকতে গেলে মেইনটেন করতে হয়। রতনের বৌ টিচার, প্রচুর খাবার আনিয়েছে। আর আনাবেই বা না কেন? বসুমতীদি বয়সে শুধু নয়, বড়ো পুরস্কার প্রাপ্ত মহিলা সাহিত্যিক। এমন মানুষ ঘরে এসেছে কম কথা !


রাজনৈতিক বেশ কিছু আলোচনা হল কিছুক্ষন, তারপর বসুমতীদিই তুললেন কথাটা, " ভাষাগত বড়ো ঝামেলা রে রতন ।" " তোদের আবার কি প্রবলেম, তোরা শিলচর তো এমনিই উল্টো বলিস। " " কি যে বলিস না, সত্যিই রে আরবি উর্দু কথ্য মিলিয়ে বাঙলা আর ভাষা নেই রে। র আর ড় অকথ্য ব্যবহার। " রতন কিছু বলতে যাচ্ছিল, বিদিশা বলে উঠল " সহমত দিদি। একটু বেশিই কথ্য বেশি চলে এসে খিচুড়ি হয়ে যাচ্ছে। " এবার চোখের চশমার খাঁক দিয়ে মেয়েটাকে লক্ষ্য করে রতন। বেশ প্রানবন্ত মেয়ে তো! তখুনি দরাজ গলায় বলে ওঠে


" এতই অসাড় আমি,চুম্বনও বুঝিনি


মনে মনে দিয়েছিলে,তাও তো সে তো না বোঝার নয়-


ঘরে কতো লোক ছিল তাই স্বীকার করিনি।


ভয়, যদি ক্ষতি হয়


কি হয়? কি হতে পারতো?এ সবে কি কিছু এসে যায়?


চোখে চোখ পড়া মাত্র ছোঁয়া লাগলো চোখের পাতায়।


সেই তো যথেষ্ট স্বর্গ, সেই স্পর্শ ভাবি আজ "... জয় গোস্বামী, স্পর্শ।


বসুমতীদির পরের দিন রবীন্দ্রসদনে স্বরচিত গল্প পাঠ। সেই জন্যই তাঁর আসা। রাতে আর আসর বেশি এগোতে পারলো না।


এর মধ্যে হাওয়ায় ভেসে রূপসা ঢুকে পড়েছে এদের দলে। সাহিত্যে একটু অনুরাগ আছে, মেয়েটা সাহিত্য বেশ ভালো বোঝে। বসুমতীদির সাথে রতনের বৌ পরিচয় করিয়ে দিল। আসলে রূপসা রতনের বৌয়ের আবিষ্কার। রতনের বৌকে তমাদি বলে, এই বড়ো বড়ো মানুষের ভীড়ে নিজেকে খেই হারা নৌকার মতো লাগছিল। তবে হঠাৎ একটা কাজ সে পেয়ে গেল, বসুমতীদির নতুন বের হওয়া গল্পের রিভিউ লেখা। রূপসা লক্ষ্য করেছে রতন থেকে বসুমতীদি সবাই বেশ এক জায়গায় উদার। কোথাও যেন এরা মন খুলতে জানে। এই নতুন ধরনের মানুষের সংস্পর্শে তার একটাই কথা মনে হল হাতের পাঁচটা আঙুলের মতো সাহিত্যের সব দল সমান নয়, সব সাহিত্যিক এক নয়, তাই একই ছাঁচে ফেলে বিচার করা উচিৎ নয়। মন দিয়ে সে তার কাজটা শেষ করতে বদ্ধপরিকর।


বসুমতীদির কোলকাতা আসায় দীজুদা দেখা করে গেলেন। তাঁর লেখা পাঁচশো তিরানব্বুই  পাতার সমালোচনার বই দিয়ে গেলেন। দীজুদা সত্তরের মানুষ। পাক্কা কমিউনিস্ট। ছাত্র উত্তালের দিনে কত গল্প যে তাঁর জানা। বসুমতীদির খুব ইচ্ছা সব গল্প এক সাথে করে একটা সত্তরের সংকলন বের করেন। বসুমতীদির আলাদা চলন বলন , বিলের হংসিনীর মতো আলাদা পরিচয় নিয়ে সদা আনন্দে বিরাজমান। কাজ করে চলেন, প্রাপ্য সম্মানের জন্য উতলে পড়া হ্যাংলামো তাঁর নেই।

ডায়মন্ডহারবার থেকে একটা সম্মেলনে রতনকে ডেকেছে। রতনের গলা কিন্তু অসাধারণ। ওকে বহুরূপী নাকি ডাকে। যাইহোক রতনের সাথে ঋতুপর্ণাদের দল চলেছে। সোনায় সোহাগা বড়ো হোটেল দিচ্ছে থাকার জন্য। গোলাপ না পদ্ম কি একটা ভ্যালি স্পন্সর করছে শোনা যায়। এই চিটফান্ড নাম দেওয়া কোম্পানিগুলো কিন্তু এখানে ওখানে পয়সা বিলিয়ে ভালোই ট্যাক্স ফাঁকি দেয়, তাতে কি সাহিত্যের পয়সা আসবে কোথা থেকে? সত্যি বলতে পয়সা খরচ করতে মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে বেশিরভাগ আসা সাহিত্যের পরিমন্ডলের মানুষের পক্ষে একটু খিঁচ  হয়ে যায়। যাকে বলে হিচ্কি। রতন আর ঋতুপর্ণাকে নদীর ধারে দুদিন দেখা গেলে ভাবার কিছু নেই। বন্ধু তো ভাবাই যায়।
©copyright reserved for Sharmistha Bhatt.
ক্রমশঃ


৭টি মন্তব্য:

  1. বাহ! বেশ লাগল। ধন্যবাদ
    ।👍👍👌👌❤❤

    উত্তরমুছুন
  2. খুব ভালো লাগলো দিদি। আগেই পড়েছি।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...