বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

নাম: মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব ১ (গল্প) #লেখা : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

 

মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব


অফিসের কার কাছে যেন খবর পেয়েছিল লিটিল ম্যাগাজিনটার। তারপর একদিন শখ করে লেখাটা ডাকেই পাঠিয়ে দিল। বেশ সময় নিল উত্তর আসতে কিন্তু এক সোমবার অফিস থেকে ফিরে কলতলায় হাত পা ধুয়ে ফ্যান চালু করে নাইটি চড়িয়ে টিভি ঘরে বসেছে, মা চার সাথে খাম দিল। খাম খুলে এত খুশি যে হবে নিজেই ভাবেনি। সতেরো লাইনের কবিতা খানা ছেপে এসেছে এবং এডিটরের প্রসংশা পত্র। সেই শুরু।

মা আর নেই । বোনের মেয়েটা তার কাছে থেকেই কলেজে যায়। চলে যাচ্ছে। তবু মাঝে মাঝে একা লাগে। তবে ওর সাহিত্যিক হবার ইচ্ছা আরও বেড়ে সীমা ছাড়িয়ে চলেছে। ছোট ছোট কত লিটল ম্যাগাজিনে যে সে কবিতা পাঠায়। কত যায়গায় গোঁতা মেরে ঢুকে পড়ে সদস্য মন্ডলীর মাঝে। এইতো সন্ধ্যায় এক ম্যাগাজিন বার্ষিকী সাংস্কৃতিক ফাংশন রেখেছে, ওকাকুরায়। যাবেই, যেতে হবেই। যদিও জানে সহ সম্পাদিকা নীলাঞ্জনা ওকে পছন্দ করে না। তাতে কি! ছেড়ে দিলেই এই সাহিত্য ঘূর্ণন থেকে ছিটকে যাবে বাছা। তার থেকে বিউটি পার্লার ঘুরে এসে তসরটা গায়ে চড়িয়ে চারটের পর বেরিয়ে যাবে। সম্পাদক তরুণ আবার দিদি বলে ,আগে না গেলে ওর চোখে থাকা যাবে না। দেখা যাক কিছু পুরস্কার তো তুলে আনবেই।

" কি গো মাসি ফিরবে কটায় ? আমি কিন্তু এগারো হলে শুয়ে পড়বো চাবি নিয়ে যাও । "
"তুই ও চল না, তোর ড্যান্সের একটা পোগ্রাম করিয়ে দেবোই দেবো । "
" সে কি মাসি! ওদের নির্দিষ্ট সিডিউল নেই? "
" আহা বন্যা, তোর মাসির বাঁ হাতের চুটকিতে অনেক কিছু হয়। " একটা কটাক্ষ ছুঁড়ে বলল "তৈরি হয়ে নে আর লোপামুদ্রার ক্যাসেটটা নিয়ে নিস। "
মাসি বোনঝি পৌঁছেছে ওকাকুরা । তরুনের সঙ্গে পরিচয় ছাড়া অনুরোধ করল নাচের। তরুণ বিনয়ের সাথে নীলাঞ্জনার দিকে এগিয়ে দিল। ও ভালো ভাবেই জানে শক্ত যায়গা, অশান্তি হয় হোক আজ নিজের জেদ পুরো করবেই। ওকি ফেলনা! বন্যার কাছে মানসম্মান নেই!

মেকাপ রুমের সামনে তরুণকে ফিসফিস করে তড়পায় নীলাঞ্জনা " কোন আক্কেলে আমার কাছে পাঠালেন? "
"একটু সামলে নে বাবা। "
" সাহিত্যের স জানে না, আপনার প্রশ্রয়ে কিন্তু ...."
" পরে গালি দিস, এখন একটু সামলে নে, কবিতা বের হয় বলে মার্কেটিংটা নিজের গরজে করে, সেটাও তো দেখতে হবে। তুই সব পারিস, এবার উদ্ধার কর মা তারা"।
"কথায় না আপনি পাথর গলিয়ে দেবেন " হেসে এগিয়ে যায় নীলাঞ্জনা মেকাপ রুমের দিকে।
একটু গম্ভীর হয়ে বলে " দেখুন কাজলদি , আপনার বোনঝি, কি যেন নাম.... "
কাজল ধরিয়ে দেয় " বন্যা, মনবন্যা রায়"।
"সবার শেষে, কতক্ষনের ক্যাসেট? "
" ওই তো লোপামুদ্রা, একটু আগে যদি দাও, আমাদের আবার সেই মধ্যমগ্রাম বিরাটির পথ। "
"সরি দিদি হবে না "। খাতায় টাইম লিখে ওখান থেকে সরে পড়ে নীলাঞ্জনা, ইচ্ছা করে চেপে দিয়েছে। দরকার ভদ্রমহিলা সার্থপর শুধু নয়, বড়ো গায়ে পড়া কবি। নীলাঞ্জনা এমন ভাবে। যেখানে পায় মাথাটা ঢুকিয়ে দেয়। তবে অর্থ একটা বিষয়, এটা ও মাঝে সাঝে জোগাড় করে, তাই। নীলাঞ্জনা স্মার্ট শৈল্পিক, অনেক সময় ভাবে এসব থেকে মুক্তি নেবে। হয়ে ওঠে না, সাহিত্য চর্চা , ফেম পাবার বাসনা, দল মানে একটা কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত রাখার ইচ্ছা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে না। পারে না ভক্তদের তালির শব্দ থেকে দূরে থাকতে।📙ক্রমশঃ

©copyright reserved for Sharmistha Bhatt

৮টি মন্তব্য:

  1. দারুণ! দারুণ! ধন্যবাদ। নমস্কার 👌👌👍👍❤❤🙏🙏

    উত্তরমুছুন
  2. দারুণ হয়েছে দিদি। আগে দেখা যাক কি হয়।

    উত্তরমুছুন
  3. দারুন হয়েছে দি।তবে এই তালির শব্দ কিন্তু কাউকে একবার টানলে তার মুক্তি নেই।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...