সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

# নাম- গদ্যভাষা- ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

# বিষয় - গদ্যভাষা।
  # নাম - গদ্যভাষার সৌন্দর্য।
     ✍️- মৃদুল কুমার দাস।
   ভাষা প্রকাশের মাধ্যম। এই ভাষার দুটি ধারা - সাহিত্যিক ও কথ্য ভাষা। আর সাহিত্যের আদি ভাষা কাব্য ভাষা। কাব্য রচিত হতো এক রকমের অলঙ্কার মন্ডিত, আবার অলঙ্কার ছাড়াও সুন্দর ছিল কাব্য ভাষা। নতুবা কাব্যই হতো না। আর ব্যবহারিক জীবনের ভাব বিনিময়ের ভাষা ছিল আলাদা। তাই কথ্য ভাষা।    আর গদ্যভাষা এসেছে অনেক পরে। বাংলা সাহিত্যে গদ্যভাষা অষ্টাদশ শতাব্দী হতে। শুরু দলিল দস্তাবেজে যার নিদর্শন আছে। তার আগে গোটা মধ্যযুগ জুড়ে পদ্য ভাষায় রচিত কাব্য কবিতা - গীতিকাব্য, কাহিনীকাব্য,নাট্যকাব্য প্রভৃতি। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকৃত গদ্য ভাষার জন্ম হয়। 
 উইলিয়াম ক্যারির 'কথোপকথন' গ্রন্থে গদ্য ভাষা একেবারে প্রান্তিক ভাষা হয়ে সাহিত্যে উঠে এসেছে। সেই গদ্যের শৈলী দেখে সকলের সন্দেহ,একজন সাহেব হয়ে এমন ভাষা লিখলেন কেমন করে। অনেকেই অনুমান করেন এদেশের কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়ে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। যেমন - সতীনের ঘর করা নিয়ে প্রতিবেশী দুই স্ত্রীলোকের কথোপকথন -
 "প্রথমা - ওলো,তোর ভাতার কারে কেমন ভালবাসে বল শুনি।"
 দ্বিতীয়া - আহা, 'তাহার কথা কহ কেন? এখন আর আমাদের কি আদর আছ? নতুনের দিকে মন ব্যতিরেকে পরানোর দিকে কে চাহে?'....." এই গদ্য ভাষার পরে এলো রামমোহন রায়ের শাস্ত্র বিচারের আরবী,ফার্সি মেশা বেশ গুরুগম্ভীর ভাষা, বিদ্যাসাগরকে বলা হল বাংলা গদ্যের জনক। সেই সঙ্গে আলালী ভাষা ( প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালের ঘরের দুলাল'), বঙ্কিমচন্দ্র যার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। পাশাপাশি হুতোমের ভাষা ( কালীপ্রসন্ন সিংহের 'হুতোম প্যাঁচার নক্সা')। বঙ্কিমচন্দ্রের পন্ডিতি ভাষা ,তৎসহ সমসাময়িক পত্রপত্রিকা ( প্রতিনিধি স্থানীয় সম্বাদ প্রভাকর - ঈশ্বর গুপ্ত, তত্ত্ববোধিনী - অক্ষয় কুমার দত্ত,বঙ্গদর্শন - বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,প্রবাসী,ভারতী, শনিবারের চিঠি, দেশ, সহ অধুনা দৈনিক পত্রিকার নেতৃস্থানীয় আনন্দবাজার বাংলা গদ্য ভাষা-  আড়াইশ' বছরের বাংলা ভাষা চর্চার প্রগতিশীল  ইতিহাসে বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক ভাষার মর্যাদা পেয়েছে।
  গদ্য ভাষা কত সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হবে তাই নিয়ে আমাদের এখন অহরহ চিন্তা। বর্তমানে বাংলা গদ্যভাষার দুটি ধারা বেশ স্পষ্ট বোঝা যায়। এপার ও ওপার বাংলা ভাষা। ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার প্রাদেশিক অপরাপর ভাষা সরাসরি এসে গেছে। আর বাংলাদেশ তার সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থেকে তার গদ্য ভাষার সুরে একটু যেন সুরগত পার্থক্য লক্ষ্যে পড়ে। এ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থেকে হওয়া স্বাভাবিক।
  গদ্য ভাষা এখন দুটি ধারা - একটি ব্যবহারিক জীবনের সংবাদ পত্রের ভাষা। ব্যবহারিক জীবনের রুচিশীলতা তা ভাষাদেহ থেকে নির্গত হয়, তাই রিপোর্টিং ভাষা। সেখানে চলিত গদ্যের ঢং বিদ্যমান। মুখের যত সাবলীল গদ্যের চালও তত সুন্দর ও সাবলীল। এই রিপোর্টিং ভাষা মানে চলিত গদ্যে বিবর্তনের ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করে। 
 আর সাহিত্যের গদ্য চিরন্তন হয়ে মূদ্রিত হয় বলে সেই গদ্যের সংস্কার হওয়া সম্ভব নয়। বঙ্কিমী গদ্যের সাথে রবীন্দ্রনাথের গদ্যের স্বাতন্ত্র চিরন্তন। শরৎচন্দ্রের গদ্যভাষার পার্থক্য থাকবেই। সেই একজন সাহিত্যিকের ম্যান ইজ দা স্টাইল হিমসেল্ফ।
 সুন্দর গদ্য মানে ছোট ছোট বাক্য। সহজ ভাষা। চলিত গদ্য ভাষা। লোক মুখের ভাষা। তৎসম গুরুগম্ভীরতা থেকে মুক্ত। ব্যাকরণের বাঁধন সুন্দর হতে হবে। জনজীবনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকবে। মানুষ ও প্রকৃতি যেমন যেমন তেমনি তার গদ্য ভাষা হবে। ত্রয়ী বন্দ্যোপাধ্যায়ের গদ্যভাষার সৌষ্ঠব সামনে রাখলে বিষয়টা স্পষ্ট হবে। একজন প্রকৃতির গদ্যভাষা,একজন আঞ্চলিক গদ্যভাষা,আর আরেক জন সমাজতন্ত্রে দীক্ষিত ভাষা - গদ্য ভাষা সময়ের হাত ধরে বিবর্তনের পথে। গদ্যভাষা সুন্দর বলে সাহিত্য সুন্দর। এই সৌন্দর্যের কোনো মাপকাঠি হয় না।
ধন্যবাদ। নমস্কার।🙏🙏   
@ copyright reserved for Mridul Kumar Das. 


Mridul Kumar Das

৩টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...