শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

#বিষয় - আধ্যাত্মিক- (পর্ব- ৮)- মৃদুল কুমার দাস

# নাম- 'যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি'
              (পর্ব- ৮)

  ✍- মৃদুল কুমার দাস। 

ব্রাহ্মসমাজের উপাসনা সঙ্গীত নরেন্দ্রনাথের মনে ঈশ্বরে বিশ্বাস ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে। সমানতালে যুক্তি এসে ভিড় করে, ধ্যানে যদি ঈশ্বর-উপলব্ধি হয় তবে তাঁর দেখা পাবেনই। ব্রাহ্মসমাজের দৌড় ঐ ধ্যান পর্যন্ত। ঈশ্বরের সাক্ষাৎ দর্শন নিয়ে নরেন্দ্রনাথকে ততটা আশ্বস্ত করতে পারছে না।
          ইতিমধ্যে ব্রাহ্মসমাজ ত্রিধা বিভক্ত। আদি ব্রাহ্মসমাজ (দেবেন্দ্রনাথ যার নেতৃত্বে) থেকে বেরিয়ে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ গড়লেন শিবনাথ শাস্ত্রী ও বিজয় গোস্বামী। আর নববিধান সমাজ গড়লেন কেশব চন্দ্র সেন। এই ত্রিধারায় নরেন্দ্রনাথের ছিল স্বচ্ছন্দ যাতায়াত। তবে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের প্রতি একটু টান বেশি ছিল।
      ঈশ্বরের সন্ধান দিতে ব্রাহ্মসমাজের প্রতি আস্থা ক্রমেই ফিকে হতে লাগলো। দিব্যি নিজের মতো করে আছেন। আর আছে তাঁর দিদিমা রঘুমণি বসুর ছাদের ছোট্ট কুঠরি,যার নাম নিজেই রেখেছেন 'টঙ্'। সেখানেই যেন জগত সংসার ঠেকেছে। পড়াশোনা, গান-বাজনা চলে। একদিনের ঘটনা। সবে সন্ধ্যা। পিদিমে তেল গেছে ফুরিয়ে। চোরাকুঠরি থেকে সটান মায়ের কাছে। মুখোমুখি সুরেন মিত্তির। নরেন প্রণাম করলেন।
       মিত্তির মশায় নরেনকে পাকড়ে, মহা সমস্যার কথা বললেন। খুব অনুরোধ এ যাত্রায় বিপদ থেকে নরেন উদ্ধার না করলে কেই বা করবে। নরেন ব্যাপারটি জানলেন, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ স্বয়ং তাঁর বাড়িতে এসেছেন। তাঁকে গান শোনাতে হবে। তিনি গান শুনতে চান। তাই মিত্তির ম'শায়ের আগমনের হেতু।
         নরেন তো পড়লেন মহা সমস্যায়। সামনে পরীক্ষা। এখন সময় নষ্ট করার মত একটুও ফুরসত নেই। আবার মিত্তির মশায় বলে কথা। হঠাৎ মনে পড়ল অধ্যাপক হেস্টির কথা। দক্ষিনেশ্বরের ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শুধু নিরাকারকে উপলব্ধি করেন না, তিনি দেখাতেও পারেন।
         মুহূর্তে নরেনের মাথায় খেলে গেল, এইতো সুযোগ গান শোনাতে যাওয়া ওতো নিমিত্ত মাত্র। ঈশ্বর আছেন কিনা কি বলেন দেখা যাক। তিনি দেখেছেন কিনা ,এর উত্তর তাঁর কাছে পেতেই হবে।
    মিত্র মশায়ের বাড়িতে আয়োজন বেশ ভালই। অনেক ভক্তজনের ভিড়। ঠাকুর মধ্যমণি। ঠাকুর দেখছেন নরেনকে, নরেন ঠাকুরকে। নরেন কি দেখলেন, ততোধিক ঠাকুর নরেনের মধ্যে কি দেখলেন তাই হল চিরকালের বিস্ময়। নরেন আঠারো বছরের, ঠাকুর পঁয়তাল্লিশ। ঠাকুর আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না। কিন্তু এত লোকের সামনে  ঠাকুর নিজেকে সামলে নিলেন। ঠাকুর এক লহমায় চিনেছেন। এইতো সেই সপ্ত ঋষির এক ঋষি। প্রথম সাক্ষাতে সকলের সামনে সৌজন্য-খাতির ,আর চোখে জল। এরই অপেক্ষায় ঠাকুর।
        আর ঠাকুরকে নরেন দেখলেন  এক সাধারণ বেশে।সাধারণের মত। এই প্রথম ঠাকুরকে দেখা,আর প্রথম দুটি ভজন দিয়ে পরবর্তী গুরু-শিষ্যের সূচনা রচিত হল। তার সংবাদ ঠাকুরের কাছে আছে, আর কেউ ঘুনাক্ষরে টের পেল না। ঠাকুর যাওয়ার সময় শুধু বলে গেলেন 'কথা দে দক্ষিনেশ্বরে আমার কাছে আসবি।' নরেন অকপটে কথা দিলেন যাবেন।
                 (চলবে)

  @copyright reserved for Mridul Kumar Das. 


৬টি মন্তব্য:

  1. 🙏🙏তুমি নির্মল করো.. আজকের পর্বটি পড়ে এই গানটি মনে এলো।। অপূর্ব পথে চলছে লেখা।

    উত্তরমুছুন
  2. ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। ❤❤💯💯🙏🙏

    উত্তরমুছুন
  3. স্বামী বিবেকানন্দ কে নিয়ে অনেক লেখা পড়েছি। আরও জানতে ভালো লাগছে।
    অপূর্ব সুন্দর 🙏

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...