বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

#বিষয়- বেদান্ত আলোচ- সুদেষ্ণা দত্ত।

   # নাম - 'বেদান্ত'
       ✍ - সুদেষ্ণা দত্ত  
অগস্ত্য’র কাছে পাঁচ শিষ্য বসে পাঠ গ্রহণ করছে।তিনি শিষ্যদের বলেন, আজ আমি তোমাদের বৈদিক সাহিত্য নিয়ে  বা বলা ভাল উপনিষদ নিয়ে কিছু বলব।তোমরা এতদিনে জেনে গিয়েছ যে ঋগ্বেদ চার ভাগে বিভক্ত।শিষ্যরাও সাথে সাথে উত্তর দেয়—ঋক,সাম,যজু ও অথর্ব এই চারটি নিয়েই হিন্দুদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘বেদ’ রচিত গুরুদেব।গুরুদেব সন্তুষ্ট হয়ে বলেন,এই চার বেদ ও ব্রাহ্মণ,আরণ্যক,উপনিষদ ও বেদাঙ্গ নিয়েই প্রায় কয়েকশো বছর ধরে গড়ে উঠেছিল বৈদিক সাহিত্য।
               প্রত্যেক বেদের চারটি ভাগ—সংহিতা,ব্রাহ্মণ,আরণ্যক,উপনিষদ।আরণ্যকের সারাংশের উপর ভিত্তি করে যে দার্শনিক চিন্তার উদ্ভব হয়েছিল,তা উপনিষদ নামে পরিচিত।উপনিষদ হল বেদের শেষ ভাগ,তাই একে বেদান্ত বলা হয়।উপ ও নি-পূর্বক সদ ধাতু থেকে উপনিষদ পদ নিষ্পন্ন।এর অর্থ নিকটে বসা।উপনিষদ গুরুমুখী বিদ্যা।শিষ্যকে গুরুর কাছে বসে এটি অধ্যয়ন করতে হয়।উপনিষদের সংখ্যা অনেক হলেও মূলতঃ ১৪ টি প্রধান।এদের মধ্যে ঐতরেয়,কৌষীতকি ঋগ্বেদের,বৃহদারণ্য ও ঈশ শুক্ল যজুর্বেদের, তৈত্তিরীয়,কঠ, মৈত্রায়ণী,মহানারায়ণীয় ও শেতাশ্বতর কৃষ্ণ যজুর্বেদের,ছান্দোগ্য ও কেন সামবেদের এবং মুন্ডক, প্রশ্ন ও মান্ডুক্য অথর্ব বেদের সঙ্গে সংযুক্ত।
            উপনিষদ বেদের জ্ঞানকান্ড।জীবাত্মা ও পরমাত্মাকে কেন্দ্র করেই উপনিষদের মূল সুর ধ্বনিত হয়েছে।জীবের মধ্যে যে সত্তা তাই জীবাত্মা।বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সব কিছুর মধ্যে যা ছড়িয়ে আছে তার নাম ব্রহ্ম,পরব্রহ্ম,পরমাত্মা।ঈশ্বরই জগৎ আবার জগৎ ই ঈশ্বর।নিজে প্রচ্ছন্ন থেকে সেই মহাশক্তি বিশ্বব্রহ্মান্ডকে নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি।সব জীবের মধ্যেই আছেন পরমাত্মা।সে কারণে জীব-ই সেই ব্রহ্ম।তোমরাও সেই ,আমিও সেই।জীবে জীবে কোন ভেদ নেই।সব জীবের মধ্যেই আত্মসত্তা উপলব্ধি করতে হবে—এটাই উপনিষদের মূল বাণী।এটি আসে দৈহিক শুচিতা ও চিত্ত শুদ্ধির মাধ্যমে।তর্ক,অধ্যয়ন বা বুদ্ধি দ্বারা একে অনুভব করা যায় না।এটি আয়ত্ত করতে হয় মনের গভীর অনুভব বা উপলব্ধি থেকে।শিষ্যরা এত গভীর দার্শনিক চিন্তায় কিছুটা যে বিভ্রান্ত তা গুরুদেব বুঝতে পারেন।তিনি তখন বলেন, আজ এই পর্যন্ত থাক।তোমাদের মনে এখন অনেক সংশয়,অনেক প্রশ্ন,তাই তোমরা আজ যা বললাম সেই বিষয় আগে উপলব্ধি কর, তারপর অন্য বিষয় আলোচনা করব।
একটু গল্পচ্ছলে লেখার চেষ্টা করলাম।

তথ্য সূত্র—ভারত ইতিহাসের সন্ধানে।
ছবি সৌজন্য:গুগুল
©কপিরাইট রিজার্ভ ফর সুদেষ্ণা দত্ত

১০টি মন্তব্য:

  1. অসাধারন, খুব ভালো লাগলো সু 😍
    👌

    উত্তরমুছুন
  2. দারুণ! দারুণ! অসাধারণ! ধন্যবাদ। 👍👍👌👌💫💫💥💥💯💯💯💅💅💅

    উত্তরমুছুন
  3. তথ্য এ ভারাক্রান্ত নয়...তথ্য সমৃদ্ধ লেখা

    উত্তরমুছুন
  4. বেশ ভালো । কিছু জানতে পারলাম ।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...